• রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

১৩ ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ রাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে

প্রকাশ:  ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪:০২ | আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪:০৪
রাবি প্রতিনিধি
অভিযুক্ত শিক্ষক আমিরুল মোমেনীন চৌধুরী

১৩ শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির ও উত্যক্তের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক আমিরুল মোমেনীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে। ওই শিক্ষক বিভিন্ন ধরনের কুরুচিপূর্ণ কথা বলেন বলে জানান শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ সেলে লিখিতভাবে এই অভিযোগ জমা দেন।

অভিযোগপত্র জমাদানে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেলের সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু।

তিনি বলেন, চারুকলার ১৩ শিক্ষার্থী গ্রাফিক ডিজাইন, কারুশিল্প ও শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আমিরুল মোমেনীন চৌধুরীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।

অভিযোগপত্রে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ছাত্রীরা উল্লেখ করেন, কারণে-অকারণে অধ্যাপক আমিরুল মোমেনীন চৌধুরী বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ভাষায় মন্তব্য করেন। অফিসে ডেকে বসিয়ে রাখেন। নানারকম ইঙ্গিতপূর্ণ ও অশালীন কথাবার্তা বলেন। অন্য নারী শিক্ষকদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন। এছাড়াও বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি ও মানসিকভাবে উত্যক্ত করেন। এতে তারা মানসিকভাবে অনেক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পড়াশুনা এবং অন্য কোনো কাজেই মনযোগ দিতে পারছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আমিরুল মোমেনীন চৌধুরী বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছি। এখন যারা শিক্ষার্থী আছেন তারা সবাই আমার নাতনি বয়সের। দেখা যাচ্ছে আমি হাসি-খুশিভাবে কথা বলেছি। কিন্তু ওরা অন্যভাবে নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সামনে ডিন সিন্ডিকেট নির্বাচন রয়েছে। সেক্ষেত্রে আমি সিনিয়র অধ্যাপক হিসেবে প্রার্থী হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গা অনেকগুলো ম্যুরালে কাজ করছি। এতে বিভাগের অনেক শিক্ষক ক্ষুদ্ধ হয়ে নাতি বয়স্ক ছাত্রীদের মাধ্যমে অভিযোগ দিয়েছে, যাতে আমাকে প্রার্থী না করা হয়।

অভিযুক্ত আমিরুল মোমেনীন চৌধুরী বলেন, 'আমি হাসি-খুশিভাবে কথা বলেছি। কিন্তু ওরা অন্যভাবে নিয়েছে।

এর আগেও অধ্যাপক আমিরুলের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা এবং অনুষদের ডিন বরাবর মৌখিক অভিযোগ করেন বলে বিভাগ সূত্রে জানা যায়।

এ বিষয়ে চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সিদ্ধার্থ শঙ্কর তালুকদার বলেন, সম্প্রতি কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাকে জানায় যে, অধ্যাপক আমিরুল তাদেরকে হয়রানি করছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা আমাকে বিস্তারিত কিছু বলেনি। যৌন হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে থাকলে আমি মনে করি শিক্ষার্থীরা সঠিক জায়গায় অভিযোগ করেছে।সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

যৌন হয়রানি,উত্যক্ত,শিক্ষার্থী,শিক্ষক,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close