• শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

অধ্যক্ষের মেয়েকে বিয়ে না করায় শিক্ষককে হয়রানি

প্রকাশ:  ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:০৫
রাবি প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের মেয়েকে বিয়ে না করায় একই কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক দুরুল হুদাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অধ্যক্ষের বড় মেয়েকে বিয়ে না করায় ছোট মেয়েকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজশাহীর নগরীর আলুপট্টি মোড়ে একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে দুরুল হুদা এ অভিযোগ করেন।

এ প্রসঙ্গে মতিহার থানার ওসি মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘মতিহার থানায় ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অধ্যক্ষের স্ত্রী অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তার মেয়েকে যৌন হয়রানির অভিযোগ করা হয়েছে। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। দুরুল হুদাকে গ্রেফতারও করা হয়। বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, স্কুলে যোগদানের কিছুদিন পর অধ্যক্ষ শফিউল আলম তার ছোট মেয়েকে পড়াতে বলেন। তিনি অপারগতা প্রকাশ করার পর অধ্যক্ষের স্ত্রী অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু ফোন করে পড়াতে বললে তিনি রাজি হন। কিন্তু, কিছু দিন পর অধ্যক্ষ তার নিজের বড় মেয়েকে বিয়ের জন্য দুরুল হুদাকে প্রস্তাব দেন। তিনি রাজি না হয়ে অন্যত্র বিয়ে করেন। এরপর থেকে স্কুলের অধ্যক্ষ ও তার স্ত্রী লায়লা আরজুমান বানু তাকে চাকরি ছেড়ে দিতে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকে। সবশেষ অধ্যক্ষ ও তার স্ত্রী তাদের ছোট মেয়েকে যৌন হয়রানির নাটক সাজিয়ে তার নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

দুরুল হুদা বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ থেকে ২০১২ সালের মাস্টার্স পরীক্ষায় সিজিপিএ ৪ পেয়ে মেধাতালিকায় প্রথম হই। পরে আমি বিভাগে শিক্ষক পদে আবেদন করি। অধ্যক্ষের মেয়েকে বিয়ে না করে অন্যত্র বিয়ে করায় আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। যেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে ভাইভা দিতে না পারি।’

প্রভাষক দুরুল হুদা বলেন, ‘‘২০১৯ সালের ১২ থেকে ১৭ অক্টোবর আমার টিচার ট্রেনিং চলছিল। ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অধ্যক্ষের স্ত্রী ফোন করে মেয়ের বিজ্ঞান বিষয়ের একটা অধ্যায়ে সমস্যা আছে বলে আমাকে তার বাসায় ডাকেন। পড়ানো শেষে আমি চলে আসি। রাত পৌনে ১০টার দিকে অধ্যক্ষ নিজে ফোন করে আমাকে তার বাসায় যেতে বলেন। আমি তার বাসায় গেলে অধ্যক্ষ আমাকে স্কুলের চাকরি ছাড়তে বলেন। আমি কারণ জানতে চাইলে তিনি (অধ্যক্ষ) বলেন, ‘তুমি আজ পড়াতে এসে আমার মেয়ের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছো। আমার মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং অস্বাভাবিক আচরণ করছে। তোমাকে সাতদিন সময় দেওয়া হল এরমধ্যে তুমি স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়ে গ্রামে গিয়ে হালচাষ করো।’ বিষয়টি আমি স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে অবহিত করি।’’

অবহিত করণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক ও রাবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি আবুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে অবহিত করেছে। তবে কোন দিন অবহিত করেছে, কাগজপত্র দেখা ছাড়া বলতে পারবো না, আমি এখন বাইরে আছি।’

দুরুল হুদা আরও বলেন, ‘তাকে গ্রেফতারের পর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেন ওই স্কুলের শিক্ষক জান্নাতুন নাহার, ফারজানা মুনিরা আক্তার কেয়া ও শ্রী হরেন্দ্রনাথ রায়। তারা অশালীন আচরণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তির দাবি করায় অধ্যক্ষ তাদেরকেও দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।’

হুমকির বিষয়টি স্বীকার করে স্কুলের ওই তিন শিক্ষক জানান, ‘‘আমরা মিডিয়াতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করার পর অধ্যক্ষ ৩ নভেম্বর সকালে মিটিং ডেকে সবার সামনে বলেন, ‘তিনি আমাদের ঘৃণা করেন।’ তার কয়েকজন আস্থাভাজন শিক্ষক আমাদের সঙ্গে খুবই উচ্চবাচ্য করেন ও মারতে উদ্ধত হন। আমরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে কাজ করছি অভিযোগ তুলে কীভাবে চাকরি করি, সেটা দেখে নেওয়ার হুমকি দেন অধ্যক্ষ। পরে আমরা বাধ্য হয়ে মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি করি।’’

দুরুল হুদার অভিযোগ, ঘটনার তিন দিন পর ১৯ অক্টোবর রাবির সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস ফোন করে স্কুলের অধ্যক্ষের কক্ষে আমাকে যেতে বলেন। সেখানে গেলে অধ্যক্ষ, তার স্ত্রী ও অধ্যাপক জান্নাতুল আমার সঙ্গে অশালীন কথা বলেন এবং চাকরি ছাড়ার জন্য পুনরায় হুমকি দেন।

জানতে চাইলে অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘ওই দিন ঘটনা শোনার জন্য দুরুল হুদাকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু, তিনি আসেননি।’

অভিযোগের বিষয় জানতে স্কুলের অধ্যক্ষ শফিউল আলমকে ফোন করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিনি ছুটিতে আছেন।

অধ্যক্ষের স্ত্রী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু বলেন, ‘এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট। ২০১৮ সালে আমার মেয়ের বয়স ১৮ বছরই হয়নি। সে সময় আমার মেয়েকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলাম? তারপর সে অন্যত্র বিয়ে করে আমার ছোট মেয়েকে পড়াতে এলো? এগুলো সব বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।’

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়,শিক্ষক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close