• শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২০, ২৮ চৈত্র ১৪২৬
  • ||
শিরোনাম

প্রাথমিকে গ্রেড উন্নীত হলেও খুশি নন শিক্ষকরা, বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা

প্রকাশ:  ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:৩৯ | আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:৪৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে বেতন বৈষম্য নিয়ে।প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড পরিবর্তন করে বেতন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে সরকার। আন্দোলনের ফলে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১৪ ও ১৫তম থেকে ১৩তম গ্রেডে (১১০০০-২৬৫৯০) উন্নীত করা হয়েছে।তবে গ্রেড উন্নীত হলেও শিক্ষকদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শিক্ষকরা বলছেন, গ্রেড উন্নীত করে সহকারী শিক্ষকদের মধ্যেই একপ্রকার বৈষম্য তৈরি করা হয়েছে।

শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষ্যে সহকারী শিক্ষক পদের বেতন স্কেলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে এই গ্রেডে সব সহকারী শিক্ষক বেতন ভাতা পাবেন না। যে কারণে শিক্ষকদের মাঝে নতুনভাবে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

পরিবর্তিত স্কেলে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী শিক্ষকরা বেতন ভাতা পাবেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯-এর তফশিল [বিধি ২(গ)]-তে যোগ্যতা/অভিজ্ঞতা হিসেব উল্লেখ আছে, সহকারী শিক্ষক পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক/সমমান পাস হতে হবে। উন্নীত স্কেলের শর্ত মতে, যেসব সহকারী শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক রয়েছে, তারাই কেবলমাত্র এ উন্নীত স্কেলের আওতায় আসবেন।

প্রজ্ঞাপনের শর্তানুযায়ী, সহকারী শিক্ষকদের নিয়োগের বয়সসীমা ২১ থেকে ৩০ বছর হতে হবে। এছাড়া কোনো স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয় হতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্নাতক বা স্নাতক (সম্মান) বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। সুতরাং যারা এসএসসি বা এইচএসসি পাস করে আগে যোগদান করেছেন এবং যারা অনার্স পাস করলেও ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণিপ্রাপ্ত নন, তারা এ গ্রেডের আওতায় আসবেন না।

জানা যায়, প্রাথমিক স্তরে মোট শিক্ষকের ৬০ শতাংশই নারী। সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হবেন তারা। এছাড়া এতদিন ১৪তম গ্রেডে চাকরি করলেও বিপুলসংখ্যক শিক্ষকের বেতন ১৩তম পার হয়ে ১২তম গ্রেডে চলে গেছে। এখন ১৩তম গ্রেডে নতুন করে বেতন নির্ধারণ করতে গেলে এই শিক্ষকদের বেতন উল্টো কমে যাবে। এসব নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকরা অসন্তুষ্ট।

শিক্ষকরা বলছেন, নতুন গ্রেডে বেতন নির্ধারণ উচ্চধাপে না নিম্নধাপে হবে, তার কোনো সুস্পষ্ট উল্লেখ নেই। ফলে উন্নীত স্কেলের (বিএসআর-এর ৪২ ধারা অনুযায়ী) নিম্ন ধাপে বেতন নির্ধারণ করলে গ্রেড বাড়লেও বাস্তবে সব শিক্ষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

তবে কেউ কেউ সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। শিক্ষার মান অনুযায়ী এ বেতন নির্ধারণকে তারা সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন। আনোয়ার হোসেন। তিনি সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক। তিনি বলেন, সবকিছুই উপরের দিকে যায় আমরাও যেতে চাই। আর একটা কাজ খুব জরুরি করা দরকার যে, যোগদানের যোগ্যতা অনুযায়ী পদোন্নতি হবে। তাই অযথা বিরোধিতা না করে বেতন বাড়ার পরিপত্র আমাদের গ্রহণ করা উচিত। যাতে সামনে আমরা ১১ গ্রেড পেতে পারি। আর নিজের দুর্বলতাকে বৈষম্য মনে না করি, কারণ এটা আমার হলে আমি মেনে নিতাম যে এটা আমার দুর্বলতা।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামসুদ্দিন মাসুদ বলেন, এ শর্ত অনুযায়ী অনেকেই সুবিধা পাবেন না। এটা নিয়ে একটা জটিলতা তৈরি হবে বলে মনে হচ্ছে। কারণ অনেক শিক্ষক যারা আগের শর্ত মোতাবেক যোগদান করেছেন, তাদের নতুন করে স্নাতক ডিগ্রি নেয়ার সুযোগ নেই। সরকারের এ বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। সবাই যাতে নতুন সুযোগ পায় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, প্রাথমিকে সহকারী প্রধানের পদ সৃজন করা হচ্ছে। সেটি হলে সহকারী প্রধানরা ১২তম গ্রেডে চলে আসবেন। সেখানে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে অনেক এইচএসসি পাসও এ গ্রেডের আওতায় আসতে পারেন। এছাড়া প্রধান শিক্ষকরা পাচ্ছেন ১১তম গ্রেডে। ভবিষ্যতে এটিকে ১০ম গ্রেডে নিয়ে আসা হবে।

তিনি বলেন, ‘সহকারী শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে বেতন বৈষম্য নিয়ে। আমাদের দাবি ১১তম গ্রেড। সেখানে ১৩তম গ্রেড দিয়ে নিয়োগবিধির অজুহাতে কাউকে বঞ্চিত করা শিক্ষকরা কখনও মেনে নেবেন না। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী যখন ১৪তম গ্রেডে বেতন উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন নিয়োগ যোগ্যতা এইচএসসি পাস থাকলেও এসএসসি পাস শিক্ষকরাও ওই গ্রেডের সুবিধা পেয়েছিলেন। তাহলে এখন কেন বেতনের জন্য নিয়োগবিধি অনুসরণ করতে হবে?’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বিধিামালা অনুযায়ী শিক্ষকরা বেতন ভাতা পাবেন। আশা করছি খুব শিগগিরই তারা নতুন গ্রেডে বেতন ভাতা পাবেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা শিগগিরই নতুন গ্রেডে বেতন পাবেন। নতুন বেতন কাঠামোর ডিও (ডিমান্ড অব অর্ডার) ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে গেছে। সেখান থেকে সম্মতি দেয়া হলে তারা নতুন গ্রেডে বেতন পাবেন।

চলতি মাসের ৯ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন কাঠামো ১৩তম গ্রেডে উন্নীত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণের লক্ষে সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ১১০০০-২৬৬৯০ (গ্রেড-১৩) নির্ধারণ করা হলো। যা বিদ্যমান বেতন স্কেল ১০২০০-২৪৬৮০ (গ্রেড-১৪ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) এবং ৯৭০০-২৩৪৯০ (গ্রেড-১৩ প্রশিক্ষণবিহীন)। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ এর যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পূরণযোগ্য পদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এ আদেশ কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপনে প্রশিক্ষণবিহীন ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একিভূত করে ১টি গ্রেড নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও সহকারী শিক্ষকদের দাবি ছিল প্রধান শিক্ষকদের পরের ধাপে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা। তবে, সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নীত করা হলেও প্রধান শিক্ষকদের বেতন গ্রেড আগের মতোই রাখা হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা ১১তম এবং প্রশিক্ষণবিহীনরা ১২তম গ্রেডে বেতন পাবেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড,পরিবর্তিত স্কেল,গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী,মো. জাকির হোসেন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close