• মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬
  • ||

শিক্ষকদের অবসর সুবিধা নিয়ে সংসদে সুখবর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ:  ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫০ | আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ হাজার ৭৩২ জন বেসরকরি শিক্ষকের অবসর সুবিধা প্রাপ্তির বিষয় নিস্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়ছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি। ২০১৮ সাল থেকে করা এইসব আবেদন নিষ্পত্তি প্রক্রিয়াধীন বলেও মন্ত্রী জানান। সংসদে প্রশ্নোত্তরে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) মুহিবুর রহমান মানিকের (সুনামগঞ্জ-৫) এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। সংসদের প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

দীপু মনি আরো জানান, দ্রুততার সাথে এই সকল আবেদন নিষ্পত্তির জন্য ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড’ এর অনুকূলে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদানের লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থ অনুমোদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের অবসর সুবিধা প্রাপ্তির আবেদন দ্রুততার সাথে নিষ্পত্তি করার জন্য ইতিমধ্যে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকা অনুদান এবং ৫০০ কোটি টাকা এনডাওমেন্ট ফান্ড হিসেবে বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৫০ কোটি টাকা এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫৩২ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে মন্ত্রণালয় থেকে প্রদান করা হয়েছে। ২০১৭ সাল পর্যন্ত করা সকল আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বাকিগুলো প্রক্রিয়া আছে।

সরকারি দলের সদস্য আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, দেশে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার সংখ্যা ৭ হাজার ৬২৪টা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আরও ৫৫৬টি মাদ্রাসা এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়াধীন আছে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশেব বর্তমানে এমপিওবিহীন মাদ্রাসার সংখ্যা ১ হাজার ৯১২টি। এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার ছাত্র সংখ্যা ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৮১২ জন, ছাত্রী এক লাখ ১৮ হাজার ৫১ জন। এমপিওবিহীন মাদ্রাসায় ছাত্র সংখ্যা এক লাখ ১৩ হাজার ৭২৪ জন ও ছাত্রী এক লাখ ৮৭ হাজার ৮৯ জন।’

তিনি বলেন, এমপিওভুক্তির (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) জন্য তালিকায় যেসব স্কুল-কলেজের নামে বিতর্কিত স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম আছে, সেগুলোর নাম পরিবর্তন করা হবে। এমপিওভুক্তির জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে বিতর্কিত কিংবা স্বাধীনতাবিরোধী কোনো ব্যক্তির নাম রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংসদ সদস্য শামীমা আক্তার খানমের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী আরও জানান, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে এবং মানবতাবিরোধীদের বিচারকাজ যখন চলমান, তখনো দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এখনো এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের নাম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান মন্ত্রী।

জাতীয় পার্টির সদস্য মো. ফখরুল ইমামের প্রশ্নের লিখিত জবাবে দীপু মনি জানান, মাধ্যমিক স্তরের নবম-দশম শ্রেণিতে গ্রুপ বা বিভাগ না রাখার চিন্তা-ভাবনা চলছে। এক্ষেত্রে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থী একই বিষয়ে পড়ালেখা করে ভিতকে মজবুত করবে। এরপর একাদশ শ্রেণি থেকে গ্রুপ বা বিভাগভিত্তিক লেখাপড়া করবে তারা।

একই প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, তথ্য অধিকার আইন বিষয়ক বিষয়স্তু অষ্টম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, নবম-দশম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং নবম-দশম শ্রেণির পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন: এমপিওভুক্ত হচ্ছে আরও ৫৫৬ মাদ্রাসা

আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের আগের মেয়াদে শিক্ষা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ নিয়োগে দেরি হওয়ার কারণে আইন প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে আশা করা যায়, অবিলম্বে শিক্ষা আইনের খসড়া মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে সংসদে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।

সরকারি দলের সাংসদ জাফর আলমের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন প্রজন্মকে গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত করে এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ সমমানের উচ্চশিক্ষা, জ্ঞান, বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি ও দক্ষতায় গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গবেষণায় গৃহীত পরিকল্পনার আওতায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জিত হয়েছে। হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহেন্সমেন্ট প্রজেক্টের অর্থায়নে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে নন-লিনিয়ার অপটিকস গবেষণায় ক্যানসার শনাক্তকরণ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিজ’ প্রতিরোধে কার্যকর ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করা হয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাটকাঠি থেকে টেকসই পার্টিকেল বোর্ড উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবিত বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তির স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রাসঙ্গিকতা থাকায় পর্যায়ক্রমে এগুলোর জন্য পেটেন্ট আবেদন দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে।

সরকারি দলের সাংসদ এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, চলতি বছরে প্রাথমিক স্তরে ভর্তির হার ৯৭ দশমিক ৭৪ ভাগ। সারা দেশে বিদ্যালয় গমনোপযোগী শতভাগ শিশুকে ভর্তির জন্য সরকার গৃহীত সব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং তাদের পাঠদানে সম্পৃক্ত করার জন্য ভর্তি করা হয়েছে। এর ফলে বিদ্যালয় গমনোপযোগী প্রায় শতভাগ শিশুকে ভর্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।

সরকারি দলের নূর মোহাম্মদের প্রশ্নের জবাবে জাকির হোসেন বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বয়স্ক সাক্ষরতার হারে পুরুষের চেয়ে নারীরা গড়ে ৫ শতাংশ পিছিয়ে আছেন। বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ। পুরুষ সাক্ষরতার হার ৭৬ দশমিক ৭ শতাংশ আর নারী সাক্ষরতার হার ৭১ দশমিক ২ শতাংশ।

আরও পড়ুন: ‘বিতর্কিত ও স্বাধীনতাবিরোধীদের নামে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের নাম পরিবর্তন হবে’

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

শিক্ষক,শিক্ষামন্ত্রী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close