• সোমবার, ২০ জানুয়ারি ২০২০, ৭ মাঘ ১৪২৭
  • ||

হাসপাতালের শয্যায় রাবির সেই আবুর ক্যান্টিনের ‘আবু ভাই’

প্রকাশ:  ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:০৫
রাবি প্রতিনিধি

মুক্তিযুদ্ধকালীন কিংবা তার আগে থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পরিচিত নাম আবু আহমেদ। ক্যাম্পাসে সবার কাছে ‘আবু ভাই’ নামেই পরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন তিনি সত্তর, আশি, নব্বই দশকের আন্দোলনের সাক্ষী হয়ে আছেন। চোখের সামনে দেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা আন্দোলনের উত্থান ও পতন। সারাদিন প্রাণপ্রিয় ক্যাম্পাসে সময় কাটিয়েছন উৎসাহ, উদ্দীপনা আর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভালবাসায়। তার যেন ভালবাসার কমতি ছিল না। সবার কাছে হয়ে উঠেছিলেন আড্ডার অন্যতম ব্যক্তিত্ব। শুধু আড্ডাই নয়, সকল প্রকার রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা ও পরিকল্পনার মূল কেন্দ্র ছিল আবুর ক্যান্টিন।

তিনি শুধু ক্যান্টিন বা খাবারের জন্য বিখ্যাত ছিলেন না। একজন উদার মানুষও ছিলেন। শিক্ষার্থীদের সহয়তা করেছেন নানাভাবে। এমনকি ভতিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য করেছেন থাকার ব্যবস্থা। একসময় শত মানুষ ও শিক্ষার্থীকে সহায়তা করা আবু ভাই আজ একটু সহায়তার অভাবে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। উদার মনের এই মানুষটিও এখন ভালো নেই। বয়স ৭৫ পেরিয়েছে। বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অসুখ। নানা রোগ বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। একসময়ের প্রাণচঞ্চল এই মানুষটি গত ১০ দিন ধরে হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছেন। অর্থের অভাবে ভালোভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কথা হয় আবু আহমেদের সঙ্গে। ঠিকমতো চলাফেরা করার মতো শক্তিও নেই তার শরীরে। মুখ ফুটে কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে তার। কথা বলতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছেন।

চাপা কণ্ঠে ও ইশারায় আবু আহমেদ বললেন, মাসখানেক আগে বাড়িতে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাথায় আঘাত পাই। তখন থেকে অসুস্থতা বেড়ে যায়। পরে কিছুটা সুস্থ হয়েছিলাম। ১০ দিন আগে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখন থেকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি। পুরো শরীরে প্রচণ্ড ব্যাথা করছে। হাঁটার শক্তি নেই। ঘন ঘন রক্তবমি হচ্ছে। ঠিকমতো খেতেও পারছি না।

আবু আহমেদের স্ত্রী সুফিয়া বেগম জানান, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, হাইপ্রেসার, কিডনি অসুখসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন আবু আহমেদ। চিকিৎসার জন্য তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেডের ভাড়া মওকুফ করেছে। প্রতিদিনের ওষুধ, সেই সঙ্গে বিভিন্ন টেস্টের ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহায়তা চান তিনি।

মৃত্যুর আগে আবু আহমেদের শেষ ইচ্ছা আবারও ‘আবুর ক্যান্টিন’ চালু করা। তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে শেষ ইচ্ছা ছিলো আবারও ক্যান্টিনটা চালু করবো। ‘আবুর ক্যান্টিন’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের মতোই আমার ক্যান্টিন অতীতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেক আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রেখেছে। ব্যবসা করতে নয়, ক্যান্টিন পুনরায় চালু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ইতিহাসটুকু ভবিষ্যতের জন্য রেখে যেতে চেয়েছিলাম। এখন মনে হচ্ছে, হয়তো তা আর সম্ভব হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে থেকেই ক্যাম্পাসে ক্যান্টিন পরিচালনা করে আসছেন আবু আহমেদ। তিনি আমাদের একজন অভিবাবক হিসেবে কাজ করতেন। চোখের দিক তাকালেই বুঝতে পারতেন পকেটে টাকা আছে কিনা? টাকা-পয়সা না থাকলেও তিনি আমাদের খাওয়াতেন। আমাদের নানামুখী আবদার রক্ষা করতেন। সত্যিকার অর্থে তিনি ছিলেন একজন উদার মনের মানুষ, শিক্ষার্থীদের মন বুঝতে তার সময় লাগতো না।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত