• বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৯ আশ্বিন ১৪২৭
  • ||

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ:  ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ২০:৩৫ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ২২:০১
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন বলেছেন, প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতিযোগ্য শূন্য পদে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য হতে পদোন্নতি/চলতি দায়িত্ব প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্পিকার ড. শিরিন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সোমবার বিকেলে মুলতবি এ অধিবেশন শুরু হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রধান শিক্ষকের সরাসরি নিয়োগযোগ্য ৩৫ শতাংশ ৩ হাজার ৭১৬টি শূন্য পদে ৩৭তম বিসিএস হতে পিএসসি’র মাধ্যমে নিয়োগের জন্য পিএসসি’র সুপারিশ পাওয়া গেছে। এছাড়া প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাছাড়া প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতিযোগ্য শূন্য পদে সহকারী শিক্ষকদের মধ্য হতে পদোন্নতি/চলতি দায়িত্ব প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সরকারি দলের আরেক সদস্য মোরশেদ আলমের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী (২০১৮) দেশে সাক্ষরতার হার ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ। সাক্ষরতার হার বৃদ্ধির জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিকের নতুন শিক্ষকদের যোগদান ১৬ ফেব্রুয়ারি

এদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন করে আর প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেবে না সরকার। এই পদে শতভাগ পদোন্নতি দেয়া হবে। যারা সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেছেন, তারা জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পাবেন। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক পদে যারা চলতি দায়িত্বে আছেন, তাদের দ্রুত স্থায়ীভাবে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেয়া হবে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ১১তম গ্রেডে বেতন-ভাতা সুবিধা দেয়া হবে।

মন্ত্রণালয় বলছে, ইতোমধ্যে বিসিএস পরীক্ষায় নন-ক্যাডার থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না দিতে সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের আওতায় এ পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি হস্তান্তর করার সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এর স্বপক্ষে যৌক্তিক কারণ জানতে চেয়েছে পিএসসি। এ বিষয়ে কর্মকমিশনকে লিখিত জবাবও দিয়েছে মন্ত্রণালয়। সরকারের অন্যান্য সংস্থার পদোন্নতির ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়া রয়েছে বলে জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে।

আরও পড়ুন: এমপিওভুক্তির ১৬ বছর পর বেতন-ভাতা পেলেন ৩৬ শিক্ষক-কর্মচারী

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে পিএসসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছি। আগে ৬০ ভাগ প্রধান শিক্ষক পদোন্নতির ভিত্তিতে এবং ৪০ ভাগ পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হতো। এখন শতভাগ পদোন্নতির ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে।

এদিকে, প্রত্যেক স্কুলে একটি করে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সহকারী শিক্ষক থেকে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হবেন। এ ব্যাপার সব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে গেছে। খুব শিগগিরই এটি ফাইন্যান্সে পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সচিব বলেন, অনেকে সহকারী শিক্ষক পদটাকে ‘ব্লক পোস্ট’ মনে করে থাকেন। ফলে অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী এ পেশায় আসতে চান না। তাদের উৎসাহ দিতে সরকারের এমন উদ্যোগ। এছাড়া একজন শিক্ষক দীর্ঘদিন একটি পদে থাকেন। তাদের কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে এ পদে পদোন্নতি দেয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

আদালতে মামলাজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। এ কারণে শূন্য আসনের বিপরীতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্বে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে চলতি দায়িত্বে থাকা এ সকল শিক্ষকদের মূল বেতনের অতিরিক্ত আরো ১ হাজার ৫০০ টাকা দেয়া হচ্ছে। এর বাইরে আর কোনো সুবিধা দেয়া হচ্ছে না। খুব শিগগির তারা সুখবর পেত যাচ্ছেন।

বেতন-ভাতা বাড়ানোর দাবিতে শিক্ষকদের আর আন্দোলন করে মাঠে নামার প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। তিনি জানান, আগে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকরা ছিলেন যথাক্রমে ১১তম ও ১২তম গ্রেডে। সহকারী শিক্ষকদের ছিলেন যথাক্রমে ১৪তম ও ১৫তম গ্রেডে। এখন প্রধান শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড এবং সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেডের দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণবিহীন আর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বলে কিছু থাকবে না। কারণ ‍নতুন নিয়ম অনুযায়ী প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত চাকরি স্থায়ী হবে না। তাই নিয়োগ বিধিমালা অনুসারে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিতে হবে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

শিক্ষক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close