• বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
  • ||

প্রেমিক থেকে ধর্ষণ মামলার আসামি

প্রকাশ:  ২২ অক্টোবর ২০২১, ১২:২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

রিয়াদুল ইসলাম রিয়াদ (৩৩)। পেশায় একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। ফেসবুকে পরিচয় হয় এক নারীর সঙ্গে। তারপর বন্ধুত্ব, বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। সেখান থেকে ঘনিষ্ঠতা। দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক ও কর্মজীবী হওয়ায় রিয়াদকে বিয়ের কথা বলেন নারী। তবে রিয়াদ ‘হ্যাঁ’ বললেও তা বাস্তবতায় রূপ নেয় না। উল্টো এই নারীর সঙ্গে কাটানো ঘনিষ্ঠ সময় বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করেন রিয়াদ। এ নিয়ে সম্পর্কে ধরে ফাটল। এক পর্যায়ে তাদের মাত্র ৩ মাসের সম্পর্ক ভেঙে যায়। এরপর ওই নারী প্রথমে রিয়াদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর করেন ধর্ষণ মামলা। যা কলাবাগান থানা পুলিশ তদন্ত করছে। এখনও পলাতক রয়েছে রিয়াদ।

রিয়াদের বিরুদ্ধে গত ৪ জুলাই ওই নারী কলাবাগান থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। মামলার অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২০ সালের শেষের দিকে ফেসবুকের মাধ্যমে নীলফামারীর ছেলে রিয়াদের সঙ্গে তার পরিচয়। রিয়াদ তাকে প্রথমে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। ওই নারী জানান, ‘প্রেম না, বিয়ের কথা ভাবছেন’। গত ফেব্রুয়ারিতে জরায়ুর টিউমারের চিকিৎসার জন্য ভারতে যান, ওই নারী। চিকিৎসা শেষে তিনে ঢাকায় ফিরলে রিয়াদ তাকে খুব যত্ন করেন বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন। এ সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর কিছুদিন পর তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

গত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন ডকুমেন্টারি কাজের সময় ওই নারীর সঙ্গে রিয়াদ সব জায়গায় যায়। সে বিভিন্নভাবে ওই নারীর বিশ্বাস অর্জন করেন। ওই নারীর অফিস, বাসা সব জায়গায় যাতায়াত ছিল রিয়াদের। গত রমজানে রিয়াদ বেকার হয়ে যান। তখন ওই নারীকে আরও বেশি সময় দেন। গত মে মাসে ভাইয়ের বিয়ের কথা বলে রিয়াদ ওই নারীর কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা ধার নেয়। পরে বিয়ে আয়োজনের কথা বলে রিয়াদ তার গ্রামের বাড়ি নীলফামারীতে চলে যায়। বাড়ি থেকে ফিরে রিয়াদ ওই নারীকে বিয়ে করবেন বলে তারিখও নির্ধারণ করেছিলেন। তবে রিয়াদ আর বাড়ি থেকে এসে বিয়ে করেননি। এরমধ্যে আরেকজনের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্কের কথা জানতে পারেন ওই নারী। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হন। বিষয়টি জিজ্ঞাস করলে রিয়াদ তা অস্বীকার করেন। গত ২৬ মে রিয়াদ ওই নারীর কলাবাগানের বাসায় আসেন। তাকে সবকিছুর জন্য ‘সরি’ বলেন। ওইদিন কথা বলতে বলতে রাত হয়ে গেলে রিয়াদ ওই নারীর বাসায় থেকে যান। ২৭ মে ভোরে রিয়াদ তাকে ধর্ষণ করেন’- বলে মামলায় অভিযোগ করেন ওই নারী।

২৭ মে সকালে রিয়াদকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে ওই নারীর একজন বান্ধবী। তবে রিয়াদ সময় চেয়ে সেখান থেকে চলে যান। তবে এরপর ওই নারীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি রিয়াদ। রিয়াদের মোহাম্মদপুরের বাসায় এবং স্থায়ী ঠিকানায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি ওই নারী।

মানহানির ভয়ে ধর্ষণের ঘটনার পর ওই নারী প্রথমে মামলা করেননি। তিনি ঘটনার প্রায় ১১ দিন পর ৮ জুন কলাবাগান থানায় রিয়াদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে তিনি রিয়াদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেন। ঘটনার এক মাস সাতদিন পর কলাবাগান থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। মামলায় রিয়াদ একমাত্র আসামি।

ঘটনার ২৫ দিন পর হাসপাতালে মেডিক্যাল রিপোর্টের জন্য গেলেও ধর্ষণের কোনও আলামত মেলেনি বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছে পুলিশকে। তবে আলামত হিসেবে টিস্যু, বিছানার চাদর ও ট্রাউজার পুলিশকে দিয়েছেন ওই নারী। যার ডিএনএ করা হলে রিয়াদের ধর্ষণের বড় প্রমাণ মিলবে বলে ভুক্তভোগী নারী ও তার বন্ধুরা দাবি করেছেন।

মামলার তিন মাসেও আসামি রিয়াদকে গ্রেফতার করতে পারেনি কলাবাগান থানা পুলিশ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুমিত আহমেদ বলেন, ‘মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। আমরা চেষ্টা করছি দোষীকে গ্রেফতারের।’

ওই নারীকে ঘটনার পর বিভিন্নভাবে কাউন্সেলিং করা হচ্ছে উল্লেখ করে তার এক বান্ধবী বলেন, ‘রিয়াদ যা করেছেন, তারপর থেকেই আমরা বান্ধবী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। সে একবার আত্মহত্যারও চেষ্টা করেছিল। আমরা তাকে চোখে চোখে রাখি। রিয়াদকে আমরা সবাই ভালো মনে করেছিলাম, তবে সে এত বড় প্রতারক তা আমরা বুঝতে পারিনি। আমরা তার বিচার চাই।’

ভুক্তভোগী ওই নারী ‘তালাকপ্রাপ্ত’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘রিয়াদ টার্গেট করে ডিভোর্সি ও কর্মজীবী নারীদের। যাদের কাছ থেকে সে অর্থ হাতিয়ে নিতে পারে।’

রিয়াদের গ্রামের বাড়ি নীলফামারী। তিনি বনানীর একটি সফটওয়্যার ফার্মে চাকরি করতেন। রিয়াদের বিরুদ্ধে করা ওই নারীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে কয়েক দফায় তার মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে দুটি নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর তার ছোট ভাই নিসাদের নম্বরে ফোন দিলে তিনি কথা বলেন। নিসাদ ঘটনা সম্পর্কে বলেন, ‘আমরা ভাই একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তিনি ভালো চাকরি করতেন। কিন্তু তাকে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ের চেষ্টা করেছিল কলাবাগানের এক ডিভোর্সি নারী। আমরা এটুকু জানি। এরপর ওই নারী প্রথমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জিডি করেছেন। তারপর এক মাস পর ধর্ষণের মামলা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘ধর্ষণের মনগড়া কাহিনী লিখলেও কোনও মেডিক্যাল রিপোর্ট নেই। এসব ঘটনায় তো মেডিক্যাল রিপোর্ট থাকে, তারা মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখাক। ওই মামলার পর থেকে আমার ভাইকে আমরাও খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান, তারা টাকা পেলে টাকা নিবে, কিন্তু এরকম ধর্ষণের মামলা দেওয়ার কারণ কী?’

পূর্বপশ্চিমবিডি/আর

ধর্ষণ মামলার আসামি,প্রেমিক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close