• বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭
  • ||

এবার শাহেদের নারী কেলেঙ্কারি ফাঁস

প্রকাশ:  ১০ জুলাই ২০২০, ১৯:০৮ | আপডেট : ১০ জুলাই ২০২০, ১৯:১৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্ষমতাসীন দলের আন্তর্জাতিক উপকমিটির সদস্যের পরিচয় আর প্রভাবশালীদের সঙ্গে তোলা ছবি ব্যবহার করে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃ শাহেদ ওরফে শাহেদ করিমের গড়া প্রতারণার সম্রাজ্য ভেঙে পড়ার পর বেরিয়ে আসছে গুরুতর নানা অভিযোগ। গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে বেড়ানো এই ভয়ংকর ‘সুশীল’ বুদ্ধিজীবী নিজের অপকর্মকে বিঘ্নহীন রাখতে ব্যবহার করতো নারীদের।এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন রিজেন্ট গ্রুপের একজন সাবেক নারী কর্মকর্তা।

রিজেন্ট হাসপাতালে দুইটি শাখাতেই যোগ্যতা যাই হোক না কেন, দেখতে শুনতে ভালো মেয়েদের নিয়োগ দিতেন জানিয়ে শাহেদের সাবেক ওই নারী সহকর্মী বলেন, স্যারের রুমে মেয়েদের যাতায়াত ছিল অবাধ। মেয়েদের তিনি নানা জায়গায় তদ্বিরের জন্য পাঠাতেন। কেউ ওসব কাজে যেতে না চাইলে স্যারের রুমে নিয়ে তাদের মারধর করা হতো। নারী স্টাফরা ছাড়াও অনেক রকমের মেয়েরা আসতো স্যারের রুমে। আমি তার খারাপ চরিত্র দেখার পরেই চলে আসি।

র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত গত সোমবার (৬ জুলাই রাতে) রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে। পরে করোনা পরীক্ষা না করেই সার্টিফিকেট দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে সংস্থাটি। মামলায় রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সাহেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজসহ পলাতক রয়েছেন আর আটজন।

অভিযানের পরদিনই উত্তরায় রিজেন্টের প্রধান কার্যালয় সিলগালা করে দেয় র‌্যাব। ওইদিন সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশের কথা বলা হয়।

এদিকে ভ্রাম্মমান আদালতের ওই অভিযানের চারদিন পার হয়ে যাওয়ার পরও ভয়ংকর ‘সুশীল’ প্রতারক নামে পরিচিতি পাওয়া মোহাম্মদ শাহেদ ওরফে শাহেদ করিম গ্রেপ্তার না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। নিজেকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক উপ কমিটির সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড করে আসছিল রিজেন্টের চেয়ারম্যান। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে অন্যদের সামনে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবে তুলে ধরেই প্রতারণার জাল ছড়িয়েছেন শাহেদ। রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৩২ টি মাললা। প্রতারণার দায়ে জেলও খেটেছেন। নিজের ভোলপাল্টে কী করে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীদের পাশে পৌছে গেলেন আর কিভাবেই বা টকশোর আলোচক হিসেবে জায়গা করে তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিস্ময়।

প্রতারক শাহেদ গ্রেপ্তার হবে কবে? জানতে চাইলে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা গত তিনদিন ধরে রাজধানীসহ ঢাকার বাইরের কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালিয়েছে। ধুরন্ধর প্রকৃতির লোক বলেই এখনো ধরা পড়েননি শাহেদ। তবে পালিয়ে বেশিদিন থাকতে পারবেন না। তার দেশের বাইরে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পালিয়ে তিনি কই যাবেন। অচিরেই শাহেদকে গ্রেপ্তারের সুখবর দিতে পারবো বলে আশা করছি।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, রিজেন্টের প্রতারক শাহেদকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। র‌্যাব ও পুলিশসহ চারটি টিম তাকে গ্রেপ্তারে মাঠে আছে। অবশ্যই তিনি ধরা-ছোঁয়ার বাইরে নয়। যারাই আইনের ঊর্ধ্বে যাওয়ার চেষ্টা করবে আর সেই সাহস দেখাবে অবশ্যই তাকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম।

পূর্বপশ্চিম-এনই

মোঃ শাহেদ,রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান,রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close