• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

স্ত্রীর মাথায় হাতুড়ি, ছেলেকে ফাঁসি আর মেয়েকে গলাটিপে মেরে ভিক্ষুক সাজেন তিনি

প্রকাশ:  ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২০:০০ | আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২০:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর দক্ষিনখানে স্ত্রী’সহ দুই সন্তানকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার বিটিসিএলের কর্মকর্তা রাকিব উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে গোয়েন্দা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। হত্যার পর তিনি ভিখারির ছদ্মবেশ নিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছেন।

জিজ্ঞাসবাদে রকিব জানান, অনলাইনে জুয়া খেলার নেশায় তিনি ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েন। অফিসের কলিগসহ অন্যান্য ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় এক কোটি ১৫ লক্ষ টাকা সুদের উপর বিভিন্ন সময়ে ধার নিয়েছিলেন বিটিসিএলের এই কর্মকতা। জুয়ার পেছনে সব টাকা নষ্ট করেন। পাওনাদাররা পাওনা টাকা আদায়ের চাপে মানসিক হতাশা থেকে মুক্তি খোঁজার জন্য স্ত্রীসহ দুই সন্তানকে হত্যা করেন এবং তিনি নিজেও আত্মহত্যা করতে রেললাইনে গিয়ে শুয়ে ছিলেন। কিন্তু ট্রেন আসতে দেরি করায় তার আর আত্মহত্যা করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেডের এই কর্মকর্তা।

সম্পর্কিত খবর

    আসামীর খুনের স্বীকারোক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মো. মশিউর রহমান গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান। তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোনের বাসায় যাওয়ার পথে রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর দক্ষিণখানের প্রেমবাগানে একটি ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে গৃহবধূ মুন্নী রহমান (৩৭) এবং তার দুই শিশু সন্তান ফারহান উদ্দিন বিপ্লব (১২) ও লাইবার (৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত মুন্নী রহমানের বড় ভাই মুন্না রহমান দক্ষিণখান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয় নিখোঁজ রাকিব উদ্দিন আহম্মেদকে। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর থানার ভাতশালী গ্রামে। পরে দক্ষিণখান থানা পুলিশের কাছ থেকে হত্যা মামলার তদন্তভার ডিএমপির ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।

    ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-উত্তর) তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, খুনের আগের রাতে হিন্দি কোনো চ্যানেলে ঋণের কারণে জর্জরিত হয়ে কীভাবে স্বামী তার স্ত্রী ও সন্তানদের খুন করে সেই দৃশ্য দেখেছিলেন। পরদিন ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রী ও সন্তানদের খুন করার কথা ভাবতে থাকেন। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। হিন্দি চ্যানেলের দৃশ্য দেখেই হাতে নেন হাতুড়ি। তারপর তার ঘুমন্ত স্ত্রী মুন্নি রহমানের মাথায় একের পর এক আঘাত করতে থাকেন।

    তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে রকিব বলেন, স্ত্রী নিস্তেজ হওয়ার পর পাশের রুমে বড় ছেলে ফারহানের কাছে যান। মশারির ফিতা দিয়ে তার গলায় ফাঁস লাগানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ছেলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। আর বলতে থাকে, বাবা কেন তুমি আমাকে ফাঁসি দিচ্ছ কেন। এরপর আর কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে গলায় ফিতা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন রাকিব। ছেলের লাশ সেই ঘরে ফেলে রেখে নিথর মায়ের পাশে ঘুমন্ত শিশুকন্যা লাইবাকে ওগলা টিপে হত্যা করেন।

    হত্যার পর রাকিব তার বাসায় বসে ডায়েরিতে নিজের হাতে লেখেন, ‘আজ থেকে তোমাদের মুক্তি দিয়ে গেলাম। আমাকে পাওয়া যাবে রেললাইনে। এরপর বাইরে থেকে বাসায় তালা লাগিয়ে ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে পালিয়ে যান।

    তদন্ত কর্মকর্তাদের রাকিব জানান, স্ত্রী-সন্তানদের মেরে ফেলার পর ভিক্ষুকের মতো ছেড়া জামাকাপড় পড়ে বাসা থেকে বের হয়ে রেললাইনে চলে যায়। ট্রেনের নিচে পড়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে । কিন্তু ট্রেন না আসায় সে আত্মহত্যা করতে পারেনি। আত্মহত্যা করতে না পেরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষুকের ছদ্মবেশে ঘুরতে থাকেন।

    পূর্বপশ্চিম- এনই

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close