• বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

কে এই ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ, এতদিন কোথায় ছিলেন?

প্রকাশ:  ০৭ এপ্রিল ২০২০, ১৩:৫৫ | আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২০, ১৫:৩৯
বিশেষ প্রতিনিধি

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ । তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আত্মস্বীকৃত খুনী। হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর পলাতক এই আসামীকে রাজধানীর মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আবদুল মাজেদ হলেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় পলাতক ছয় খুনির মধ্যে একজন। পলাতক বাকি পাঁচ খুনি হলেন আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, এম রাশেদ চৌধুরী, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন। জেলে চারনেতার হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় এই ক্যাপ্টেন (অব) আবদুল মাজেদ। জেল হত্যা মামলায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্যাপ্টেন মাজেদ মিন্টো রোডে আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাড়ির অপারেশনের সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন বলে হত্যা মামলার স্বাক্ষীরা উল্লেখ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার পর একজন জুনিয়র অফিসার হয়েও অন্য খুনিদের সঙ্গে ক্যাপ্টেন মাজেদ খুনী চক্রের সঙ্গে বঙ্গভবনে অবস্থান নেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মেজর (অব.) শাহরিয়ার রশিদ খানের আত্মীয় হওয়ায় থুনী দলের সুপ্রিম কমান্ডোতে জায়গা পান মাজেদ।

পঁচাত্তরের নভেম্বরে সংগঠিত সেনাবাহিনীতে নানা নাটকীয় পটপরিবর্তনের পর বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে আপসরফার মাধ্যমে থুনীচক্রকে বঙ্গভবন থেকে ঢাকা বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিশেষ বিমানে থাইল্যান্ড পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আপসের অন্যতম শর্ত অনুযায়ী খুনের দায় থেকে অব্যাহতি দিয়ে জারি করা হয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। পাশাপাশি থাইল্যান্ডে অবস্থানরত বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে উচ্চপদে চাকরিও দেওয়া। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার নথিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর আরেক আত্মস্বীকৃত খুনী মেজর (অব.) আজিজ পাশা ও ক্যাপ্টেন মাজেদকে আফ্রিকার জিম্বাবুয়েতে বাংলাদেশ যুক্ত করা হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গিয়ে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে খুনিদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করলে দুই খুনী আত্মগোপন করেন।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয় ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল, এতে ১২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। কিন্তু ওই বছর নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি-জামাত সরকার গঠন রায় কার্যকরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১২ জন আসামির মধ্যে পাঁচজনের দণ্ড কার্যকর করা হয়। বাকি সাত আসামী পলাতক থাকেন। পরে মেজর আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবুয়েতে মারা যান। তার মৃত্যুর পর ক্যাপ্টেন মাজেদ জিম্বাবুয়ে থেকে অবৈধভাবে ভারতে এসে আত্মগোপন করেন বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দীর্ঘ বছর ধরে পলাতক থাকা ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ রাজধানীর মিরপুর থেকে গ্রেপ্তারের ঘটনা তাই জন্ম দিয়েছে বিস্ময়ের। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিনগত রাত ৩টায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে ক্যাপ্টেন (অব.) আবদুল মাজেদ ভারতে পালিয়ে আছেন বলে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে। বঙ্গবন্ধুর এই খুনিকে সেখান থেকে পাঠানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা তাকে বাংলাদেশেই পেয়েছি। হয়ত করোনার ভয়ে চলে এসেছে।

পূর্বপশ্চিম- এনই

ক্যাপ্টেন আবদুল মাজেদ,বঙ্গবন্ধুর খুনি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close