• শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭
  • ||

থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় পাপিয়ার মধুকুঞ্জ, ব্যাংকে সাড়ে তিন কোটি টাকা

প্রকাশ:  ০৪ মার্চ ২০২০, ১৭:২৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

কেবল দেশেই নয়, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায়তে ‘পাপের আস্তানা’ গড়ে তুলেছিলেন যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া। দেশের বাইরের পাপকাণ্ডের টাকা তিনি জমা করেন দেশের বাইরেই। থাইল্যান্ডের দুইটি ও মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংকে পাপিয়ার একাউন্টের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব ব্যাংকে একাউন্টে জমা রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ।

দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে অগাধ অর্থ-সম্পদের মালিক হওয়া শামীমা নূর পাপিয়ার অবৈধ ও অনৈতিক কমকাণ্ডের তদন্তে থাকা সিআইডির কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দাদের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারসহ এসব তথ্য স্বীকার করেছেন পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, পাপিয়ার সকল ব্যাংক হিসাব তলব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি তফসিলি ব্যাংকগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

পাপিয়ার অবৈধ ও অনৈতিক কাজের তদন্তে যুক্ত সিআইডি একাধিক কর্মকর্তা জানান, ধনাঢ্য ও ভিআইপির মনোরঞ্জনের জন্য পাপিয়া দেশের বাইরেও গড়ে তুলেন আস্তানা। ওইসব আস্তানায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল প্রভাবশালীদের। এর মধ্যে থাইল্যান্ডে নিজের নামে বাড়ি কিনে পাপিয়া সেখানেই অতিথিদের দেহ-বিনোদনের আয়োজন করতেন। ওই বাড়ির নিচ তলাতেই রয়েছে স্বামী মফিজুর রহমান সুমনের একটি মদের বার। আর অতিথি হয়ে থাইল্যান্ডে যাওয়া প্রভাবশালীদের মাধ্যমেই অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা পাচার করছেন পাপিয়া-সুমন দম্পতি।

সূত্র জানায়, পাপিয়ার কানেকশনে বিদেশ থেকে যেসব তরুণী আসা-যাওয়া করত এবং দেশ থেকে যারা অতিথি হয়ে বাইরে যেতেন মূলত তাদের মাধ্যমেই কোটি কোটি টাকা পাচার করেছেন পাপিয়া ও তার স্বামী। যাদের মাধ্যমে পাপিয়া দম্পতি অবৈধভাবে অর্থ পাচার করেছেন তাদের নামের তালিকা তৈরির কাজও শুরু করেছে সিআইডি।

এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সিআইডির ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, পাপিয়ার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের বেশ কিছু তথ্য মিলেছে।আটকের পর পাপিয়া-সুমন দম্পতির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে তিনটি মামলা করেছে তার মধ্যে একটি মানি লন্ডারিংয়ের ধারায়।

সিআইডির সংশ্লিষ্ট শাখা এ মামলাটি তদন্ত করছে জানিয়ে তিনি বলেন, তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পরই পাপিয়া ও তার স্বামী সুমনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিগগিরই তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২২ ফেব্রুয়ারি অর্থপাচার, বিদেশি জাল মুদ্রা সংরক্ষণ ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে র‌্যাব-১ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করে পাপিয়া, তার স্বামী ও দুই সহযোগীকে। পরে তাদের নিয়ে ফার্মগেটের বাসায় অভিযান চালিয়ে নগদ ৫৮ লাখ টাকা, বিদেশি মুদ্রা ও পিস্তল, গুলি, মদ উদ্ধার করে র‌্যাব। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি এবং শেরেবাংলা নগর থানায় দুটি মামলা করে র‌্যাব। তিন মামলায় পাপিয়াসহ চারজন ১৫ দিনের রিমান্ডে রয়েছে।

পূর্বপশ্চিম/ এনই

পাপিয়া,শামীমা নূর পাপিয়া
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close