• রোববার, ৩১ মে ২০২০, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

পাপিয়া দম্পতির দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ

প্রকাশ:  ০২ মার্চ ২০২০, ০০:১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
পাপিয়া দম্পতি।ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া।

অনৈতিক কাজে জড়িত, অবৈধ অর্থ পাচার, জাল টাকা সরবরাহ এবং মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীর দুর্নীতি অনুসন্ধানে কর্মকর্তা নিযুক্ত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (১ মার্চ) প্রতিষ্ঠানটির উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজকে এ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সোমবার থেকে তিনি অনুসন্ধান কাজ শুরু করবেন।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আমলে নিয়ে দুদক এ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ক্যাসিনো ও মেগা দুর্নীতিবিরোধী টিমের অধীনে অভিযোগ অনুসন্ধান করা হবে। অনুসন্ধান কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটর করা হবে।

পাপিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শেখ তায়্যিবা ও তার স্বামী সুমন চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী সাব্বির খন্দকার এই অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছেন। অনুসন্ধান পর্যায়ে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত আরও কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শামিমা নূর পাপিয়া, তার ব্যক্তিগত শেখ তায়্যিবা, পাপিয়ার স্বামী সুমন চৌধুরী ও তার ব্যক্তিগত সহকারী সাব্বির খন্দকারকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। তাদের কাছ থেকে জাল টাকা, ডলারসহ প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা জব্দ করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর গুলশানের পাঁচতারা হোটেল ওয়েস্টিনে পাপিয়ার আস্তানায় হানা দিয়ে এই দম্পতির অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়।

পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন বর্তমানে পুলিশের মামলায় ১৫ দিনের রিমান্ডে আছেন। অনুসন্ধানের সময় তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের খোঁজ করা হবে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তারা বিদেশে অর্থ পাচার করেছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। অনুসন্ধানকালে মালিকানাধীন অর্থসম্পদের বৈধ উৎস সম্পর্কে অভিযুক্তদের সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ দিতে হবে।

রাজধানীর একাধিক পাঁচতারকা হোটেলে নারীদের অনৈতিক কাজে বাধ্য করা ও বিত্তশালীদের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে পাপিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে।

পাপিয়ার নামে রাজধানী ঢাকা ও নরসিংদীতে বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি রয়েছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডে পাপিয়ার বাসায় র‌্যাব অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেক, বেশকিছু বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড উদ্ধার করেছে।

যুব মহিলা লীগের বহিস্কৃত নেত্রী পাপিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকার বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর থানায় পৃথক তিনটি মামলা করেছে র‌্যাব। দুদকের অনুসন্ধানে অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কমিশন আইনে মামলা করা হবে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, পাপিয়ার ওমেনাইজিং বিজনেসের সাথে জড়িত ছিল ১৭শ’ সুন্দরী নারী। এসব নারীদের বিভিন্ন কৌশলে কাজে লাগিয়ে তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন ক্ষমতার শীর্ষস্থানীয়দের কাছে। দেশের ৬৪ জেলায়ই ছিল তার নেটওয়ার্ক।

জানা গেছে, রিমান্ডে স্বর্শকাতর ও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন পাপিয়া। বাংলাদেশ স্কট সার্ভিস লিমিটেড নামে একটি অনলাইন গ্রুপের যাত্রা শুরু হয় পাপিয়ার হাত ধরে। ওই স্কট সার্ভিস থেকেই অভিজাতদের কাছে নারী সরবরাহ করা হতো।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

অবৈধ অর্থ পাচার,পাপিয়া পিউ,হোটেল ওয়েস্টিন,দুদক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close