• শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

কাউন্সিলর রাজীবের শতকোটি টাকার সম্পদের খোঁজ মিলেছে  

প্রকাশ:  ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৩৪ | আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৪১
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

অস্ত্র ও মাদক মামলায় গ্রেফতার ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবের সম্পদের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে শতকোটি টাকার সম্পদের তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, রাজীবের সম্পদের হিসেব-নিকেষ করেও কূল কিনারা করতে সময় লাগছে। তার বিদেশে থাকা সম্পদেরও খোজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

দুদক সূত্র জানায়, রাজীবের দেশ ও দেশের বাইরে কী পরিমাণ সম্পদ রয়েছে তা হিসাব মেলানো কঠিন। অনুসন্ধানে যে পরিমাণ সম্পদের তথ্য মিলেছে তা শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। রাজীবের সব সম্পদ যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই তা বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবে সংস্থাটি।

অনুসন্ধান সূত্র বলছে, গত কয়েক বছরে বাড়ি করার পাশাপাশি হাঁকিয়েছেন কোটি টাকা মূল্যের গাড়িও। রাজীবের ব্যবহৃত চারটি গাড়ির তথ্য দুদকের হাতে রয়েছে। প্রতিটি গাড়ির মূল্য কোটি টাকারও বেশি বলে জানা গেছে।

ঢাকার মোহাম্মদপুর ছাড়াও মিরপুরের কোটি টাকা মূল্যের তিনটি বাড়ি, গুলশানে দুই কোটি টাকার অ্যাপার্টমেন্ট ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাতেও রয়েছে একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট। কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে জোর করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ভুমি দখলের অভিযোগ রয়েছে রাজীবের বিরুদ্ধে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করেছে দুদক। সে অনুযায়ী রাজধানী ছাড়াও গাজীপুর ও আশুলিয়ায় রাজীব বেশকিছু জমি দখল করেছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় নামে বেনামে বেশ কয়েকটি প্লটের তথ্যও রয়েছে ওই অনুসন্ধান টিমের কাছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, কাউন্সিলর রাজীবের সম্পদ অনুসন্ধানে গিয়ে বিপুল তথ্য মিলছে। যা হিসেব-নিকেষ করেও কূল কিনারা করতে সময় লাগছে। এখনও অনুসন্ধান শেষ হয়নি। তবে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এসব তথ্য নেয়ার পর যাচাই বাচাই করে রাজীবের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়ায় যাওয়া হতে পারে।

কাউন্সিলর রাজীবের দেশে এত সম্পদের পাশাপাশি দেশের বাইরে কী পরিমাণ রয়েছে তার খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

কাউন্সিলর হয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় জমি আর প্লট দখল করে গড়েছেন সাম্রাজ্য। তিনি মোহাম্মদপুরের স্বঘোষিত জনতার কমিশনার তারেকুজ্জামান রাজিব। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে গড়েছেন শত কোটি টাকার সম্পদ। ছয় হাজার টাকার ভাড়া বাসা থেকে ওঠেন ৬ কোটি টাকার ডুপ্লেক্স বাড়িতে। র‌্যাব-এর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর এসব অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

রাজীবের চলাফেরা আর বেশভূষা দেখলে হঠাৎ মনে হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো রাজা বাদশা। কোথাও গেলে সঙ্গে থাকে গাড়ির বহর আর মোটর বাইকের শোডাউন। আশেপাশে কেউ ধরে রাখে ছাতা। ইচ্ছে হলেই বদলান গাড়ির মডেল। অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদপুরের রহিম ব্যাপারির ঘাটে আব্দুল হক নামের এক ব্যাক্তির ৩৫ কাঠার প্লট দখলে রেখেছেন রাজিব। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে যুবলীগের কার্যালয়। সরেজমিনে দেখা যায় রাজিব গ্রেফতার হওয়ার পর এখনো সেখানে শক্ত অবস্থান তার অনুসারীদের।

এসব ছাড়াও মোহাম্মদিয়া হাউজিং, চাঁন উদ্যানসহ নানা জায়গাই বেশকিছু প্লট দখলে রেখেছেন রাজিব।পাবলিক টয়লেট নির্মাণের মাধ্যমে জমি দখল করে দোকান গড়ে তুলেছেন।

তারেকুজ্জামানকে ২০ অক্টোবর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে কাউন্সিলর তারেকুজ্জামানকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। তাঁর বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর এলাকায় বাড়ি দখল জমি দখলসহ নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে।

তারেকুজ্জামান রাজীব ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তিনি মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এক মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আবার ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন তিনি।

পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

কাউন্সিলর রাজীব,যুবলীগ,রাজনীতি,দুদক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত