• বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

বাংলাদেশ ব্যাংকের বহিষ্কৃত উপ-পরিচালক তন্ময়ের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

প্রকাশ:  ০২ নভেম্বর ২০১৯, ১৪:২৬ | আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:২৪
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

বাংলাদেশ ব্যাংকের বহিষ্কৃত উপ-পরিচালক তাওফিক উস সামাদ তন্ময়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, প্রতারণা ও নারী নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নির্যাতিতার পরিবার।

শনিবার (০২ নভেম্বর) সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১ ফেব্রুয়ারি পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তাওফিক উস সমাদ তন্ময়ের সাথে কানিজ ফাতেমা অনির বিয়ে হয়। বিয়ের ১৮ দিন পর ১৮ ফেব্রুয়ারি সহকর্মীর ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হয় তন্ময়। পরে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করে তন্ময়কে জামিনে বের করা হয়। জেলে থাকা অবস্থায় তার সম্পর্কে একাধিক মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের বিষয় প্রকাশ পায়। এরপরই শুরু হয় অনির উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। সাইফুর’স এর শেয়ার কেনার জন্য ১৫ লাখ টাকা যৌতুক চায় তন্ময়।

অনির খালা রকসি রহমান বলেন, অনির খালা রকসি রহমান বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টায় অনি তাকে ফোন দেয় খালামনি আমাকে বাঁচাও। মেয়েকে বাঁচাতে আমরা তার বনানীর বাসায় যাই। বাসায় ঢুকতে দেয়া হয়নি, নিরাপত্তা প্রহরীর সহযোগীতায় বাসায় ঢুকে দেখি ভাগ্নি মৃতপ্রায় অবস্থায় ফ্লোরে কাতরাচ্ছে। তাকে উদ্ধার করে বনানী থানায় জিডি করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করি। গত ১ অক্টোবর বনানী থানায় নারী ও যৌতুকের মামলা করি। পরে গত ১৭ অক্টোবর পূর্বের একাধিক বিবাহের কথা গোপন করার কারণে আরেকটি প্রতারণার মামলা করি কোর্টে। যা পিবিআইতে তদন্তাধীন।

তিনি তন্ময়ের অতীত সম্পর্কে বলেন, তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের নামে প্রতারণা করে আসছে শত শত মেয়ে ও তাদের পরিবারের সাথে। দাওয়াত গ্রহণ করে ও উপঢৌকন দিয়ে সম্পর্ক স্থাপন করে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে এবং সেগুলোর ছবি ও ভিডিওচিত্র ধারণ করে হাতিয়ে নেয় মোটা অংকের টাকা। কলেজ লাইফ থেকে করে আসছে বিভিন্ন মেয়ে ও মহিলার সাথে শারীরিক সম্পর্ক। আর তার এই অবৈধ যৌনাচার ও প্রতারণার দোসর তার পরিবার, বিশেষত তার বাবা। ছাত্রজীবনে টিউশনির নামে বাসায় ঢুকে ছাত্রীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছে। বাদ যায়নি ছাত্রী/ছাত্রের মা, বড় বোন বা মামী। সেগুলো ভিডিও করে রেখে বিভিন্ন সময়ে টাকা ও অন্যান্য সুবিধা গ্রহণ করেছে তন্ময় ও তার পরিবার।

তিনি আরো বলেন, আর ঠিক এভাবেই প্রেমের ফাঁদে ফেলে যুগ্ম সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ ও ডা. হোসনে আরার একমাত্র নাবালিকা কন্যাকে। এক পর্যায়ে বিয়ে হয় ২০১২ সালে। যৌতুক ও উপঢৌকন দেয়ার পরও চলে অমানসিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। বাধ্য হয়ে ডিভোর্স হয়, ইজ্জত রক্ষায় চুপ হয়ে যান সচিব পরিবার।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে তার পরিবার মেয়ে দেখার নামে দাওয়াত খেয়ে বেড়ায়। তার প্রোফাইল, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ইম্প্রেসিভ কথোপকথন, সরল শিশুসুলভ আচরণের অভিনয় এবং পরিবার সংযুক্ত থাকায় মেয়ে ও মেয়ের পরিবারের আস্থা অর্জন করে ফেলে খুব সহজেই। যেমনটি আমাদের ক্ষেত্রেও হয়েছে। আইনগতভাবে বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে বিবাহবিডি ডট কমে রেজিস্ট্রেশন করে বিভিন্ন মেয়ের সাথে প্রতারণার অভিযোগে বিবাহ বিডি কর্তৃপক্ষ তন্ময়ের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তার বিরুদ্ধে জনৈক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত বছর ২৯ অক্টোবর তাকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সাময়িক বরখাস্ত করে।

প্রাইম ব্যাংকের সিইও এক সিনিয়র মহিলার সাথে তার সম্পর্ক রয়েছে। ব্রাক ব্যাংকের রিলেশনশিপ অফিসার এক মেয়েকে নিয়ে নিয়মিত যায় বনশ্রীতে অবস্থিত বন্ধুর ফ্ল্যাটে। এসকল ঘটনা জানাজানি হওয়ায় ফাইনান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ডিপার্টমেন্টে বদলি হয়ে আসে। এছাড়া, দীর্ঘদিন ধরে এক মেয়ের সাথে স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে সাবলেট নিয়ে থেকেছে। উত্তরাতে এক বাসায় বিগত কয়েক মাস যাবত যাতায়াত করছে ব্রাক ইউনিভার্সিটির এক মেয়েকে নিয়ে। তন্ময়ের এসব অপকর্ম তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অনির পরিবার।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এস.খান

তাওফিক উস সামাদ তন্ময়
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত