• বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

অর্থ পাচার: বিএসইসির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক

প্রকাশ:  ২২ আগস্ট ২০১৯, ১৪:১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএসইসি চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন। ফাইল ছবি

শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরীকে বিষয়টি অনুসন্ধানের দায়িত্ব দিয়ে গত ৭ অগাস্ট একটি চিঠি দেন কমিশনের পরিচালক (মানি লন্ডারিং) ও বিকল্প পরিচালক (গোয়েন্দা ইউনিট) গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী।

‘অতীব গোপনীয়’ ওই চিঠির বিষয়ের জায়গায় বলা হয়েছে, ড. এম খাইরুল হোসেন, চেয়ারম্যান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গোষ্ঠীর যোগসাজশে দুর্বল কোম্পানির শেয়ার (ইনিশিয়াল পাবলিক অফার -আইপিও) অনুমোদন করিয়ে শেয়ার বাজারে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করার অভিযোগ।

চিঠিতে বলা হয়, উপযুক্ত বিষয়ে সূত্রস্ত নথিতে রক্ষিত অভিযোগসমূহের বিষয়ে অতীব গোপনে তথ্য সংগ্রহপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নিমিত্ত আপনাকে (মামুনুর রশীদ চৌধুরী) অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

আরও বলা হয়, উক্ত সিদ্ধান্তের আলোকে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অতিদ্রুত গোপনীয়ভাবে অসুসন্ধানকার্য সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।

সূত্র জানিয়েছে, ২০১০ সালে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধস নামে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটির সুপারিশের আলোকে বিএসইসির পুনর্গঠনও করে সরকার। পরবর্তিতে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা, বিভিন্ন অনিয়ম ও আইনী দূর্বলতা দূর করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে ড. খায়রুল হোসেনের নেতৃত্বে নতুন কমিশন দায়িত্ব নেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের মে মাসে তিনি বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে তৃতীয় মেয়াদে নিয়োগ পান। তবে টানা দায়িত্ব পালন করলেও আইপিও ও প্লেসমেন্ট নিয়ে বিতর্ক এড়াতে পারেনি বিএসইসি।

নিম্নমানের কোম্পানির তালিকাভুক্তি, অযৌক্তিক প্রিমিয়াম ও লাগামহীন প্লেসমেন্ট বানিজ্যের অনুমতির মাধ্যমে কিছু কোম্পানিকে পুঁজিবাজারকে টাকা বানানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছেন এসইসির চেয়ারম্যান ড. খায়রুল হোসেন। অচেনা, স্বল্প পরিচিত বিভিন্ন কোম্পানি আইপিও প্রসপেক্টাসে তথ্য অতিরঞ্জিত ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আয় ফুলিয়ে ফাপিয়ে দেখালেও কয়েক বছরের মধ্যেই কোম্পানির আসল চিত্র বেরিয়ে এসেছে। আইপিওর অনুমোদন পাওয়ার দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয়ে (ইপিএস) মারাত্মক অবনতি দেখা দিয়েছে।

সর্বশেষ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি কপারটেক লিমিটেডকে তালিকাভুক্তি করতে ঘাম ঝরাতে হয়। দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ওই কোম্পানির তালিকাভুক্তির ব্যাপারে আপত্তি থাকলেও বিএসইসি চাপ প্রয়োগ করে তালিকাভুক্ত করে।

পুঁজিবাজারে চলমান অস্থিরতার মধ্যে সরকার বিভিন্ন ধরনের নীতি প্রণয়ন, ডিমিউচুয়ালাইজেশনসহ বিভিন্ন ধরনের সংস্কার নিয়ে এলেও বাজার স্থিতিশীল করা যায়নি বলে বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করে আসছেন।

পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সম্প্রতি বিএসইসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতেও দেখা গেছে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

অর্থ পাচার,দুদক,বিএসইসি,বিএসইসি চেয়ারম্যান,ড. এম খায়রুল হোসেন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close