• রোববার, ০৫ জুলাই ২০২০, ২১ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||
শিরোনাম

যেভাবে পূর্বপশ্চিমের শিপনকে চোখ বেঁধে তুলে নেওয়া হয়েছিল

প্রকাশ:  ০৮ আগস্ট ২০১৯, ২১:৩২ | আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ০৭:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

অপহরণের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর অনলাইন নিউজপোর্টাল পূর্বপশ্চিমবিডি নিউজের সাংবাদিক শিপন মন্ডলের (অভি) সন্ধান মিলেছে। দুর্বৃত্তরা ফেনির সদর উপজেলার ফাজিলপুর এলাকার একটি নির্জন রাস্তায় তাকে গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে চলে যায়।অপহরণকারীদের অস্ত্রের মুখে রুদ্ধশ্বাস সময় পার করে শিপন প্রাণ নিয়ে নিজ পরিবারে ফিরেছেন।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার নয়ামাটি এলাকায় নিজ বাড়ির পাশ থেকে মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে শিপন মণ্ডলকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এর প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর বুধবার ফেনির সদর উপজেলার ফাজিলপুর এলাকার একটি নির্জন রাস্তায় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে গাড়ি থেকে ফেলে দিয়ে চলে যায় তারা।

সম্পর্কিত খবর

    শিপন মণ্ডল জানান, কেনাকাটার প্রয়োজন বাইরে বের হলে একটি মাইক্রোবাস তার পথ আগলে দাড়ায়। ওই সময় মাইক্রোবাসের এক আরোহী একটুকরা কগজ তার দিকে এগিয়ে দিয়ে ঠিকানাটা কোথায় জানতে চান। শিপন কাগজটা দেখতে হাত বাড়ালে, আরোহী মাইক্রো থেকে নেমে এসে ওই কাগজ তার নাকেমুখে চেপে ধরেন। অচেতন হওয়ার আগে শিপন টের পান, গাড়ি থেকে নেমে আসা আরও দুইতিনজন তাকে টেনে হিচড়ের মাইক্রোতে তুলছে। একজন তার চোখ বেঁধে ফেলে । ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পর্যায়ে শিপন অচেতন হয়ে পড়েন।

    তিনি জানান, সকালের দিকে টের পান এখনো গাড়িতেই আছেন। পরে তাকে রুটি খেতে দেওয়া হয়। এরপর আবারও ঘুমিয়ে পড়েন শিপন। সন্ধ্যার পর একটা নির্জন স্থানে পৌঁছে শিপনকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে গাড়িটি চলে যায়। স্থানীয়দের কাছে জানতে পারেন, জায়গাটি হলো ফেনির ফাজিলপুর। সেথান থেকে পরে পূর্বপশ্চিমের ফেনী জেলাপ্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল মামুনের সহায়তায় শিপন ঢাকা ফিরে আসেন।

    কী কারণে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল তা নিশ্চিত নন শিপন। তবে দুবৃত্তদের কথাবার্তা থেকে তার ধারণা, ভুলবশত তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। শিপনের মানিব্যাগে তার আইডি কার্ড পেয়ে দুবৃত্তরা তাদের ভুল বুঝতে পারে। চোখ বেঁধে রাখা শিপনের কাছে তারা জানতে চান, তুমি সাংবাদিক নাকি?

    শিপন মন্ডল জানান, এসময় তারা বলাবলি করছিল, এটা তো সেই লোক না। ওদের মধ্যে নেতা টাইপের একজন বলে ওঠেন, লাল গেঞ্জি বলেছি দেখেই যারে পাবি তারে ধইরা আনবি। যা এখনই এটাকে কোথাও ফেলে দিয়ে আয়।

    দুবৃত্তরা শিপনকে কোনো ধরনের মারধর বা শারীরিক নির্যাতন করেনি। এসময় শিপনের মোবাইল বন্ধ ছিল। বারবার কল করে তাকে না পেয়ে তার পরিবার, স্বজন এবং অফিস কলিগরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

    এদিকে শিপনের বাবা-মা ছোটবোন তাকে না পেয়ে পাগলের মতো ছোটাছুটি করছিলেন। ছেলেকে ফিরে পেয়ে পূর্বপশ্চিমকে শিপনের বাবা বিজয় মন্ডল বলেন, ‘যারা আমার ছেলেকে উদ্ধারে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার ছেলের সাথে কারো কোনো দ্বন্দ্ব আছে বলে আমার জানা নেই। কী কারণে তাকে তুলে নিয়ে গেল তা আমি জানি না।’

    এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার শিপন মন্ডল বাদি হয়ে ফতুল্লা থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে অভিযোগ দায়ের করেছেন।ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন জানান, শিপন মন্ডলের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    পূর্বপশ্চিমবিডি/ এআর/এনই

    শিপন মন্ডল
    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close