• সোমবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ১৬ মাঘ ১৪২৯
  • ||

প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদকে অভিযোগ

প্রকাশ:  ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৩৪ | আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৫৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভুঁইফোড় কোম্পানির মাধ্যমে দুর্নীতি ও জালিয়াতি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাজ্জাদ খান, জাফর মীর ও সৈয়দ হারুন অর রশিদ চক্রের বিরুদ্ধে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো ওই অভিযোগে বলা হয়, একটি দুর্নীতিবাজ ও অসৎ, জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা একেক সময় একেক নামে, একেক স্থানে ভুঁইফোড় মাল্টি পারপাস কোম্পানি ও সঞ্চয় সমিতির নামে একাধিক কোম্পানি করে সঞ্চয়/সমিতির অফিস খুলে নিরীহ মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

বর্তমানে এই চক্রটি অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকার মালিক সেজেছে। এদের আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজনদের নামে বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছে। এই চক্রটির সর্বশেষ অফিস এখন ঢাকার মিডর্ফোট হাসপাতাল, বাবু বাজার ও সদরঘাট-কেরানীগঞ্জ এলাকায় অবস্থান করে কতিপয় দালালদের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ ব্যবসার নামে অসংখ্য মানুষের টাকা লুটপাট করছে।

চক্রটির কথিত অফিসের নাম ‘রুপালী সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতি’। যার কর্ণধার সাজ্জাদ খান ও জাফর মীর। এ ছাড়া অপর কোম্পানি ‘মধুমতি কো-অপারেটিভ লিমিটেড’, যার এমডি সৈয়দ হারুন অর রশীদ।

এরা দীর্ঘ দিন যাবত দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু দিনের জন্য অফিস নিয়ে সেখান থেকে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের থেকে লাখো টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়। কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থেকে তাদের নিজ এলাকা গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানাধীন দস্তন গ্রামে গিয়ে স্থানীয় কিছু দালাল ও মোড়লদের ম্যানেজ করে তারা সুদের উপর টাকা লাগিয়ে গ্রামের হতদরিদ্র ও নিরীহ মানুষদের জায়গা-জমি, ভিটে-মাটি দখল করে নিয়ে অসংখ্য পরিবারকে সর্বস্বান্ত করে দিয়ে পথে বসিয়েছে।

তাদের অত্যাচারে অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। তাদের হঠাৎ করে সম্পদশালী হওয়ার রহস্য নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যকর অবস্থা তৈরি হয়। এখন ঘরে ঘরে সঞ্চয় সমিতি ও চড়া সুদে লেনদেনের প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে।

এদের সম্পর্কে স্থানীয় জনৈক শিক্ষক ও একজন মুক্তিযোদ্ধা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, এই সুদ ব্যবসায়ী ‘রুপালী সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতির’ কর্ণধার সাজ্জাদ খান প্রায় আট বছর আগে এলাকার জয়নগর বাজারে মুদি দোকানে কাজ করতো। রাতের বেলায় বিভিন্ন দোকানের বেড়া কেটে এবং কখনো কারও দোকানের গ্রিল কেটে বিভিন্ন মালামাল এবং টাকা-পয়সা চুরি করতো। এই চক্রটি বাজারে ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়লে সেখান থেকে পালিয়ে এলাকা ছাড়া হয়েছিল। তারাই এখন অবৈধ উপায়ে কোটিপতি হয়ে এলাকায় এসেছে। সমাজের একি করুণ পরিণতি দেখছি!

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে এই দুর্নীতিবাজ চক্রটিকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে উক্ত ‘মধুমতি কো-অপারেটিভ লিমিটেড’, যার এমডি সৈয়দ হারুন অর রশীদ ও ‘রুপালী সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতি’, যার কর্ণধার সাজ্জাদ খান ও জাফর মীরসহ এদের পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের সকল সম্পদের হিসাব নেওয়াসহ এদের বিষয়ে জরুরি কার্যকরী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দুদক চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

আদালত,দুদক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close