• মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
  • ||

মিতু হত্যা: কে হচ্ছেন দুই মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা

প্রকাশ:  ২২ নভেম্বর ২০২১, ২২:৪২
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমাকে মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) পদায়ন করা হয়েছে। তিনি চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডে দায়ের দুটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) ছিলেন। তার পদায়নের কারণে মামলা দুটিতে নতুন করে আইও নিয়োগ করতে হচ্ছে পিবিআইকে। ফলে দেশজুড়ে আলোচিত এ দুটি মামলার তদন্তভার কার হাতে যাচ্ছে তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সন্তোষের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটে সদ্য যোগদান করা পুলিশ পরিদর্শক একেএম মহিউদ্দিন সেলিম। কয়েকদিন আগে তাকে পিবিআই জেলা ইউনিট থেকে মেট্রো ইউনিটে পদায়ন করা হয়। সোমবার (২২ নভেম্বর) তিনি মেট্রো ইউনিটে যোগদান করেছেন৷ ইতোমধ্যে তাকে মিতু হত্যাকাণ্ডের দুটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও মুখ খুলছেন না চট্টগ্রাম পিবিআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা৷

সম্পর্কিত খবর

    এ বিষয়ে জানতে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানাকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে ইউনিটটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুনায়েদ কাউসার সোমবার (২২ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে বলেন, সন্তোষ কুমার চাকমার বদলিজনিত কারণে মিতু হত্যাকাণ্ডে দায়ের হওয়া দুটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এখনো কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। শিগগিরই নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

    জানা গেছে, সম্প্রতি চট্টগ্রামের আলোচিত পিবিআই কর্মকর্তা সন্তোষকে বদলি করা হয়েছে। ক্লুলেস বিভিন্ন মামলার জট খুলে সুনাম অর্জন করায় তাকে পিবিআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ মামলার দায়িত্ব দেওয়া হতো। পিবিআইয়ে দায়িত্বকালীন সময়ে এ বছরের ২৬ এপ্রিল তিনি বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকার একটি নালিশি মামলার প্রতিবেদন দেন। এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে ভাঙচুর, চুরি, চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাটিতে তিনি মোট ১৪ জনকে আসামি করেন। ওই ১৪ জনের মধ্যে রাশেদুল ইসলাম বাবু (২৭) ও সুজন গাজী (৩৫) নামে দুজনকে তিনি আসামি করেন, যারা মামলার ঘটনার সময়কালীন তারা অন্য আরেকটি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন।

    ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরের নিজাম রোডে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহমুদা খানম মিতু। ওই সময় এ ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে দুটি মামলা হয়। প্রথম মামলার বাদী তার স্বামী বাবুল আক্তার। কিন্তু মামলার তদন্তে হত্যাকাণ্ডে বাদী বাবুলের সম্পৃক্ততা পান তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা। তাই ওই মামলায় গত ১৬ মে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন তিনি। একই দিন পাঁচলাইশ থানায় মিতুর বাবা মোশাররফ বাদী হয়ে আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দ্বিতীয় মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বাবুল আক্তারকে। সে মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন বাবুল।

    এদিকে, প্রথম মামলায় পিবিআইয়ের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত ১৪ অক্টোবর নারাজির আবেদন করেন বাবুল আক্তারের আইনজীবী। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ নভেম্বর নারাজি ও পিবিআইয়ের প্রতিবেদন খারিজ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের আদেশ দেন। এরপর ১৪ নভেম্বর বাবুলের আইনজীবী মামলার তদন্ত সংস্থা ও কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করেন। আদালত ১২ ডিসেম্বর আবেদনটির শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।

    পিপি/জেআর

    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close