• মঙ্গলবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
  • ||

এমপিওর মামলা: ৩ শিক্ষকের কথা শুনে যা বললেন প্রধান বিচারপতি

প্রকাশ:  ২৬ অক্টোবর ২০২১, ২২:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষকতা করার পরেও এমপিওভুক্ত না হওয়াই প্রায় ১৮ বছর ধরে বেতন-ভাতা না পেয়ে হাইকোর্টের দারস্থ হন তিন শিক্ষক। এরপরে হাইকোর্ট তাদেরকে এমপিওভুক্ত করার আদেশ দেন। কিন্তু ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল করেন রাষ্ট্রপক্ষ।

এরপরে কোনো আইনজীবী ছাড়াই আপিল বিভাগে মামলার শুনানিতে যুক্ত হন এক শিক্ষক। শুনানির সময় গত ১৮ বছর ধরে তাদের বেতন না পাওয়ার ব্যথা, দুঃখ ও কষ্টের বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে জানান ওই শিক্ষক। পরে এ বিষয়ে আরও শুনানি ও আদেশের জন্যে আগামী ২ নভেম্বর দিন ধার্য করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

সোমবার (২৫ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সেই বেঞ্চের শুনানিতে যুক্ত হয়ে শিক্ষকের পক্ষ থেকে দ্রুত এ লিভ টু আপিল নিষ্পত্তির আর্জি জানানো হয়।

এর আগে এমপিও সুবিধা পেতে ২০১৬ সালে হাইকোর্টে রিট করেন বগুড়ার জাহিদুর রহমান মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক মিজানুর রহমান, ইসমত আরা ও সেলিনা আক্তার। রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালে হাইকোর্ট এ শিক্ষকদের পক্ষে রায় দেন। তবে সেই রায়ের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। কিন্তু করোনাকালীন বাস্তবতায় এ বিষয়ে আর শুনানি হয়নি।

এখন তিন শিক্ষক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির ভার্চুয়াল বেঞ্চে সংযুক্ত হয়ে দ্রুত এ লিভ টু আপিল শুনানি চান। একই সঙ্গে গত ১৮ বছর বেতন না পাওয়ার দুঃখ-কষ্টের কথা তুলে ধরেন। কোনো আইনজীবী না নিতে পেরে শিক্ষক ইসমত আরা নিজেই আপিল বিভাগে কথা বলেন।

একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা ১৮ বছর বেতন পাচ্ছেন না বলেলন। আপনাদের দুঃখ-কষ্ট আছে বুঝলাম। কিন্তু আমাদের তো আইন অনুযায়ী বিচার করতে হবে। আইন তো আর দুঃখ কষ্টের কথা বুঝবে না। আইন তো কাজ করবে তার নিজস্ব গতিতে। শিক্ষকদের এমপিও নিয়ে এর আগেও আমাদের সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া কয়েকটি সিদ্ধান্ত আছে, সেগুলোও দেখতে হবে। তাই কি আদেশ হবে, সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ আইন মেনেই আমাদের আদেশ দিতে হবে। তবে আপনাদের মানবিক দিকটাও আমরা দেখবো।

এ পর্যায়ে সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নিজেদের মামলা নিজেরাই লড়ার প্রেক্ষাপটে তাদের পক্ষে আইনজীবী নিযুক্ত করার বিষয়টি ওঠে আসে। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ আদালতকে বলেন, তাদের পক্ষে একজন আইনজীবী থাকলে ভালো হতো।

তখন ভার্চুয়াল আদালতে যুক্ত থাকা সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী আদালতকে বলেন, আমি তাদের পক্ষে মামলাটি লড়তে রাজি আছি। তখন আপিল বিভাগ আইনজীবীকে বিনা খরচে এ মামলাটি পরিচালনা করতে বলেন। তখন অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী এ মামলার ওকালতনামাসহ আনুষঙ্গিক সব খরচ নিজেই করবেন বলে আদালতকে জানান।

এরপর আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। এখন আদালতের ধার্য তারিখে জানা যাবে, ১৮ বছর পর তিন শিক্ষকের ভাগ্যে কী জোটে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

শিক্ষক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

ঘটনা পরিক্রমা : শিক্ষক

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close