• রোববার, ০৯ মে ২০২১, ২৬ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

চার পরিবারকে ১ কোটি টাকা দিতে হবে ইউনাইটেড হাসপাতালের

প্রকাশ:  ২৯ এপ্রিল ২০২১, ২০:৪১
নিজস্ব প্রতিবেদক
গত বছরের ২৭ মে রাতে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে আগুন লাগে। ফাইল ছবি

রাজধানীর গুলশানে বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়া পাঁচ ব্যক্তির মধ্যে চারজনের প্রত্যেকের পরিবারকে আপাতত ২৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

আদেশ পাওয়ার এক মাসের মধ্যে ওই হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষকে পরিবারগুলোকে এ টাকা দিতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দিতে এর আগে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের করা লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত ছয় বিচারপতির ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ।

এ বিষয়ে করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত ১১ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ রুলসহ অন্তবর্তীকালীন এক আদেশে চার পরিবারকে আপাতত ৩০ লাখ টাকা করে দিতে নির্দেশ দেয়। এ আদেশ স্থগিত চেয়ে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গত ১৭ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশটির ওপর আট সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিষয়টি আপিল বিভাগে শুনানির জন্য আসে। ভার্চুয়ালি ইউনাইটেড হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও তানজিব-উল আলম।

রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অনীক আর হক, হাসান এম এস আজিম, মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ ও নিয়াজ মোহাম্মদ মাহবুব।

ব্যারিস্টার অনীক আর হক জানান, আপিল বিভাগ অন্তর্বর্তীকালীনভাবে চার পরিবারকে ক্ষতিপূরণের ২৫ লাখ টাকা করে মোট এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আগামী এক মাসের মধ্যে এই টাকা পরিশোধ করতে হবে। তবে এই এক কোটি টাকা চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণ নয়। হাইকোর্টে মামলাটির রুল শুনানি পেন্ডিং রয়েছে। সেখানে চূড়ান্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হবে।

গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনাভাইরাসের রোগীদের জন্য স্থাপিত আইসোলেশন ইউনিটে গত বছরের ২৭ মে আগুন লেগে পাঁচজন রোগী মারা যান। এর মধ্যে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়।

নিহতদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও একজন নারী। তারা হলেন রিয়াজুল আলম (৪৫), খোদেজা বেগম (৭০), ভেরুন অ্যান্থনি পল (৭৪), মো. মনির হোসেন (৭৫) ও মো. মাহবুব (৫০)।

এ ঘটনায় বিচারিক তদন্ত এবং ক্ষতিপূরণ চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট আবেদনের পর ওই বছরের ১৫ জুলাই হাইকোর্ট চার পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়।

নিহত একজনের পরিবারের (মনির হোসেন) সঙ্গে ক্ষতিপূরণের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সমঝোতা হওয়ায় এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা তখন দেয়নি হাইকোর্ট। পরে হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে ইউনাইটেড হাসপাতাল আপিল বিভাগে আবেদন করলে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত ২১ জুলাই আদেশটি স্থগিত করে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। এরপর ২০ আগস্ট আপিল বিভাগ এক আদেশে এ ঘটনায় বিচারিক তদন্ত চেয়ে করা রিট আবেদন হাইকোর্টের নিয়মিত বেঞ্চে নতুন করে উপস্থাপন করতে নির্দেশ দেয়।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

ইউনাইটেড হাসপাতাল,করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close