• রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
  • ||

‘মিডিয়ার প্রেসারে সম্রাটকে কারাগারে থাকতে হচ্ছে’

প্রকাশ:  ২০ অক্টোবর ২০২০, ১৭:০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ খ্যাত ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য ৩০ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ অস্ত্র ও মাদক মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেন। এরপর বিচারক অস্ত্র ও মাদক আইনে করা দুই মামলার অভিযোগ গঠনের জন্য ৩০ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে সম্রাটকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

সম্রাটকে আদালতে হাজির করার খবরে সকাল থেকেই তার সমর্থকরা আদালত পাড়ায় ভিড় জমান। তারা সম্রাটের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে সম্রাটকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের দ্বিতীয় তলার এজলাসে নেওয়া হয়। এ সময় তার সমর্থকরা স্লোগান দিতে দিতে ওপরে ওঠেন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারক। তিনি স্লোগান বন্ধ করার জন্য সম্রাটের আইনজীবীদের বলেন। আইনজীবীরা সম্রাটের সমর্থকদের বুঝিয়ে স্লোগান বন্ধ করান।

১১টা ৪০ মিনিটে সম্রাটের দুই মামলায় শুনানি শুরু হয়। শুনানি শুরুর আগে সাধারণ আইনজীবীদের বের করে দেন বিচারক। সম্রাটের ওকালতনামায় যেসব আইনজীবীর স্বাক্ষর নেই তাদেরও বেরিয়ে যেতে বলেন বিচারক। এ নিয়ে বিচারকের সঙ্গে সম্রাটের আইনজীবীদের বাকবিতণ্ডা হয়।

আইনজীবীরা বলেন, অনেক সিনিয়র আইনজীবীর স্বাক্ষর ওকালতনামায় থাকে না। তারা এসে শুনানি করেন।

সম্রাটের পক্ষে গাজী জিল্লুর রহমান, আফরোজা শাহানাজ পারভীন (হীরা), মাহবুবুল আলম দুলাল শুনানি করেন। শুনানিতে তারা বলেন, ‘সম্রাট জনপ্রিয় নেতা। তাকে ভিকটিমাইজ করার জন্য যা যা করার দরকার, তা করা হয়েছে। নেতাকর্মীরা তাকে ভালোবাসে। এ জন্যই শত শত নেতাকর্মী আজ আদালতে ছুটে এসেছে তাকে দেখতে, তার মুক্তির দাবি নিয়ে’।

তারা আরো বলেন, ‘১৯৯৯ সালে সম্রাটের হৃৎপিণ্ডের বাল্ব রিপ্লেস করা হয়। নিয়মিত চেকআপের জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হয়। দেশে এ রোগের প্রোপার ট্রিটমেন্ট নেই। জামিন পেলে তিনি ট্রিটমেন্টের জন‌্য বিদেশে যাবেন’।

আইনজীবীরা দাবি করেন, সম্রাটের বিরুদ্ধে করা অস্ত্র ও মাদক মামলার ভিত্তি দুর্বল। অফিসে হরিণের চামড়া রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৬ মাসের সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। সম্রাট অসুস্থ। আমরা তার জামিন চাই। তিনি এক বছরের বেশি সময় ধরে জেলে। অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মিডিয়ার প্রেসারের কারণে অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তাকে হাসপাতাল ছেড়ে জেলে থাকতে হচ্ছে। তাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়ছে। তাকে জবাই করা হয়েছে। তাকে বাঁচতে দিন। বেঁচে থাকলে বিচার হবে।

আরমানের পক্ষে শুনানি করেন সাইফুল ইসলাম সুমন। রাষ্ট্রপক্ষে সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জানান, জামিনের আদেশ পরে দেওয়া হবে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

কারাগার,মিডিয়া,ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট,আদালত,মামলা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close