• রোববার, ২৯ মার্চ ২০২০, ১৫ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

সংবাদমাধ্যম ঠিকমত কাজ করতে পারলে, রাষ্ট্রের তিন স্তম্ভ ঠিক থাকবে: হাইকোর্ট

প্রকাশ:  ১৭ মার্চ ২০২০, ১৫:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবাদমাধ্যম যদি ঠিকমত কাজ করতে পারে, তাহলে রাষ্ট্রের অন্য তিনটি স্তম্ভ (শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ) ঠিক থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি সরদার মোহাম্মদ রাশেদ জাহাঙ্গিরের দ্বৈত বেঞ্চ সোমবার (১৬ মার্চ) এ মন্তব্য করেন।

একইসঙ্গে, ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে সাজা দেয়ার সকল নথিপত্র তলব করেছে হাইকোর্ট। আগামী ২৩শে মার্চ সোমবার সাংবাদিক আরিফুল আসলামকে সম্ভব হলে হাজির হয়ে প্রকৃত ঘটনা জানাতে বলেন আদালত।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন ও আইনজীবী ইশরাত হাসান। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশিস ভট্টাচার্য্য।

এর আগে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে দেওয়া মোবাইল কোর্টের সাজার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রোববার বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক হারুন-অর-রশীদ জনস্বার্থমূলক রিট করেন। সে রিটে আরিফুলের জন্য ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়।

শুনানির শুরুতেই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দেবাশিস ভট্টাচার্য হাইকোর্টকে জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এক অভিযোগের ভিত্তিতেই ১৩ জনের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুইজন সাক্ষি ও অন্যান্য মানুষের উপস্থিতিতে আরিফুলকে সাজা দেন। আর এসবকিছু আইন অনুসারে করা হয়।

এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেয়া সাজার আদেশ হাইকোর্টকে জানিয়ে বলেন, মদ ও গাজা সেবনরত অবস্থান আরিফুলকে ধরা হয় এবং সে দোষ স্বীকার করেন। এরপর অপরাধ আমলে গ্রহণ করে ১০০ গ্রাম গাজা এবং ৪৫০ গ্রাম ইথাইল (বাংলা মদ) জব্দ করা হয় এবং আরিফুলকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

তবে রিটের পক্ষের আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন আদালতকে বলেন, ওই সাংবাদিক যদি তার রিপোর্ট ভুল করে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে মানহানীর মামলা দেওয়া যেত, অথবা অন্যান্য আইনে মামলা করা যেত। কিন্তু সেখানে তা, না করে বাড়ি থেকে গভীর রাতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্ষমতা আছে বলে কোনো নাগরিককে রাতের বেলা ধরে এনে এভাবে সাজা দেওয়া যায় না। এটা ক্ষমতার অপব্যবহার। এমনকি ওইদিন আশপাশের আর কোনো বাড়িতে তল্লাশী করা হয়নি। এতে প্রমাণ হয় ওই অভিযান ও মোবাইল কোর্ট উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে পরিচালনা করা হয়েছে।

এসময় আদালত বলেন, আপনাদের বক্তব্য তো শুনলাম। তবে এক্ষেত্রে মূল হচ্ছে, সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম যেন ন্যায় বিচার পান সেটি। তবে এটা বলতে হবে যে, এক্ষেত্রে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর পদক্ষেপটি ভাল লেগেছে।

তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। এবং অন্যদিকে গতকাল আরিফুলকে জামিন দেয়া হয়েছে।

এরপর হাইকোর্ট জানতে চান যে, আরিফুলের জামিন কিভাবে হয়েছে? তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, ওই সাজার বিরুদ্ধে আপিল করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন। এসময় আদালত বলেন, পত্রপত্রিকায় লেখা দেখলাম আরিফুলের পরিবার থেকে জামিন আবেদনের আগেই নাকি জামিন হয়েছে?

এসময় রিটের পক্ষের আইনজীবী আমিন উদ্দিন আদালতকে বলেন, মাই লর্ড, আপনারা মামলার নথিটা তলব করে সবকিছু দেখতে পারেন।

এরপর আদালত আরিফের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের দেয়া মামলা ও সাজা সংক্রান্ত সকল নথি আগামী ২৩ মার্চের মধ্যে হাইকোর্টে দাখিলের নির্দেশ দেন এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য ২৩ মার্চ দিন ধার্য করেন।

পূর্বপশ্চিমবিডি/অ-ভি

হাইকোর্ট,স্তম্ভ,রাষ্ট্র,সংবাদমাধ্যম,কাজ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close