Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • রোববার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

খালেদার পরিবারের বিরুদ্ধে খাস জমির মামলার আপিল দ্রুত শুনানির আবেদন

প্রকাশ:  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:২১
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিবারের নামে বন্দোবস্তের মাধ্যমে বরাদ্দ হওয়া মাতাসাগরের প্রায় ৪৫ একর জমি সংক্রান্ত মামলার আপিল দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়েছে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি)।

রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জেলা প্রশাসকের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফুল ইসলাম এই আবেদন করেন।

পরে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী বশির আহমেদ জানান, এটা সরকারের সম্পত্তি। সাবেক আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক দুলাল দিনাজপুরের যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অতি দ্রুত সময়ে রায় দিয়ে এ সম্পত্তি তাদের দখলে হস্তান্তর করেন।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ২০০৪ সালে এই সম্পত্তি নিয়ে মামলা হলে ২০০৫ সালে রায় হয়ে যায়। এত অল্প সময়ে রায় ঘোষণাটি ছিল অনভিপ্রেত। এই রায়ের পর হাইকোর্টে আপিল হলে মামলার অ্যাক্সিবিট (প্রদর্শিত নথিপত্র) নিয়ে গেছে, যার কারণে মামলটা রেডি হচ্ছে না। আজকে দিনাজপুরের ডিসির প্রতিনিধি হিসেবে সেখানকার এসিল্যান্ড এসে এফিডেভিট করেছেন দ্রুত সময়ে আপিলটি শুনানি করার জন্য।

জানা যায়, দিনাজপুরের মাতাসাগর দীঘি দিনাজপুরের মহারাজার সম্পত্তি। পরে জমিটি সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত হয়। দীঘিটি এলএ কেস নং ১৬/২-৭৬-৭৭ মূলে অধিগ্রহণ করা হয়।

প্রায় ৪৫.৯৪ একর আয়তনের খাস জমি ১৯৮১ সালে প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে খালেদা জিয়ার বাবা এমই মজুমদারের মালিকানাধীন দিনাজপুর লাইভস্টক অ্যান্ড পোলট্রি ফার্মের নামে বন্দোবস্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর এক সপ্তাহের মধ্যে ১৯৮১ সালের ৪ জুন খালেদা জিয়ার বাবা তার নামে সম্পত্তিটি বন্দোবস্তের আদেশ পান। বন্দোবস্ত নিয়ে খালেদা জিয়ার বাবা এমই মজুমদার ওই ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তার মা তৈয়বা মজুমদার পরিচালক হিসেবে ভোগদখল করতে থাকেন।

পরে এমই মজুমদার ১৯৮৪ সালে মারা গেলে ওয়ারিশ হিসেবে ছেলে সাঈদ ইস্কান্দার, শামীম ইস্কান্দার, মেয়ে খুরশীদ জাহান হক, বেগম খালেদা জিয়া এবং বেগম শালিনা ইসলামকে রেখে যান। তারা পরে তাদের ব্যবসায়িক শেয়ার তাদের মা তৈয়বা মজুমদারের কাছে বিক্রি করেন।

তৈয়বা মজুমদার বার্ধক্যজনিত ও অসুস্থতার কারণে দিনাজপুর লাইভস্টক অ্যান্ড পোলট্রি ফার্মের সম্পূর্ণ শেয়ার ১৯৮৬ সালের ২৮ জুলাই ফজলুর রহমান ও তার বাবা আরশাদ আলম এবং মোছা. রোকসানা হোসেনের কাছে বিক্রি করেন।

পরে আরশাদ আলম ওই ফার্মের পরিচালক থাকাকালে তার ছেলে ফজলুর রহমান পরিচালক ও চেয়ারম্যান, আরেক ছেলে মো. মিজানুর রহমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রোকসানা হোসেন ফার্মের পরিচালক থাকা অবস্থায় রেজিস্ট্রার জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে রেজিস্ট্রেশন করে ফার্মের নামে জমি খারিজ করেন।

এরপর আরশাদ আলম মারা গেলে তার অন্য ওয়ারিশ ও রোকসানা হোসেন তাদের শেয়ার বিক্রি করে দেন মিজানুর রহমান ও ফজলুর রহমানের কাছে। ফলে ওই ফার্মের মালিকানা নিয়ে মিজানুর রহমান ও ফজলুর রহমান সেখানে ভোগদখল করতে থাকেন।

২০০৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ওই সম্পত্তির খাজনা প্রদান করতে গিয়ে জানতে পারেন, সম্পত্তিটি ওই দুজনের নামে না হয়ে সরকারের নামে রেকর্ড হয়েছে।

এরপর মিজানুর রহমান ও ফজলুর রহমান তাদের নিজেদের নামে ওই জমির স্বত্ব ঘোষণার দাবিতে দিনাজপুরের যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ডিক্রি ঘোষণার মামলা করেন। ২০০৫ সালের ১১ এপ্রিল দিনাজপুরের তৎকালীন প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ওই রায় ঘোষণা করেন। ওই রায় নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন ওঠে। সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত নেওয়া জমি কীভাবে ব্যক্তির নামে স্বত্ব ঘোষণা করা হলো, সে প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। বর্তমানে ওই জমি দেখাশোনা করছেন মিজানুর রহমান।

২০০৪ সালে খাস জমিটি সরকারের নামে রেকর্ড হয়েছে জানতে পেরে নিজেদের নামে স্বত্ব ঘোষণার দাবিতে দিনাজপুরের আদালতে মামলা করেন মিজানুর রহমান ও ফজলুর রহমান।

বিএনপি শাসনামলে ২০০৫ সালের ১১ এপ্রিল ওই জমির স্বত্ব তাদের দুজনের নামে ঘোষণা করে রায় দেন দিনাজপুরের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক সদ্য বিদায়ী আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক দুলাল।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি আপিল করে সরকার। কিন্তু মামলায় প্রদর্শিত নথি না থাকায় দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর আপিলটি শুনানি করা সম্ভব হয়নি। আজ আপিলটি দ্রুত শুনানির জন্য দিনাজপুরের ডিসির পক্ষে একটি আবেদন করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বিবাদীপক্ষ (জেলা প্রশাসক কার্যালয়) আপিলটি দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিলেও তা সম্ভব হয়নি। কারণ বাদীপক্ষ রায় ঘোষণার পরপরই প্রদর্শিত নথিপত্র নিম্ন আদালত থেকে তুলে নেয়।

বাদীপক্ষ একাধিক নোটিশ গ্রহণ করলেও তারা ওই নথি আর দাখিল করেনি। বাদীপক্ষ জেনেশুনেই এই আপিল নিষ্পত্তি করতে বিলম্ব করছে বলে দাবি বিবাদীপক্ষের। এ কারণে ওই প্রদর্শিত নথি ছাড়াই দ্রুত আপিলটি নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

খালেদা জিয়া,হাইকোর্ট,আদালত
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত