• সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৪ ফাল্গুন ১৪২৬
  • ||

ইভটিজিংয়ের তথ্য নিতে স্কুলে ‘অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের পরামর্শ

প্রকাশ:  ১০ জুলাই ২০১৯, ১৫:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক
ইভটিজিংয়ের তথ্য নিতে স্কুলে ‘অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের পরামর্শ। ফাইল ছবি

শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় নীতিমালা প্রক্রিয়াধীন। এ নীতিমালায় স্কুলের শিক্ষার্থীদেরকে কেউ হয়রানি (ইভটিজিং) করলে সেই তথ্য অভিযোগ আকারে শোনার জন্য ‘অভিযোগ বক্স’ স্থাপনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, এই অভিযোগ বক্স খোলার দায়িত্ব স্কুল (ম্যানিজিং) কমিটির। এই অভিযোগ কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধেও থাকতে পারে।

বুধবার (১০ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এ দিন রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত কমিটির সুপারিশ করা নীতিমালার খসড়া উপস্থাপন করা হয়। পরে আদালত এসব পরামর্শ দেন।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (বাশার)। অন্যদিকে, অরিত্রির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ (বাশার) বলেন, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে হতে যাওয়া জাতীয় নীতিমালায় প্রতিটি স্কুলে শিশুদের অভিযোগ শোনার জন্য একটি অভিযোগ বক্স রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে বলেছেন আদালত। শিশুরা তাদের নির্যাতনের অভিযোগগুলো মা-বাবা বা স্কুলের শিক্ষক, কারো কাছেই বলতে পারে না। সেক্ষেত্রে স্কুলে একটি অভিযোগ বক্স থাকলে সেখানে শিশুরা অভিযোগগুলো নির্ভয়ে তুলে ধরতে পারবে।

এছাড়া, অরিত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় বুলিং নিরোধ কমিটির অগ্রগতি প্রতিবেদন আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে জমা দেয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে অরিত্রীর আত্মহত্যার খবর সুপ্রিম কোর্টের চার আইনজীবী নজরে আনার পর ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন।

ওই সময় আদালতের আদেশের পর ব্যারিস্টার অনীক আর হক বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে অতিরিক্ত শিক্ষা সচিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন আদালত। এক মাসের মধ্যে এই কমিটিকে দুটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। একটি হচ্ছে, জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে তারা একটি প্রতিবেদন দেবে। আরেকটি হচ্ছে, অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার কারণ অনুসন্ধানের প্রতিবেদন।

আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুলও জারি করেন। অরিত্রীর আত্মহত্যার মতো ঘটনা প্রতিরোধের উপায় নির্ণয় করে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

হাইকোর্ট,আদালত,অরিত্রীর আত্মহত্যা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close