Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

গ্যাটকো মামলা

খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ১৮ জুন

প্রকাশ:  ১৪ মে ২০১৯, ১৫:৪২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon
খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী ১৮ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ মে) কেরানীগঞ্জের কারা ভবনে নবনির্মিত ২ নম্বর ভবনে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন এ দিন ধার্য করেন।

এদিন মামলাটি চার্জ শুনানির জন্য ধার্য ছিল। কিন্তু মামলার প্রধান আসামি খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন থাকায় কারা কর্তৃপক্ষ তাকে আদালতে হাজির করেনি।

এদিন বেলা সোয়া ১১টার দিকে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, এ মামলার আসামি খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। এখানে অন্যান্য আসামিরা উপস্থিত আছেন। যাদের যা বক্তব্য আছে তারা তা উপস্থাপন করতে পারেন। তাহলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বিচারককে বলেন, আপনিও কষ্ট করে এসেছেন, আমরাও এসেছি। আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত আদালত। আর নিরাপত্তার এমন কী বিঘ্ন হলো যে এখানে আদালত নিয়ে আসতে হবে। এখানে রাস্তা নেই, কষ্ট করে এসেছি। প্রতিদিন যদি আসতে হয়! যাই হোক, তাও আসব।

তিনি বলেন, জামিনে থাকা আসামিরা হাজির হয়েছেন। কাস্টডিতে থাকা আসামি খালেদা জিয়াকে আনা হয়নি। আসামির অনুপস্থিতিতে চার্জ শুনানি আইনসম্মত হয় না।

তখন দুদক প্রসিকিউটর বলেন, কষ্ট করে এসেছেন তাহলে আপনারা শুরু করেন।

মাসুদ তালুকদার দুদক প্রসিকিউটরের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনি শুধু দুদকের পিপি নন, আমাদেরও পিপি। কাস্টডিতে থাকা আসামি খালেদা জিয়াকে আনেনি। আপনি বলবেন, আসামিকে আনা হয়নি, সময় দিন। এরপর তিনি আদালতকে একটা যৌক্তিক সময় দেওয়ার প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, মামলা যেহেতু এখানে এসেছে, যত কষ্ট হোক করে ফেলব।

তখনও মোশাররফ হোসেন কাজল উপস্থিত আসামিদের পক্ষে শুনানি করতে বলেন। আর যাকে আনা হয়নি তারটা পরে করবেন। একজন আসে নাই দেখে কি আপনারা কেউ করবেন না। যার যার মতো করে বলতে পারেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১৮ জুন চার্জ শুনানির পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন।

এর আগে মামলাটির বিচারকাজ পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে চলতো। খালেদা জিয়ার নিম্ন আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলোর বিচার কেরানীগঞ্জের কারাভবন আদালত বসবে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ১২ মে জারি করে।

২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী চারদলীয় জোট সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় গ্যাটকো দুর্নীতি মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পরদিন খালেদা জিয়া ও কোকোকে গ্রেফতার করা হয়।

ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় জরুরি ক্ষমতা আইনে। পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয়া হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি ও চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়ে রাষ্ট্রের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার ক্ষতি করেন।

মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনে অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচারিক আদালতে মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে ২০০৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকো। তার তিনদিন পর খালেদা জিয়া ও কোকোর বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুল দেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে মামলাটি জরুরি ক্ষমতা আইনের অন্তর্ভুক্ত করা কেন ‘বেআইনি ও কর্তৃত্ব বহির্ভূত’ ঘোষণা করা হবে না -তা জানতে চাওয়া হয়। তবে হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ পরে আপিল বিভাগে বাতিল হয়ে যায়।

এরপর দুদক আইনে গ্যাটকো মামলা দায়েরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৮ সালে আরেকটি রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। তার আবেদনে হাইকোর্ট আবারও মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন এবং মামলাটি কেন বাতিলের নির্দেশ দেয়া হবে না -এ মর্মে রুল জারি করেন।

মামলার ২৪ আসামির মধ্যে ৬ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া, এম কে আনোয়ার, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান অর্থ ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আহমেদ আবুল কাশেম ও বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো।

অন্য আসামিরা হলেন- বিএনপি দলীয় সাবেক মন্ত্রী এম শামছুল ইসলাম, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সাবেক চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আলী, প্রয়াত মন্ত্রী কর্নেল (অব.) আকবর হোসেনের স্ত্রী জাহানারা আকবর, দুই ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন এবং এ কে এম মুসা কাজল, এহসান ইউসুফ, সাবেক নৌ সচিব জুলফিকার হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সাবেক সদস্য এ কে রশিদ উদ্দিন আহমেদ, গ্লোবাল অ্যাগ্রোট্রেড প্রাইভেট লিমিটেডের (গ্যাটকো) পরিচালক শাহজাহান এম হাসিব, গ্যাটকোর পরিচালক সৈয়দ তানভির আহমেদ ও সৈয়দ গালিব আহমেদ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এএসএম শাহাদত হোসেন, বন্দরের সাবেক পরিচালক (পরিবহন) এ এম সানোয়ার হোসেন ও বন্দরের সাবেক সদস্য লুৎফুল কবীর।


পিপিবিডি/এসএম

খালেদা জিয়া,আদালত
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত