Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ৪ কার্তিক ১৪২৬
  • ||

অব্যাহতির নির্দেশ না এলে গালমন্দ খেয়েও দায়িত্বে থাকবো: ভিসি ফারজানা

প্রকাশ:  ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১:৪৯ | আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:১০
জাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে ‘দুর্নীতি ও অনিয়মে’র অভিযোগে জাবিতে অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কিংবা মহামান্য রাষ্ট্রপতি যদি অব্যাহতির নির্দেশ দেন তবে দায়িত্ব থেকে সরে যাব। যদি আমাকে নির্দেশ না দেন তবে আন্দোলনকারীদের গালমন্দ খেয়েও থেকে যাব। হয়তো তাদের আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হবে কিন্তু নির্দেশ আসা না পর্যন্ত আমি সরে যাবো না।

দুর্নীতির অভিযোগ এনে ১ অক্টোবরের মধ্যে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি, আসন্ন ভর্তি পরীক্ষায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন তিন দফা দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের দুটি দাবি এর আগে মেনে নিলেও ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ তদন্তের দাবিটি মেনে নিতে উপাচার্য গড়িমসি করছেন।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) তাদের এই দাবির প্রেক্ষিতে আলোচনা থেকে বেরিয়ে উপাচার্য সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তিনি উপাচার্য বলেন, জীবনে ৫০০ টাকার বেশি ঈদ সেলামি পাইনি। এতো (অভিযোগ উঠা ২ কোটি) টাকা আমি দেব কোথা থেকে?

ভিসি বলেন, আন্দোলনকারীদের দাবি আমি ইউজিসি এবং প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। তাছাড়া আমি কি পারি আর কি পারিনা সেটা অধ্যাদেশে বলা আছে। সেখানে নিজেই নিজের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা বলা নেই।

বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে আলোচনা শুরু হয়ে চলে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। প্রশাসনের পক্ষে আলোচনায় অংশ নেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নূরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক।

এছাড়া তাদের সহযোগিতার জন্য প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) রহিমা কানিজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন কর্মকর্তা মাহতাব-উজ-জাহিদ।

অপরদিকে মঙ্গলবার রাতে চার ঘণ্টার অধিক সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেনের মুঠোফোন অকার্যকর ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই এই কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এই অভিযোগে তিনি আলোচনা সভা বর্জন করেন।

তিনি বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আছি। তা সত্ত্বেও গতকাল আমার মোবাইল নম্বর ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চার ঘণ্টা বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। আমি মনে করি এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। প্রতিবাদস্বরুপ বিষয়টি রেজিস্ট্রারকে জানিয়েছি এবং আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করিনি।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে প্রায় ২২ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর একটি প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনকারীরা তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করেন।

লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, এই উপাচার্য নৈতিকভাবে পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। ১ অক্টোবর পর্যন্ত আমরা আল্টিমেটাম দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে যদি তিনি পদত্যাগ না করেন তবে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। এছাড়া আমাদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চলবে।

উল্লেখ্য, ২৩ অক্টোবর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ১ হাজার ৪৪৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় একনেক। ১ মে ৬টি হলের টেন্ডার আহ্বান করে কর্তৃপক্ষ। ৩০ জুন ৩টি ছেলেদের ও ২টি মেয়েদের আবাসিক হলের কাজ উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

এই কাজের শুরু থেকেই ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে টেন্ডার সিডিউল ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠে। এছাড়া ঈদের আগে ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা ‘ঈদ সেলামি’ দেয়া অভিযোগ উঠে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবিসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছে একদল শিক্ষক-শিক্ষার্থী।

আন্দোলনকারীদের চাপের মুখে ১২ সেপ্টেম্বর আলোচনায় দুটি দাবি মেনে নেয় প্রশাসন। এছাড়া অপর দাবি ‘তদন্ত কমিটি গঠন’ নিয়ে বুধবার আলোচনায় বসে প্রশাসন ও আন্দোলনকারীরা।

পূর্বপশ্চিমবিডি/পিএস

ভিসি ফারজানা,জাবি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত