• সোমবার, ০১ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

সিনেট থেকে শোভন ও ডাকসু থেকে রাব্বানীকে অপসারণের দাবি

প্রকাশ:  ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:৩০ | আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:৩৭
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পদচ্যুত সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর অপকর্মে বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠেছে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্যের পদ থেকে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে ও ডাকসুর জিএস পদ থেকে গোলাম রাব্বানী অপসারণের দাবি তুলেছেন তারা।

রোববার ( ১৫ সেপ্টেম্বর) এই দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়েছে একাধিক সমাবেশ।ছাত্রলীগের সাবেক দুই শীর্ষনেতা অপকর্মের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত এসব সমাবেশে দাবি ওঠেছে, যে কারণে তাদের ছাত্রলীগের নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওই একই কারণে সিনেটে শোভন এবং ডাকসুতে রাব্বানী বহাল থাকার বৈধতা হারিয়েছে।

এসবে সমাবেশে বক্তরা বলেন, ঢাবি সিনেটে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করলেও ক্যাম্পাসের বড় সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবেই তিনি মনোনীত হয়েছেন। আর ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবেই গোলাম রাব্বানী জিএস পদে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন।কাজেই ছাত্রলীগের শীর্ষপদ থেকে তাদের ছাটাই করার পর সিনেটে শোভন এবং ডাকসুতে রাব্বানীর অপসারণ স্বয়ংক্রিয়ভাবেই হওয়া উচিত। সমাবেশগুলোতে ঢাবি কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ঘোষণার আহ্বান জানানো হয়।

এ দাবির একমত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, যে কারণে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ খুইয়েছেন রাব্বানী, সেই কারণে ছাত্র সংসদের জিএস পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন তিনি। একইভাবে শোভনও সিনেটে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।

গত মার্চে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পদচ্যুত ছাত্রলীগের সভাপতি শোভনকে হারিয়ে ভিপি পদে নির্বাচিত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নেতা নুর। ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন রাব্বানী। সম্প্রতি কয়েকটি ঘটনায় চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে শনিবার আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ হলে পদত্যাগ পদত্যাগ করেন ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে শোভন ও রাব্বানীর বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কিনা জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্রলীগ ও ডাকসু দুটি আলাদা প্রতিষ্ঠান। দুটির গঠনতন্ত্রও আলাদা। দুটিই নিজস্ব সংস্কৃতিতে চলবে। ডাকসুর গঠনতন্ত্রে যেটা দেওয়া আছে, সেই মোতাবেক আমরা চলব।

গঠনতন্ত্রের ৫(ক) অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে, ডাকসুর সর্বোচ্চ কল্যাণের স্বার্থে যে কোনো সদস্যকে পদচ্যুত করার ক্ষমতা রাখেন ডাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এ বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপাচার্য বলেন, গঠনতন্ত্র আরও খতিয়ে দেখতে হবে। এ নিয়ে পর্যালোচনার পর আমরা আমাদের করনীয় নির্ধারণ করবো।

পূর্বপশ্চিমবিডি এনই/

শোভন-রাব্বানী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close