Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬
  • ||

শিক্ষার্থীরা থাকছেন গণরুমে, ডাকসু নেতার কক্ষে এসি

প্রকাশ:  ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৫:২৪
ঢাবি প্রতিবেদক
প্রিন্ট icon

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর কক্ষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা থাকেন গণরুমে। একক কক্ষে গাদাগাদি করে ফ্লোরিং করে থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্রতিশ্রুতি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, দাপ্তরিক কাজসমূহ অটোমেশনের আয়তায় আনা, গবেষণা খাতে বাজেট বৃদ্ধি সহ নানা ইশতেহার দিয়েছিলো ছাত্রলীগ। কিন্তু ডাকসুতে ২৩ টি পদে নির্বাচিত হয়েও দৃশমান কোনো পরিবর্তন দেখাতে পারেনি ছাত্রলীগ থেকে নির্বাচিত ডাকসু নেতারা। এদিকে ডাকসু ভিপি নুরের অভিযোগ, প্রশাসন এবং ছাত্রলীগের অপারগতার কারণে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না তিনি। যেকোনো পদক্ষেপেই বাগড়া দিচ্ছে ছাত্রলীগ। বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেছেন নুর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে চরম আবাসন সংকট। প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা মানবেতর পরিবেশে বাস করছেন। একক কক্ষে প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থীকে বসবাস করতে হচ্ছে। ছাত্রলীগ ইশতেহারে বলেছিলো গণরুম সমস্যার সমাধান করা হবে। তবে এ বিষয়ে নির্বাচিত ডাকসু সদস্যদের কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

অথচ ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে কাজ করেন। জানা যায়, আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে রাব্বানীর কক্ষে এসি স্থাপন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ লুৎফুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী তার কক্ষে এসি স্থাপনের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় তার আবেদন গ্রহণ করেনি।

ডাকসুর একজন সদস্য জানান, রাব্বানীর একজন পরিচিত ব্যক্তি এই এসি উপহার দিয়েছেন।

জিএস গোলাম রাব্বানীর কক্ষে এসি স্থাপনের সমালোচনা করেছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। নুর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবসন সংকট নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডাকসুতে এসেছি। শিক্ষার্থীরা যেখানে গণরুমে থাকছেন, কেউ কেউ বারন্দায় থাকছেন সেখানে আমরা কক্ষে এসি স্থাপন করতে পারি না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, একক কক্ষে গাদাগাদি করে ৩০ জন বসবাস করতে হয়। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ মসজিদে ঘুমায়। রুমে প্রচন্ড গরম থাকে। ছারপোকার কামড়ে রাতে ঘুম হয় না, সকালে ক্লাসে যেতে সমস্যা হয়।

ডাকসুর সদস্য মোঃ তানভীর হাসান সৈকত বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুম সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি ছাত্রদের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেছেন।

পূর্বপশ্চিম নিউজকে সৈকত বলেন, গণরুম সংকট সমাধানের উদ্দেশ্যে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি। উপাচার্য এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। স্মারকলিপিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর প্রভোস্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী প্রভোস্ট মিটিংয়ের পর এ বিষয়ে জানতে পারবো।

ডাকসুর আরেক সদস্য রকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য পূর্বপশ্চিম নিউজকে বলেন, ইশতেহার অনুযায়ী সংকট নিরসনে ব্যাংকব্যাডের ব্যবস্থা করা হতে পারে। তাছাড়া ডাকসুর অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পরবর্তী ডাকসু মিটিংয়ে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিরসন ও নিজ কক্ষে এসি স্থাপনের বিষয়ে জানতে গোলাম রাব্বানীকে কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এস.খান

গোলাম রাব্বানী
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত