• রোববার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

রাবিতে বহিরাগতদের অবাধ চলাচল

প্রকাশ:  ০৫ আগস্ট ২০১৯, ২০:১২
রাবি প্রতিনিধি

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাড়া শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায় অবাধে প্রবেশ করছে বহিরাগত ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই এলাকায় থাকে শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য। ফলে স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে ওই এলাকায় থাকা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের।

শুধু পশ্চিম পাড়াই নয়, অনুমতি ছাড়া বহিরাগত ও শিক্ষার্থীদের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবন এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রেও। অথচ বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এই এলাকাটিও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকে বহিরাগতদের দখলে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিনোদপুর, কাজলা, তালাইমারী, মেহেরচন্ডী ও বুধপাড়াসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকাগুলো থেকে বহিরাগতরা হরহামেশাই ঢুকছে ক্যাম্পাসে। বিশেষ করে পশ্চিম পাড়া শিক্ষকদের আবাসিক এলাকায় মানুষের যাতায়াত কম থাকায় সেখানে বহিরাগত ও শিক্ষার্থীরা অবাধে প্রবেশ করছেন এবং ঘটিয়ে চলেছেন নানা অপকর্ম। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকরা।

রোববার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেন না বহিরাগত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বেপরোয়া গতিতে ও জোরে হর্ণ বাজিয়ে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন কেউ। আবার বান্ধবী নিয়েও ঘুরাঘুরি করছেন অনেকেই। এছাড়া, আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেছে অনেক বহিরাগত প্রেমিক যুগলকে। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষকদের।

একাধিক আবাসিক শিক্ষকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক বহিরাগত ও শিক্ষার্থীদের প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া রয়েছে। তারপরেও কেউ তা মানছে না। অহরহ প্রবেশ করছে। আর সংগঠিত হচ্ছে নানা অপকর্ম। আমরা বিকেলে জগিংয়ে বের হই, এ সময় আমাদের সঙ্গে আমাদের সন্তানেরাও থাকে। কিন্তু এখানে আসা লোকজন যেভাবে চলাফেরা করে তাতে আমাদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের অন্যান্য জায়গায় অভিযান চালালেও আবাসিক এলাকায় কোন অভিযান না চালানোর কারণে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে এখানে ছুটে আসে তারা। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষকদের বাসা থেকে টিউশনি শেষে হলে ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হতে হচ্ছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন শিক্ষকদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এ এলাকায় যেন অভিযান পরিচালনা করেন।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দায়িত্বরত এক পাহারাদারের বলেন, শিক্ষার্থীদের পরিচয় দিয়ে প্রবেশ করছেন বহিরাগতরা। আবার অনেক সময় শিক্ষার্থীরাই বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করছেন। এছাড়াও ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে অবাধে চলাফেরা করছেন কেউ কেউ। প্রবেশে বাধা দিলে হুমকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে আমাদের।

এদিকে, গত ২২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন এলাকায় আপত্তিকর কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ বহিরাগত ৫ প্রেমিক যুগলকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর। এর আগে ১৮ জুলাই একই অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের মুছলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, বিষয়টি আমিও শুনেছি। বহিরাগতদের ঠেকাতে মাঝে মাঝে ক্যাম্পাসে অভিযান চালিয়ে থাকি। প্রয়োজনে আবার অভিযান চালাবো। কেউ যদি ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশে বিঘ্ন ঘটায় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/আরএইচ

রাবি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত