• বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
  • ||

উস্কানিমূলক বক্তব্য

বশেমুরবিপ্রবির ১৪ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিস

প্রকাশ:  ০২ জুন ২০১৯, ১৩:২০ | আপডেট : ০২ জুন ২০১৯, ১৩:২৭
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।‘সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিরোধী প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন বহন ও ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাদেরকে এই নোটিশ দেয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মোঃ নুরউদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত (৩০মে) নোটিশে সাত দিনের মধ্যে ওই শিক্ষার্থীদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ওই ১৪ শিক্ষার্থীরা হলেন-সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ৩য় বর্ষের দিগন্ত লস্কর, শেখ মেহেদী হাসান, এমএম-র নিউটন মজুমদার, ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ৩য় বর্ষের ইসমাইল হোসেন রিয়াদ, সিকদার মাহবুব, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৩য় বর্ষের মোঃ নাজমুল হুদা, রথীন্দ্রনাথ বাপ্পী, মো: শিবলী সাদিক, ৪র্থ বর্ষের মো: সিরাজুল ইসলাম, লোক প্রশাসন বিভাগের ৩য় বর্ষের মো: মিথুন সোহাইন, ২য় বর্ষের সৌরভ সমাদ্দার, পরিসংখ্যান বিভাগের ২য় বর্ষের বিসালাত আহমেদ অর্নব, আইন বিভাগের ৩য় বর্ষের এস এম আব্দুল্লাহ কাফি ও ইংরেজি বিভাগের এমএ-র বুলবুল আহমেদ।

উল্লেখ্য, গত ১৬ মে ধানের ন্যায্য মূল্য চেয়ে একটি মানববন্ধন করে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল−‘আর করব না ধান চাষ দেখব এবার কী খাস’, ‘কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, পাকা ধানে আগুন কেন’, ‘কৃষক মরে হীরক রাজার টনক কী নড়ে, ফসল জ্বললে জ্বলবে গদি’। এ মানববন্ধন করার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে কি না তা পত্রে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় নি।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রথীন্দ্রনাথ বাপ্পী বলেন, কৃষকের ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবীতে করা মানববন্ধনে সরকার বিরোধী কোন বক্তব্য দেয়া হয়নি।একটি সিষ্টেমের বিরুদ্ধে শ্লোগান ও বক্তব্য দেয়া হয়েছিল।এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও অধিকারের কথা বলতে গেলেই এ ধরনের নোটিশ পাওয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগেও যৌন হয়রানির প্রতিকার চেয়ে কথা বলার কারণে কারণ দর্শানোর নোটিশের মুখোমুখি হতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের।আসলে নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মুখ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অপর শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক নাজমুল হুদা বলেন, আমরা কৃষকের ধানের ন্যায্য মূল্যের জন্য মানববন্ধন করি।সেখানে নাকি আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকার বিরোধী শ্লোগান দিয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আশিকুজ্জামান ভূইয়া সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘সরকার ও প্রশাসন বিরোধী প্ল্যাকার্ড ফেস্টুন বহন’ ও ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার জন্য গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবীতে মানববন্ধন করার করানে এমন নোটিশ দেয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। নোটিশে কারন দর্শানোর বিষয়টি উল্লেখ করা আছে।

কোন আন্দোলন বা কর্মসূচী করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, সব ধরনের কর্মসূচি করতেই বা ক্যাম্পাসে যাই করুক না কেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে।অনুমতি যদি না থাকে তাহলে যে কেউ যেকোন কিছু করে বসবে। আমরা তো এদের অভিভাবক, যাই করুক অনুমতি নিয়েই করতে হবে।

পিপিবিডি/আরএইচ

গোপালগঞ্জ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত