Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

অনিয়ম এর গোডাউন জাককানইবি’র আন্ডার কনস্ট্রাকশন!

প্রকাশ:  ১৬ মে ২০১৯, ১৩:৩২
জাককানইবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মানাধীন ৪টি ভবন কাল ক্ষেপণ করা, অনিয়ম আর দুর্নীতির উত্তম উদাহরণ হতে পারে।

২০১৬ সালে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেও নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। বিভিন্ন সময় সৃষ্টি করেছে নানা বিতর্ক । কখনো রড চুরি, কখনো সিমেন্ট আবার কখনো টাইলস। এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে ভবন নির্মাণের কাজে নিয়োজিত ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

নতুন ছাত্রী হল নির্মানে কাজ করছে নিয়াজ ট্রেডার্স যেখানে পূর্বে যুক্ত ছিলো রাকা এন্টারপ্রাইজ। বিভিন্ন অনিয়ম ও সময় ক্ষেপণের দায়ে রাকা এন্টারপ্রাইজ প্রতিষ্ঠানটিকে বাতিল করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভবনটিতে যৌথভাবে শামছুজ্জামান ভাওয়াল কনস্ট্রাকশনও কাজ করে যাচ্ছে। নিম্নমানের পাথর ব্যবহার, মাটি মিশ্রিত সিমেন্ট ব্যবহারসহ শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে ছাত্রী হল নির্মাণ প্রকল্পে। এছাড়া একাধিকবার রড চুড়ির অভিযোগও উঠেছিলো এই (রাকা) কনস্ট্রাকশন থেকে। যার মধ্যে একবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির কর্মচারী নিজেই যুক্ত ছিলো। ৩ বছরের অধিক সময় অতিক্রম করলেও শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক বলেন- ‘কম কইরা হইলেও দুই বছর লাগবো আরও’। বটতলা সংলগ্ন রাস্তার পাশেই কেন ছাত্রী হল এই নিয়েও শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্ক উঠেছিলো। এক প্রকার দায়সাড়াভাবেই চলছে নির্মাণ কাজ।

একইরূপ অন্যান্য চলমান কনস্ট্রাকশনগুলোতে। এক অদৃশ্য শক্তি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে নিজেদের মতো। মানহীন উপাদান ব্যবহারের অভিযোগ বারবার উঠলেও তার প্রভাব পরে নি প্রতিষ্ঠান গুলোতে। অন্যদিকে ভবন নির্মাণ এর কাজ করতে গিয়ে একাধিক শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই ঘটনার মূল কারণ শ্রমিকের কাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনে পাঠদান চলছে ঝুকিপূর্ণভাবে যেখানে মৃত্যুভয় ও স্বাস্থ্যহানির সম্ভাবনা রয়েছে। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে চলেছে পাঠদান। সিড়িতে নেই সেইফটি রেলিং। একদিকে চলছে কাজ অন্য দিকে ক্লাস। এখানেও কাজের ক্ষেত্রে চলছে প্রতিষ্ঠানের ঢিলেমিছে ভাব। এই ভবন নির্মাণে চুক্তিতে থাকা উপাদানের তালিকার নিচের দিকের গুলোর ব্যবহার করে নির্মাণ হচ্ছে ভবন। যেখানে মানা হচ্ছে না পরিবেশ ও শ্রমিকের সেফটি কোড।

এই নিয়ে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী সুমন মৃধা বলেন– আমরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করি। মনে হয় যেন একটা মৃত্যুফাঁদ নির্মানাধীন এই ভবন। আমরা চাই প্রশাসন নিরাপত্তা আইন মেনে কাজ পরিচালনা করুক যেন সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নিড়বে চলা আরেকটি কাজ হলো ছাত্র হল। যেখানে অধিকাংশ সময় কাজের অবস্থা দেখার কেউ থাকেনা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজের মতো করেই চালিয়ে যায় কাজ। অনেকটা পেছনে পরে থাকা নিম্নমানের কাজের একটি নির্মানাধীন ছাত্র হল। যার সরেজমিনে সত্যতা পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ১৫ মে ২০১৯ হাসান নামের এক শ্রমিক নির্মানাধীন ছাত্র হলের ৮ম তলা থেকে পড়ে যায়। যার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম মাল্টি প্ল্যাক্স। নিহত শ্রমিক হাসানকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যায় হাসান। যার মূল কারণ সেইফটি কোড না মানা। বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মানাধীন কোন ভবনে সেইফটি কোড মানা হয় না এমনকি পরিদর্শনের সময়ও মাথায় বিশেষ হেলমেট ব্যবহার করা হয় না।

শিক্ষার্থী আফসানা বাঁধন বলেন- শিক্ষার্থী মরলেই টনক নরেনা শ্রমিক তো মাটির মানুষ। আর এটা পরোক্ষভাবে হত্যাকাণ্ডও যেখানে অস্ত্র হলো অবহেলা।

কেবল রড, ইট, সিমেন্ট এর দুর্নীতি নয় সময় ক্ষেপনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি করারও অভিযোগ উঠেছে। গতবছর ২০১৮ সালের ১৬ জুন কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে ২০১৯ সালের জুন-জুলাই এর কথা বলা হয় পরিকল্পনা দপ্তর থেকে। কিন্তু এই সময়েও তা সম্ভব হয়নি ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা দপ্তরের প্রধান প্রৌকশলী মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, কাজ শেষ করার নির্দিষ্ট কোন সময় নেই। যতোদিন দরকার ততোদিনে হবে। তবে আমরা দ্রুত শেষ করতে চাচ্ছি। ২০২০ সালের মধ্যে পুরোপুরিভাবে ৪টি ভবনের কাজ শেষ হবে বলে আশা রাখি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই প্রায় সকল কাজ করে আসছে। যার মধ্যে ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন সর্বাধিক পরিমানে কাজ করছে। ভাওয়াল কনস্ট্রাকশনের নামে অভিযোগ উঠেছিলো এক অদৃশ্য শক্তিবলে কাজ পেয়ে থাকে প্রতিষ্ঠানটি।

নির্মানাধীন ভবনগুলো অনিয়মের পাহাড় হিসেবে পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে।

উল্লেখ্য নির্মানাধীন ছাত্রী হলে নিয়াজ ট্রেডাস, ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন, মোনালিসা এন এইচ। ছাত্র হলে ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন, ও মধ্য অংশ মাল্টি প্লাক্স, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন ভাওয়াল কনস্ট্রাকশন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবনে হাবিব কনস্ট্রাকশন কাজ করছে। যার প্রত্যেকটিতে রাজত্ব করছে অনিয়ম আর দুর্নীতি।

উল্লেখ্য, প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার বর্ধিত সময় শেষ হবে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে।

পিপিবিডি/আরএইচ

জাককানইবি
apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত