Most important heading here

Less important heading here

Some additional information here

Emphasized text
  • শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬
  • ||

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদ ও ডাকসু নেতাকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ

প্রকাশ:  ১২ মে ২০১৯, ১৬:৫৩
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট icon

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৯৮ বছরেও নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো আবৃত্তি বা উচ্চারণ চর্চা কেন্দ্র যেখান থেকে শুদ্ধভাবে ঢাবি শিক্ষার্থীরা বাংলা ভাষার উচ্চারণ শিখতে পারে। সম্প্রতি একটি সংগঠন গঠিত হলে তার বিরুদ্ধে একটি মহল এনেছে মিথ্যা অভিযোগ। এনেছেন আবৃত্তি সংসদের ফরম বিক্রি করে টাকা খাওয়ার অভিযোগ।

আবৃত্তি সংসদের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আবৃত্তি সংসদ তাদের কাছ থেকে সংগঠনের সদস্য হতে কোনো প্রকার টাকা পয়সা নেন নি। যারা সংগঠনের বুথ থেকে ফরম নিয়েছেন শুধু তাদের থেকে মাত্র ৫ টাকা নিয়েছেন ফরম মূল্য হিসেবে (অথচ বহিরাগত টিএসসির রুম দখলকারী আবৃত্তি সংগঠনগুলো ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকা নেন।) আর যারা টিএসসিতে এবং কলাভবনে আবৃত্তি সংসদের রাখা বাক্সে আবেদন পত্র নিজেরা লিখে জমা দিয়েছেন তাদের কাছ থেকে কোনো টাকাই (৫ টাকা) নেয়া হয়নি। তারা বিনামূল্যে আবৃত্তি সংগঠনের সদস্য হয়েছেন।

ঢাবি আবৃত্তি সংসদ ও কোনো প্রকার টাকা না নিয়েই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। যার অনেক তথ্য প্রমাণ আবৃত্তি সংসদের ফেইসবুক গ্রুপেও পাওয়া যায়।

তবে এরকম একটি ভালো সংগঠনের বিরুদ্ধে একশ্রেণি অভিযোগ এনেছে সম্প্রতি। সেই সাথে অভিযোগ এনেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে। কিছু সাংবাদিক আবার সম্প্রতি গড়ে ওঠা আবৃত্তি সংসদের মতো সংগঠনগুলোকে ভূঁইফোড় বলে চালিয়েছেন।

এদিকে দু-একজন সাংবাদিক তারা তাদের সংবাদে ডাকসু সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে টিএসসির কক্ষ দখল এবং সংগঠনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনেছেন। এনেছেন আবৃত্তি সংসদ থেকে ফরম বিক্রি করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। যে সংগঠনে সদস্য হতে কোনো প্রকার টাকা নেয়া হয়নি সেখানে এই ধরণের অভিযোগ আনা পুরোটাই হাস্যকর।

আসিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডাকসু যেহেতু একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। এরই ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে আসিফ তালুকদার দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সংগঠনগুলোর কার্যক্রম যাতে সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারে। তার বিরুদ্ধে কোনো সংগঠনে হস্তক্ষেপের বিষয় ভিত্তিহীন। তিনি বরং আরো সংগঠনগুলোর সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিতে কাজ করছেন। কোনো সমস্যা আছে কিনা তা খোঁজ নিয়ে জানছেন এবং সমস্যা থাকলে সমাধানের চেষ্টা করছেন।

অভিযুক্ত আসিফ তালুকদার বলেন,‘আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। সবাই দেখছে কতটা সততার সাথে আপোষহীন থেকে পরিশ্রম করেছি। আমি যদি অন্যায় না করি, ছাত্রদের জন্য কাজ করি, ছাত্ররা আমার পক্ষে থাকবে। ছাত্ররা বিচার করবে আমি ৫ টাকা আত্মসাৎ করার মতো মানুষ কি না! আর কেউ ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে মিডিয়াকে ব্যবহার করে ছাত্রদের জিম্মি করলে সেটি খুব দুঃখজনক।”

কয়েকজন সাংবাদিক নামধারীরর আচরণে দুঃখ প্রকাশ করে স্যার এ এফ রহমান হল সংসদের সদস্য এবং হল ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি ইমদাদুল হক চঞ্চল বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে প্রচন্ড লজ্জা হয় আমার। যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি মানুষও আবৃত্তি সংগঠনকে ছত্রাকের মত গজিয়ে ওঠা সংগঠন বলতে পারে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে পচন শুরু হয়েছে সেটি বলতে লজ্জা নাই আমার। বাংলাদেশ নামক দেশটির জন্ম দিয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয় সেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৯৮ বছরেও একটি আবৃত্তি সংগঠন না থাকাটা ছিল আমাদের জন্য বিব্রতকর। অথচ আমাদের আশেপাশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো ইতোমধ্যেই তাদের আবৃত্তি সংগঠনের দুই যুগ পেরিয়ে গিয়েছে। যারা কিছুটা হলেও আবৃত্তির সাথে সংযুক্ত আছেন তারা নিশ্চয়ই জানেন আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবৃত্তি চর্চা ও কন্ঠশীলনের জন্য যে কয়টি সংগঠন কাজ করে তারা কেউই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ নয়! অথচ তারা দৈবভাবে কোন এক অদৃশ্য শক্তি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, আমাদের ক্যাম্পাস ব্যবহার করেই তারা তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছেন।

ভুক্তভোগীরা নিশ্চিত ভাবেই জানেন তাদের কার্যক্রমের নমুনা। আমরা চেয়েছিলাম এই বিষফোঁড়া হটিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবৃত্তি চর্চাকে এগিয়ে নিতে। একদল সংস্কৃতিমনা ও প্রচন্ড উদ্যমী তরুণ-তরুণীদের প্রচেষ্টায় আমরা সফলভাবে “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবৃত্তি সংসদ” প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি৷ সদস্য সংগ্রহের জন্য ফরম বিক্রির নামমাত্র ৫টাকাও এখানে বাণিজ্যের তকমা পেয়ে গিয়েছে! যাইহোক, আবৃত্তি সংসদের মডারেটর হিসেবে আছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আজম স্যার। সৌমিত্র শেখর স্যার সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবৃত্তির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত নিয়েই একটি গোছালো পদ্ধতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলাম আমরা। ডাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার ভাইয়ের সহায়তায়, টিএসসির পরিচালক মহোদয়ের অনুমতিক্রমে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য টিএসসির দো’তলায় একটি অব্যবহৃত রুমের ব্যবস্থাও হয়েছিল। ঝামেলা শুরু হয় এই রুমটিকে নিয়ে।

দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত এই রুমটি যখন আমাদেরকে দেওয়া হয় তখনই এই রুমের দাবি করে বসে টিএসসি কেন্দ্রিক সবচেয়ে (ভীতিকর!) একটি সংগঠন যাদের নিজস্ব সুবিশাল একটি রুম আছেই। তারা সবাইকে নিয়ে কথা বলার এখতিয়ার রাখলেও কেউ তাদেরকে নিয়ে মুখ খোলার সাহস রাখে না! এতটুকু সহনশীলতা যাদের নেই, একটি ভালো কাজের জন্য ন্যূনতম ছাঁড় দেওয়ার ইচ্ছাশক্তি যাদের নেই, জাতির দর্পন বলে পরিচিত সেই সংগঠনের নীতির জায়গা নিয়ে বেশ সন্দিহান আমি।’

পিবিডি/এআইএস

apps
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত