• বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯
  • ||

কুয়েতে ফের সরকারের পদত্যাগ

প্রকাশ:  ২৪ জানুয়ারি ২০২৩, ১৮:১৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসানে মাত্র তিন মাস আগে গঠিত উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশ কুয়েতের সরকার ফের পদত্যাগ করেছে। মঙ্গলবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কুনার খবরে সরকারের পদত্যাগের এই তথ্য জানানো হয়েছে।

কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ আহমাদ নাওয়াফ আল-সাবাহ তার মন্ত্রিসভার পদত্যাগপত্র সোমবার দেশটির ক্রাউন প্রিন্স শেখ মেশাল আল-আহমাদ আল-সাবাহর কাছে জমা দিয়েছেন।

গত বছর কুয়েতের আমিরের বেশিরভাগ দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্রাউন প্রিন্স শেখ মেশাল আল-আহমাদ আল-সাবাহ দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শেখ আহমাদের নাম ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসানে সংসদ ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ডাক দেন তিনি।

কুয়েতে মন্ত্রিসভার সঙ্গে সংসদের অচলাবস্থা কয়েক দশক ধরে চলে আসছে। যা বিভিন্ন সময়ে দেশটির সরকারের রদবদল এবং সংসদ ভেঙে দিয়ে সমাধান করা হয়েছে। তবে এতে বিনিয়োগ ও সংস্কার কাজ ব্যাপক বাধাগ্রস্ত হয়।

দেশটির সংসদের বিরোধী আইনপ্রণেতারা ২০১৯ সালের শেষের দিকে ক্ষমতায় আসা প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহকে দুর্নীতি, করোনা মহামারি, অর্থনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে ২০২১ সালের মার্চে সংসদে পাসকৃত একটি প্রস্তাবের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

ওই প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রীকে যে কোনো ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ দীর্ঘদিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়। শেখ সাবাহকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীদের সাধারণ ক্ষমার দাবি জানানো বিরোধীদের সঙ্গে সংসদের এই অচলাবস্থা কাটাতে দেশটির সরকার আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে সংলাপ শুরু করে।

কুয়েতে রাজনৈতিক দলের অনুমতি না থাকলেও দেশটির সংসদের ক্ষমতা অন্যান্য উপসাগরীয় রাজতন্ত্রের তুলনায় অনেক বেশি। দেশটির সংসদের আইন পাস ও আটকে দেওয়ার ক্ষমতা, মন্ত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের ডাক দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

তবে কুয়েতের নির্বাচিত সংসদ ও গত অক্টোবরে শপথ নেওয়া সরকারের মাঝে সম্প্রতি নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে। দেশটির আইনপ্রণেতারা একটি ঋণ বিল পাসের বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করে। এই বিল পাস হলে দেশটির সরকার নাগরিকদের ব্যক্তিগত ঋণ কিনে নিতে পারবে। এছাড়া ক্ষমতাসীন সরকারের দুই মন্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি তোলেন আইনপ্রণেতারা।

দেশটির মন্ত্রিসভার এক বিবৃতির বরাত দিয়ে কুনা বলেছে, দেশের নির্বাহী এবং আইনসভা কর্তৃপক্ষের সম্পর্কের পরিণতি হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ আহমাদ নাওয়াফ আল-সাবাহ ক্রাউন প্রিন্সের কাছে সরকারের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার দেশটির সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। কুয়েতের সংসদের আর্থিক ও অর্থনৈতিকবিষয়ক কমিটির প্রধান শুয়াইব আল-মুওয়াইজরি রোববার এক টুইটে বলেছেন, সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত কুয়েতিদের জন্য মজুরি, পেনশন এবং সামাজিক সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে ‘আনুষ্ঠানিকভাবে বিকল্প উপস্থাপন না করবে’ ততক্ষণ পর্যন্ত ব্যক্তিগত ঋণ ত্রাণ বিল টেবিলে থাকবে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উন্মুক্ত রাজনৈতিক ব্যবস্থা আছে তেল-গ্যাস সমৃদ্ধ এই দেশটির। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক পরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য, আইনপ্রণেতা এবং মন্ত্রিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পার্লামেন্টে প্রস্তাবও আনতে পারেন আইনপ্রণেতারা।

মন্ত্রিসভা এবং সংসদের মধ্যকার অচলাবস্থা ও বারবার বিবাদের কারণে সরকারে বেশ কয়েকবার রদবদল, সংসদ ভেঙে দেয়ার ঘটনায় দেশটিতে বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সংস্কার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক তারল্য সঙ্কট দেখা দেয়ায় সরকারের বেশ কিছু প্রচেষ্টা জটিল হয়ে উঠেছে।

এর আগে, গত বছরের অক্টোবরে বিরোধীদের সঙ্গে টানাপড়েনের জেরে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের আগে কুয়েতের সরকার পদত্যাগ করে।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা।

কুয়েত,সরকার,পদত্যাগ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close