• মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮
  • ||

দিওয়ালির আগে স্বর্ণ বেচতে মরিয়া ভারতীয়রা

প্রকাশ:  ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১৭:৪৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের মুম্বাইয়ের জুয়েলারি বাজারে নিজের বিয়ের চুড়ি জোড়া দোকানদারের পাল্লায় তুলে দিয়েছেন কবিতা জোগানি। তার মতো হাজার হাজার ভারতীয় তাদের প্রিয় সম্পদ স্বর্ণ বিক্রি করে দিচ্ছেন। তবে এটা সহজ কোনও সিদ্ধান্ত নয়। গত দেড় বছর করোনাভাইরাস লকডাউনের কারণে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় জোগানির গার্মেন্টস ব্যবসা। দোকানের বিল, ১৫ জন কর্মীর বেতন পরিশোধ কঠিন হয়ে পড়ে।

এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি করোনার ধকল কাটিয়ে উঠছে বলে ইঙ্গিত মিললেও বহু ভারতীয় নাগরিকের আর্থিক কষ্ট এখনই নিরসন হচ্ছে না। দোকানদার দাম বলবে এই অপেক্ষায় থাকা ৪৫ বছরের জোগানি বলেন, ‘স্বর্ণ বিক্রি করা ছাড়া আমার আর কোনও উপায় নেই। বিয়ের আগে প্রায় ২৩ বছর আগে এই চুড়ি জোড়া কিনেছিলাম।’

আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা গেছে ব্যবসা বন্ধ এবং কাজ হারানোয় গত বছর প্রায় ২৩ কোটি ভারতীয় দরিদ্র হয়েছেন। ভাড়া, স্কুল ফি এবং হাসপাতালের বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকেই। গত কয়েক সপ্তাহে বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি তাদের অবস্থা আরও নাজুক করে তুলেছে।

অর্থের জন্য মরিয়া বহু পরিবার এবং ছোট ব্যবসার মালিক তাদের শেষ সম্পদ জুয়েলারি বিক্রি করছেন। অনেকে আবার বন্দক রেখে স্বল্প মেয়াদি ঋণ নিচ্ছেন। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান জানাচ্ছে স্বর্ণের জুয়েলারির বিনিময়ে দেশটির ব্যাংকগুলো বছরের প্রথম আট মাসে প্রায় চার লাখ ৭১ হাজার কোটি রুপি ঋণ বিতরণ করেছে। এসব ঋণ গ্রহীতার অনেকেই শোধ করতে পারবেন না, ফলে এসব স্বর্ণ নিলামে তোলা হবে। এই ধরনের নিলামের বিজ্ঞাপনে ছেয়ে যাচ্ছে সংবাদপত্রগুলো।

ভারতের স্বর্ণের আর্থিক এবং সাংস্কৃতিক মূল্য অনেক। বিয়ে, জন্মদিন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় অনুষজ্ঞ এটি। আবার এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে সম্পদ হস্তান্তরের নিরাপদ মাধ্যমও এটি।

বিশ্ব স্বর্ণ কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী ভারতীয়রা ২০২০ সালে ৩১৫.৯ টন স্বর্ণের জুয়েলারি কিনেছে। আমেরিকা, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্য মিলেও এতো স্বর্ণ বিক্রি হয়নি। ভারতের চেয়ে স্বর্ণ কেবল বেশি কিনেছে চীনারা।

ভারতের পরিবারগুলোতে প্রায় ২৪ হাজার টন স্বর্ণ রয়েছে। যার মূল্য দেড় লাখ কোটি ডলার। অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিলের পরিচালক দিনেশ জৈন বলেন, ‘নারী কিংবা যে কোনও বাড়ির জন্য এটাই একমাত্র সামাজিক নিরাপত্তা কেননা সরকারের এই ধরণের কোনও সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচি নেই।’ তিনি বলেন, ‘স্বর্ণ হলো তরল অর্থ। যেকোনও সময়ে এটা অর্থে বদল করা যায়।’

মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক জাভেরি বাজারে ১০৬ বছর ধরে ব্যবসা করছেন কুমার জৈনের (৬৩) পরিবার। তিনি জানান, এতো মানুষকে স্বর্ণ বিক্রি করতে আসতে তিনি কোনও দিন দেখেননি। তিনি বলেন, মহামারির আগে এটা এই রকম ছিলো না।

কুমার জৈন জানান তার কাস্টমার মূলত নারীরা। তারা মূলত চুড়ি আংটি, নেকলেস, কানের দুল বিক্রি করতে আসছেন। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো তারা যখন মঙ্গলসূত্র বিক্রি করতে আসেন। মঙ্গলসূত্র বিবাহিত নারীর চিহ্ন। যখন কোনও নারী গলা থেকে মঙ্গলসূত্র খুলে দিয়ে বলেন এটার বিনিময়ে অর্থ দিন। সেটাই সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি।’

মুম্বাইয়ের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী জোগানি তার স্বর্ণের জুয়েলারি বিক্রি করে খানিকটা স্বস্তি পেয়েছেন। আটটি চুড়ি, একটা ছোট নেকলেস আর কয়েকটি আংটি বিক্রি করে তিনি দুই লাখ রুপি পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আগে এসব জিনিসকে গুরুত্ব দেইনি যখন মা প্রায়ই বলতো স্বর্ণ জমাও। কিন্তু এখন আমি জানি। প্রত্যেকেরই স্বর্ণে জমানো উচিত।’

পূর্বপশ্চিমবিডি/এআই

স্বর্ণ,ভারত
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close