• রোববার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭
  • ||

মানবাধিকার প্রশ্নে ছাড় নয়: তুরস্ককে ইইউ

প্রকাশ:  ০৭ এপ্রিল ২০২১, ১৭:৪৪
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন চাইলে আঙ্কারাকে মানবাধিকারের মৌলিক দিকগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে৷ দেশটির প্রতি এমন বার্তাই দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন৷

সম্প্রতি নারীদের প্রতি সহিংসতা রোধে ৪৫টি দেশের স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক৷ কাউন্সিল অব ইউরোপের উদ্যোগে ২০১১ সালে ইস্তাম্বুলে এই চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়েছিল৷ বিষয়টিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে জার্মানির সাবেক এই প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন আঙ্কারার উদ্দেশ্যে বলেছেন, মানবাধিকারের বিষয়গুলোতে তুরস্কের সঙ্গে কোন সমঝোতা বা ছাড় দেয়া হবে না৷

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি৷ লাইয়েন বলেন, মৌলিক অধিকার ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য অনিবার্য বিষয়৷ তুরস্ক ও ইউরোপের মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সেগুলো অবিচ্ছেদ্য হিসেবে বিবেচিত হবে৷ তুরস্ককে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানদণ্ডগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে৷

লাইয়েনের সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট শার্ল মিশেল। তুরস্কের সরকারের সঙ্গে বৈঠকে তারা ২০১৬ সালের অভিবাসন চুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন৷ অবৈধ বহির্গমন ঠেকানো ও গ্রিস থেকে অবিলম্বে (অবৈধ অভিবাসী) ফেরত নেয়া শুরুর- বিষয়ে তুরস্কের কাছে আহ্বান জানান তারা৷ আলোচনা হয়েছে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিকগুলো নিয়েও৷

বিভিন্ন কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ ও তুরস্কের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল৷ বিশেষ করে ভূমধ্যসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে সাইপ্রাস ও গ্রিসের সঙ্গে দ্বন্দ্বে ইউরোপের সঙ্গে তুরস্কের উত্তেজনা বাড়তে থাকে৷ এমনকি গত ডিসেম্বরে তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়েও আলোচনা শুরু করে ইইউ৷

প্রথমে এই হুমকি অগ্রাহ্য করলেও পরে নরম হতে শুরু করেন এরদোয়ান৷ বিতর্কিত পানিসীমানায় অনুসন্ধান বন্ধ করে আঙ্কারা৷ এর ধারাবাহিকতায় ইউরোপের সঙ্গে আলোচনার দ্বারও উন্মোচিত হয়৷ মহামারি, পর্যটনে ধ্বস, স্থানীর মুদ্রা লিরার দরপতনে তুরস্কের অর্থনীতি বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে৷ একইসঙ্গে এরদোয়ানের মিত্র হিসেবে পরিচিত ডনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় আঙ্কারার দিক থেকে বরফ গলার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে৷ তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা বলছেন সম্পর্কের উন্নয়ন কতটা হবে সেটি নির্ভর করছে তুরস্কের আচরণের উপরই৷

‘যদি এরদোয়ান সহযোগিতাসুলভ মনোভাব না দেখান তাহলে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাবে’- বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন একজন ইইউ কর্মকর্তা৷ এছাড়া পূর্ব ভূমধ্যসাগরের বিতর্কিত সীমানায় জ্বালানি অনুসন্ধান কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হলে ইইউর দিক থেকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি আগে থেকেই রয়েছে তুরস্কের উপরে৷ সূত্র: ডিডব্লিউ, এএফপি, ইএফই

পূর্বপশ্চিমবিডি/আর

মানবাধিকার,ইইউ,তুরস্ক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close