• বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮
  • ||

ঝগড়া-ডিভোর্স রুখতে স্বেচ্ছায় শেকলে বাঁধা স্বামী-স্ত্রী

প্রকাশ:  ১৬ মার্চ ২০২১, ১১:১৮
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

দুদিন পরপর ঝগড়া, দুদিন পরপর ছাড়াছাড়ি আর মানতে পারছিলেন না এক দম্পতি। পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা এবং স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।

আলেক্সান্দর কুডলে আর ভিক্টোরিয়া পুস্তোভিতোভা। তারা স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু দুজনের এত ঝগড়া হতো যে ইউক্রেনের এই দম্পতি দু দিন পরপরই আলাদা থাকতে বাধ্য হতেন। ঘনঘন ব্রেকআপে ক্লান্ত হয়ে সম্পর্কটাকে টিকিয়ে রাখতে অবশেষে হাতকড়া দিয়ে নিজেদের বেঁধে ফেলেছেন তারা।

শুধু আলিঙ্গন করা বা চুমু খাওয়ার সময়ই নয়, সারা দিন সব জায়গায়, সব কাজেই দুজন একসঙ্গে থাকেন। হাতকড়াই এক রাখে তাদের। কোথাও বেড়াতে গেলেও হাতকড়ার কথা মনে রেখে চলতে হয় তাদের।

এখন ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভের ফ্ল্যাটেই থাকছেন আলেক্সান্দর আর ভিক্টোরিয়া।রয়টার্সকে তারা জানান, সবশেষ ছাড়াছাড়ির পর আলেক্সান্দর যথারীতি ফিরে আসার অনুরোধ জানানোয় ভিক্টোরিয়া বলেছিলেন, ‘দু দিন পরপর ঝগড়া আর ব্রেকআপে আমি ক্লান্ত।’ ব্যস, এক পর্যায়ে ঠিক হলো এবার হাতকড়া পরে এক সঙ্গে থাকা শুরু করবেন, ফলে চাইলেও কেউ কাউকে ছেড়ে যেতে পারবে না আর কিছুটা কষ্ট হলেও তাতে মজাও হবে।

কিন্তু এভাবে কতদিন থাকা যাবে? খাওয়া-দাওয়া, ঘুমানো, গোসল, ঘরের যাবতীয় কাজ, এমনকি পায়খানা-প্রস্রাবও হাতকড়া পরা অবস্থায় একসঙ্গে করা তো সহজ কথা নয়! না, ৩৩ বছর বয়সি আলেক্সান্দর আর ২৮ বছর বয়সি ভিক্টোরিয়া সারাজীবন এভাবেই কাটানোর কথা ভাবছেন না। এভাবে আপাতত তিনমাস থাকতে চান তারা।

এমন নয় যে ঝগড়া একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। আলেক্সান্দর জানালেন, ঝগড়া আগের মতোই হয়, তবে চাইলেও কেউ আার ব্যাগ গুছিয়ে চলে যেতে পারেন না। হাত তো বাঁধা, যাবেন কী করে! অগত্যা বাধ্য হয়েই থামাতে হয় ঝগড়া, ফিরতে হয় শান্তিময় স্বাভাবিক জীবনে।ছবিতে রান্নাঘরে দুজনের থালাবাসন ধোয়ার দৃশ্য।

হাতকড়া তাদের প্রতিটি কাজে পারস্পরিক বোঝাপড়ার গুরুত্ব বুঝিয়ে দিচ্ছে, বোঝাপড়া ঠিক না থাকলে এভাবে একসঙ্গে জুতা পরাও তো সম্ভব হতো না। সূত্র: ডয়েচে ভেলে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/ এনএন

ঝগড়া,ডিভোর্স
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close