• বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭
  • ||

অবশেষে মুক্তি পেলেন পরিবেশকর্মী দিশা

প্রকাশ:  ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০১:২৫
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের কৃষক আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত অনলাইন প্রচার পুস্তিকা ‘টুলকিট’ নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে শেয়ার করার অভিযোগে গ্রেপ্তার পরিবেশকর্মী দিশা রাভি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ ও ‘অপরাধমূলক’ ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার মামলায় গ্রেপ্তার দিশার জামিন মঞ্জুর করেন দিল্লির সেশন আদালত। জামিন আদেশের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই তিহার জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয় আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার স্ট্রাইকের ভারত শাখার এই সংগঠককে।

সম্পর্কিত খবর

    মঙ্গলবার দিল্লির সেশন আদালতে দিশা রাভির জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়। শুনানিতে আবেদনের বিরোধিতা করে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, পাঞ্জাবের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সংগঠন পিজিএফের সঙ্গে দিশা রবির যোগাযোগ আছে। এছাড়া নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে তিনি ‘টুলকিট’ নামের যে কনটেন্টটি শেয়ার করেছেন, তার পেছনে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ উপাদান রয়েছে।

    অতিরিক্ত সেশন জজ ধর্মেন্দ্র রানা এ সময় পিজিএফের সঙ্গে দিশার যোগাযোগ বিষয়ক তথ্য-প্রমাণ দেখতে চাইলে পুলিশ বলে, তাদের তদন্ত চলমান রয়েছে; শিগগিরই এই অভিযোগের পক্ষে যথাযথ তথ্যপ্রমাণ আদালতে জমা দেওয়া হবে।

    তারপর বিচারক দিশার জামিন মঞ্জুর করে এ বিষয়ে দেওয়া আদেশে বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগের পক্ষে যেসব তথ্য প্রমাণ আনা হয়েছে তা অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে খুবই দুর্বল। এছাড়া সরকারের কোনো নীতি বা আইনের বিরোধিতা করা এবং রাষ্ট্রের বিরোধিতা করা— এ দু’য়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে।

    ধর্মেন্দ্র রানা বলেন, ’২২ বছর বয়সী এই তরুণী, যার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধ কিংবা ক্ষতিকর কোনো কাজে সংশ্লিষ্ট থাকার রেকর্ড নেই, তাকে জামিন না দেওয়ার মতো কোনো যৌক্তিক কারণ আমি খুঁজে পাচ্ছি না।’

    টুলকিটে রাষ্ট্রদ্রোহের উপদান রয়েছে বলে পুলিশ যে অভিযোগ জানিয়েছে, তাও মঙ্গলবারের আদেশে খারিজ করে দিয়েছেন বিচারক।

    আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন ফ্রাইডেজ ফর ফিউচারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং এই সংগঠনের ভারত শাখার সংগঠক দিশা রাভিকে ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু জেলার সোলাদেভানাহাল্লি গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশের একটি দল।

    গ্রেপ্তারের পর রাষ্ট্রদ্রোহ ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয় দিশার বিরুদ্ধে। পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে দিল্লির একটি আদালত তার পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতও মঞ্জুর করেন।

    গত বছর সেপ্টেম্বরে কৃষিব্যবস্থা বিষয়ক তিনটি আইন প্রবর্তন করে ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। আইনগুলোতে কৃষিপণ্য মজুদ, মূল্য নির্ধারণ ও বিক্রির বিষয়ে বিদ্যমান কৃষি ব্যবস্থায় যে বিধিনিষেধগুলো রয়েছে সেগুলো শিথিল করা হয়।

    ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যদিও বলছে, দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে আধুনিক ও মুক্তবাজার অর্থনীতির উপযোগী করতেই এই আইনগুলো পাস করা হয়েছে; কিন্তু কৃষকদের বক্তব্য- আইনগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন শুরু করলে কৃষি পণ্যের বাজারে ভয়াবহ বিপর্যয় ও ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।

    আইনগুলো বাতিলের দাবিতে গত তিনমাস ধরে দিল্লির সীমান্তে আন্দোলন করছেন কয়েক লাখ কৃষক; আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা যাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    যা রয়েছে ‘টুলকিটে’

    সহজ করে বললে টুলকিটের সঙ্গে প্রচার পুস্তিকার তুলনা করা যায়। কৃষক আন্দোলন শুরু হওয়া থেকে নানা খুঁটিনাটি বিষয়ে তথ্য রয়েছে ওই টুলকিটে।সেটিকেই নিশানা করেছে দিল্লি পুলিশ।

    গত ৪ ফেব্রুয়ারি ভারতে চলমান কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করে প্রথমবার নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে ‘টুলকিট’ শেয়ার করেছিলেন আন্তর্জাতিক জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। এর জেরে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘নাক গলানোর’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাও করেছিল দিল্লি পুলিশ।

    গত ১৩ ফেব্রুয়ারি গ্রেপ্তারের পর প্রথম যখন দিশা রাভিকে আদালতে হাজির করা হয়, তখন তিনি বলেছিলেন—এই কনটেন্ট তিনি তৈরি করেন নি, শুধু শেয়ার করেছেন এবং এই শেয়ারের একমাত্র কারণ- তিনি ভারতের কৃষকদের আন্দোলনকে সমর্থন করেন।

    পিপি/জেআর

    পরিবেশকর্মী দিশা
    মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
    cdbl
    • সর্বশেষ
    • সর্বাধিক পঠিত
    close