• বুধবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৩ মাঘ ১৪২৭
  • ||

টিকার খবর নাই, বাংলাদেশের কাছে ৫০০ কোটি টাকা চায় সেরাম

প্রকাশ:  ০৫ জানুয়ারি ২০২১, ১৬:২১
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্সফোর্ডের টিকা বাংলাদেশ ও ভারত একই দিনে পাবে এ ধরনের কোনো কথা চুক্তিতে নাই বলে সংবাদ সংস্থা ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস-এর চিফ অপারেটিং অফিসার রাব্বুর রেজা।

তিনি জানান, “আমাদের সাথে যে চুক্তি হয়েছে তাতে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ভ্যাক্সিনের অনুমোদন দেওয়ার এক মাসের মধ্যে অক্সফোর্ড টিকার প্রথম চালানটি পাবে। বাকি চালানগুলো আসবে ছয় মাসের মধ্যে।”

গত নভেম্বরে বেক্সিমকোর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে তিন কোটি ডোজ অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন আনার চুক্তি করে। জানুয়ারি মাসে তার প্রথম চালান ৫০ লাখ ডোজ টিকা আসার কথা। কিন্তু রোববার সেরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদর পুনাওয়ালা এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ভারত সরকার জরুরি ভিত্তিতে টিকাটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার সাথে শর্ত আরোপ করে দিয়েছে- এটি আপাতত অন্য কোনো দেশে রপ্তানি করা যাবে না। তিনি বলেন, এই মূহুর্তে আমরা কেবল ভারত সরকারকেই এই টিকা দিতে পারব। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছেও বিক্রি করা যাবে না।

ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে তৈরি করোনা ভাইরাসের টিকা ভারতে উৎপাদনের দায়িত্ব পেয়েছে সেরাম ইনস্টিটিউট। তারা এক বিলিয়ন ভ্যাকসিন উৎপাদন করছে।

এই বক্তব্যে বাংলাদেশের টিকা পাওয়া নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়। সোমবার সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন বলেন, “এটি নিয়ে দিল্লিতে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আমরা পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করছি।” আর দুপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, “আমরা আশা করছি চুক্তি অনুযায়ী টিকা পাব। তবে কবে পাব বলতে পারছি না।”

অবশ্য এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ স্বাস্থ্য প্রশাসন বলেছে, “চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ভারত যেদিন টিকা পাবে, বাংলাদেশও সেদিন পাবে। আর দামও হবে এক।”

কিন্তু চুক্তিতে এধরনের কোনো শর্ত নেই বলে এখন জানাচ্ছে বেক্সিমকো। ন্যাশনাল ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির চেয়ার ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, “আমরাও তো জানতাম ভারত যেদিন টিকা পাবে বাংলাদেশও সেদিন পাবে। কিন্তু এখন তো পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। ভারত টিকা রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বলে জেনেছি। আমরা আলাপ আলোচনা করছি। এখনও সঠিক কোনো তথ্য নাই আমাদের কাছে। কবে টিকা পাব তা এখন আর নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।”

রাব্বুর রেজা বলেন, “আমরা সেরাম ইনস্টিটিউটের সাথে কথা বলেছি। কথা বলে মনে হয়েছে তারা আমাদের সাথে যে চুক্তি আছে তা অনুযায়ী তারা টিকা দেবে। ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে আমাদের চুক্তির কোনো হেরফের হবেনা।”

আর সেরাম ইনস্টিটিউট সোমবার জানিয়েছে, ভারতের প্রয়োজন মেটানোর পর তারা রপ্তানি করতে পারবে। তার অনুমতির প্রক্রিয়াও চলছে। তবে এরজন্য কয়েক মাস লেগে যেতে পারে।

বাংলাদেশেঅক্সফোর্ডের টিকার অনুমোদনের জন্য আজ(সোমবার) ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে মাত্র। এত দেরি হলো কেন জানতে চাইলে ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, “আমরা ভারতের অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিলাম। ভারত তো মাত্র একদিন আগে অনুমোদন দিয়েছে। আশা করি দ্রুতই আমরা অনুমোদন পাব।”

“আমরাও জানতাম ভারত যেদিন টিকা পাবে বাংলাদেশও সেদিন পাবে”:মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেটার জন্য আমরা বসে থাকব না। ভ্যাকসিনের প্রয়োগ পর্যায়ে পেলেই হবে।”

এদিকে সেরাম ইনস্টিটিউ টিকার জন্য ৬০ মিলিয়ন ডলারের ব্যাংক গ্যারান্টি চেয়েছে। বাংলাদেশ তার জন্যও কাজ করছে। রাব্বুর রেজা বলেন, “তারা শুরুতে তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিনের অর্ধেক মানে দেড় কোটির জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি চেয়েছে। আমরা মনে হয় তাদের ওই গ্যারান্টি এরইমধ্যে দিয়ে দেয়া হয়েছে।”

চুক্তি অনুসারে প্রতি ডোজ টিকার দাম ৪৫০ টাকা বা পাঁচ ডলার। পরিহন খরচ ৮৫ টাকা বা এক ডলার ধরা হয়েছে। সূত্র: ডয়েচে ভেলে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/ এনএন

ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট,ভারত,ভ্যাকসিন
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close