• মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
  • ||

যে শহরে আগামী ৬৫ দিন দেখা মিলবে না সূর্যের

প্রকাশ:  ২১ নভেম্বর ২০২০, ১৬:৩৮
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উৎকিয়াৎভিক, ছোট্ট এই শহরটির নামটা একটু ভিন্ন। নামের মতো এখানে ঘটতে চলা ঘটনাটাও চমকে দেয়ার মতো। শহরের বাসিন্দারা ২০২০ সালের শেষ সূর্যাস্ত দেখেছে বুধবার (১৮ নভেম্বর)। ওইদিন স্থানীয় সময় দেড়টায় সেখানকার সূর্য দিগন্তে চলে গেছে। এবছর আর সূর্যের দেখা পাবেন না যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার এই শহরের বাসিন্দারা। সেটা আবার ফিরে আসবে ২২ জানুয়ারি! অর্থাৎ মাঝে ৬৫ দিন সূর্যের কোনও সাক্ষাৎ পাবেন না ব্যারো নামে পরিচিত এই শহরের অধিবাসীরা।

তবে এটা কোনও আচমকা ঘটে যাওয়া মহাজাগতিক ঘটনা নয়। এই শহরের মানুষ সূর্যের এই বার্ষিক অন্তর্ধান সম্পর্কে অভ্যস্ত। প্রতি বছরই শীতকালে দু’মাসের জন্য সূর্য এখানকার আকাশ থেকে ছুটি নেয়। আসলে পৃথিবীর একেবারে প্রান্তদেশে অবস্থানের কারণেই এমনটা ঘটে। একে বলে ‘পোলার নাইট’ বা মেরু রাত্রি।

তাহলে কি এই দু’মাসেরও বেশি সময় অন্ধকারে ডুবে থাকবে শহরটা? না, তেমনটা হবে না। এই সময়কালে প্রতিদিনই ভোর হবে আগের মতোই। তবে দীর্ঘ সময় ধরে নয়, আলো থাকবে কয়েক ঘণ্টা। তারপর তা কমে গিয়ে অন্ধকার নেমে আসবে। কিন্তু আলো থাকার সময়ও দিগন্তের উপরে মুখ তুলতে দেখা যাবে না সূর্যকে। সে থাকবে অদৃশ্যই।

গত কয়েকদিন ধরেই এখানকার আকাশ ছিল মেঘলা। অবশেষে বুধবারই আচমকা আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়। আলাস্কার ওই শহরের এক বাসিন্দা ইনস্টাগ্রামে সেকথা জানিয়ে লেখেন, “মেঘ সরে গিয়ে সুযোগ করে দিল আমাদের উজ্জ্বল প্রিয় এই বন্ধুটিকে বিদায় জানানোর।”

সেই সঙ্গে তিনি শেয়ার করেছেন একটি চমৎকার ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমের আকাশে ফুটে ওঠা অস্তরাগ। সেই মুহূর্তের বিষণ্ণতাকে বর্ণনা করতে গিয়ে বিষণ্ণ সেই তরুণী লিখেছেন, “আমি চুপ করে বসে আছি তুষারাচ্ছন্ন এই তুন্দ্রা অঞ্চলে। চোখ পানিতে ভরে উঠছে। এটা লিখতে লিখতে অনুভব করছি আগামী শান্তিপূর্ণ অন্ধকারময় দিনগুলোকেও। শুরু হচ্ছে মেরুরাত্রি।”

আলাস্কার এই শহরের বাসিন্দারা অবশ্য আরেকটি অভিজ্ঞতারও শরিক। এখন যেমন দু’মাস সূর্যের দেখা মিলবে না, তেমনই বছরের দু’মাস আকাশে সারাক্ষণই থেকে যায় সূর্য! হ্যাঁ, ২৪ ঘণ্টাই। তখন রাত বলে কিছুই থাকে না এখানে। সূত্র: রিপাবলিকওয়ার্ল্ড

পূর্বপশ্চিমবিডি/ এনএন

সূর্য,উৎকিয়াৎভিক,আলাস্কা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close