• বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
  • ||

আমিরাতের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশ:  ১৯ অক্টোবর ২০২০, ২০:৫১
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আমিরাতের মিনিস্টার ফর টলারেন্স তথা পরমতসহিষ্ণুতাবিষয়ক মন্ত্রী শেখ নাহিয়ান বিন মুবারক আল নাহিয়ান। ছবি: বিবিসি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাহিত্য উৎসবের এক কর্মীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বিবিসি জানিয়েছে, দেশটির মিনিস্টার ফর টলারেন্স তথা পরমতসহিষ্ণুতাবিষয়ক মন্ত্রী শেখ নাহিয়ান বিন মুবারক আল নাহিয়ানের বিরুদ্ধে অভিযোগটি এনেছে আন্তর্জাতিক সাহিত্য ও শিল্প উৎসব ‘হে ফেস্টিভ্যাল’র কর্মকর্তারা। তবে এ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী আল নাহিয়ান। তার আইনজীবীরা বলেছেন, এ অভিযোগে তিনি ‘বিস্মিত এবং মর্মাহত’ হয়েছেন।

হে উৎসবের সভাপতি ক্যারোলাইন মিশেল বলেছেন, তাদের কর্মী কেইটলিন ম্যাকনামারা দাবি করেছেন, শেখ নাহিয়ান এ বছরের গোড়ার দিকে তার ওপর যৌন হামলা চালান এবং তিনি এর জন্য আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন।

মিশেল আরও বলেন, শেখ নাহিয়ান বিন মুবারক আল নাহিয়ান দেশটির সহিষ্ণুতাবিষয়ক মন্ত্রীর পদে যতদিন থাকছেন, ততদিন তারা আবুধাবিতে এই উৎসবের আয়োজন করা থেকে বিরত থাকবেন।

দ্য সানডে টাইমস পত্রিকাকে ৩২ বছর বয়সী ম্যাকনামারা জানিয়েছেন, তিনি যে হামলার অভিযোগ করছেন সেটি ঘটেছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি, প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি ব্যক্তিগত মালিকানার দ্বীপে এক আবাসিক অট্টালিকায়।

আবুধাবিতে এ বছর প্রথমবারের মতো যে হে সাহিত্য ফেস্টিভাল আয়োজন করা হয়েছিল, ওই ঘটনার ১১ দিন পর তার উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। মিস ম্যাকনামারা ভেবেছিলেন ওই উৎসব নিয়ে কথা বলার জন্য তাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

ম্যাকনামারা বলেন, তার ওপর নির্যাতনের ওই ঘটনার পরপরই তিনি বিষয়টি তার চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান এবং দেশটিতে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন।

ব্রিটেনে করোনাভাইরাস লকডাউন প্রত্যাহারের পর তিনি কেন্ট এলাকার পুলিশ স্টেশনে গিয়েও ঘটনাটি জানান।

সানডে টাইমস পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ব্রিটেনের সরকারি কৌঁসুলি বিভাগ এই মামলা নেবে কিনা, তা জানার জন্য ম্যাকনামারা অপেক্ষা করছেন। তিনি বলেন, তিনি ব্যক্তিগত পরিচয় গোপন রাখার অধিকার বিসর্জন দিয়ে এ ঘটনার কথা সবার সামনে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ তার ভাষ্য অনুযায়ী, আমি মনে করেছি আমার হারাবার কিছু নেই।

ম্যাকনামারা বলেন, আমি এটা করতে চেয়েছি, কারণ তার মত ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা কী করতে পারেন সেটা আমি জানাতে চাই। তারা মনে করেন তারা এ ধরনের কাজ করতে পারেন এবং পার পেয়ে যেতে পারেন।

তিনি বলেন, তার বাসভবন যেভাবে সাজানো তা থেকে এটা স্পষ্ট যে আমি প্রথম নারী নই, এবং আমি শেষ নারীও নই। ওই ঘটনা আমার ওপর বিশালভাবে মানসিক ও শারীরিক প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু তার জন্য হয়ত এটা নিছক একটা খামখেয়ালির মতো।

সানডে টাইমস বলছে, এই অভিযোগ সম্পর্কে শেখ নাহিয়ানের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি কোন উত্তর দেননি। তবে লন্ডনে মানহানি মামলার আইনি প্রতিষ্ঠান শিলিংসের আইনজীবীদের একটি বিবৃতি পত্রিকাটিকে দেয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, আমাদের মক্কেল এই অভিযোগে বিস্মিত এবং মর্মাহত। এই ঘটনা যখন ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে, তার আট মাস পর এটা জানানো হচ্ছে এবং জানানো হচ্ছে একটি জাতীয় সংবাদপত্রের মাধ্যমে। এই ঘটনার বিবরণ অস্বীকার করা হচ্ছে।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

নারী নির্যাতন,সংযুক্ত আরব আমিরাত
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
cdbl
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close