• বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২০, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

করোনা রোগীদের চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিষিদ্ধ করল ইউরোপীয় দেশগুলো

প্রকাশ:  ২৮ মে ২০২০, ১১:৫৫
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো। এর আগে করোনার চিকিৎসায় ম্যালেরিয়ার এই ওষুধটি মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে প্রমাণিত হওয়ায় আপাতত এর ব্যবহার বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পথ ধরে করোনা রোগীদের হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ফ্রান্স, ইতালি ও বেলজিয়াম।

বুধবার যুক্তরাজ্যের এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, বৈশ্বিক উদ্বেগের কারণে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের একটি ট্রায়াল বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। মাত্র সপ্তাহখানেক আগেই এই ট্রায়াল শুরু করেছিল ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড। এতে অন্তত ৪০ হাজার স্বাস্থ্যসেবা কর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। অক্সফোর্ডের এই ট্রায়ালে আংশিক অর্থায়ন করেছে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন।

এর আগে, প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলোতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ইতিবাচক ফল দিতে পারে জানানোর পর বেশ কয়েকটি দেশ এটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও এটি সেবন করেছেন বলে জানিয়েছিলেন। হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনকে করোনাযুদ্ধের ‘গেমচেঞ্জার’ বলেও অভিহিত করেছিলেন তিনি।

তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে ওষুধটি করোনা রোগীদের মৃত্যুহার বৃদ্ধি, শরীরে হৃদযন্ত্রের গুরুতর সমস্যাসহ নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে বলে প্রমাণিত হয়েছে। বুধবারই ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করেছে।

মঙ্গলবার ফ্রান্সের পবালিক হেলথ অ্যাজেন্সি ওষুধটি শুধু ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ছাড়া সাধারণভাবে করোনা চিকিৎসায় ব্যবহার না করার পরামর্শ দেয়। তবে এই পরামর্শের কয়েক ঘণ্টা পর একই দিন ফ্রান্সের ন্যাশনাল মেডিসিন রেগুলেটর হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের সকল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল স্থগিত ঘোষণা করে। এর একদিন বাদে ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার না করার নির্দেশ দিলো।

এদিকে, করোনা চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের ক্ষেত্রে একই রকম সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ইতালি ও বেলজিয়াম। বুধবার দুই দেশের ওষুধ সংস্থা করোনা চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করেছে।

এদিন বেলজিয়ামের ওষুধ সংস্থা নিবন্ধিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে করোনা চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ওষুধটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানেও ঝুঁকি রয়েছে।

ইতালির ওষুধ সংস্থা জানিয়েছে, করোনা চিকিৎসায় খুব সামান্য বা কোন সুবিধা ছাড়াই ওষুধটি ব্যবহারে বরং ঝুঁকির মাত্রা বেশি। ফ্রান্স ও ইতালির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বাইরে করোনার চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার উচিত হবে না। বেলজিয়ামের নীতি নির্ধারকরা বলেছেন, ওষুধটির কার্যকারিতা মূল্যায়নে ট্রায়ালের সময় এর ঝুঁকির বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া উচিত।

জার্মানির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা ল্যানসেটের প্রতিবেদন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিদ্ধান্তের ওপর নজর রেখেছেন। তবে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহার বন্ধের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি দেশটি।

এদিকে ঝুঁকির সতর্কতা সত্ত্বেও এখনও বেশ কিছু দেশে করোনা রোগীদের ওপর চলছে এর ব্যবহার। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) হাসপাতালগুলোতে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ‘জরুরি ক্ষেত্রে ব্যবহার’-এর অনুমতি দিয়েছে। তবে হৃদযন্ত্রের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ছাড়া করোনার চিকিৎসায় এর ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছে তারা।

বিশ্বে করোনাভাইরাস সংক্রমণের নতুন কেন্দ্র লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন করোনা রোগীসহ সামান্য উপসর্গধারীদের ওপরও এটি প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে তারা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য প্রতিরোধী ওষুধ হিসেবে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার বাড়িয়েছে ভারত।

আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়াও একই ধরনের ওষুধ ক্লোরোকুইনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ড. টেড্রস অ্যাডহানম গেব্রেইয়েসুস বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্বাহী গ্রুপ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের যেসব ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে তাতে সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছে। নিরাপত্তা পর্যবেক্ষক বোর্ড এসব ট্রায়ালের সকল নিরাপত্তা পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে।

গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রসিদ্ধ জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট- এর এক গবেষণা প্রকাশ হওয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এমন সিদ্ধান্ত নেয়। ওই গবেষণায় বলা হয়, ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর শরীরের প্রয়োগ করার পর তাদের মৃত্যু ঝুঁকি আরও বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিদ্ধান্তের দুই দিন পর ফ্রান্স, ইতালি, বেলজিয়ামও করোনা চিকিৎসায় ওষুধটি নিষিদ্ধ করছে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

করোনা,ইউরোপীয় দেশগুলো,বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা,কভিড
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close