• মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধকোটি ছাড়াল

প্রকাশ:  ২১ মে ২০২০, ১০:১৪ | আপডেট : ২১ মে ২০২০, ১০:২১
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস মৃত্যুর হার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সংক্রমণের হার কোনোভাবেই কমছে না। দিনে দিনে তা বাড়ছেই দিকে। এরই মধ্যে বিশ্বে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা অর্ধকোটি ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যু ছাড়িয়েছে সোয়া ৩ লাখের বেশি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ৯টায় করোনা মহামারির আন্তর্জাতিক জরিপ প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বে করোনা রোগীর মোট সংখ্যা ৫০ লাখ ৮৮ হাজার ৪৭৩ জন, মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৭২ জন। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠেছেন ২০ লাখ ২৩ হাজার ৪৪৯ জন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৭ লাখ ৩৫ হাজার ২৫২ জন। এদের মধ্যে ৪৫ হাজার ৭৯৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গতবছর ডিসেম্বরের ৩১ তারিখে চীনের উহানে অজ্ঞাত কারণে মানুষের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সে হিসাবে সংক্রমণ ছড়ানোর ১৪২ দিনে বিশ্বজুড়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫০ লাখ ছাড়াল।

করোনা মহামারির বিস্তারের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শনাক্তের তারিখের ৬৭ দিনের মাথায়, গত ৬ মার্চ বিশ্বজুড়ে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ছাড়ায়। এর ২০ দিনের মাথায় রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে যায়। তার আট দিন পর, গত ২ এপ্রিল সংক্রমিত রোগী ১০ লাখ হয়ে যায়। ১৫ এপ্রিল, অর্থাৎ ১৪ দিনের মাথায় রোগীর সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়ায়। ২১ এপ্রিল রোগী ২৫ লাখ হয়। তার ঠিক ৩০ দিনের মাথায়, গতকাল ২০ মে রোগীর সংখ্যা ৫০ লাখ হলো।

অঞ্চল হিসেবে করোনার রোগী সবচেয়ে বেশি রয়েছে ইউরোপে। এই অঞ্চলে বুধবার পর্যন্ত ১৮ লাখ ২৫ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার। এই অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি রোগী এখন রাশিয়ায়। দেশটিতে রোগীর সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়েছে। রাশিয়ায় ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৭৬৪ জন। মারা গেছেন ১৩৫ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃত্যু ২ হাজার ৯৭২ জন। তবে ইউরোপের অন্য দেশগুলোয় সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে আসছে ধারাবাহিকভাবেই।

আক্রান্তের সংখ্যায় স্পেনে মঙ্গলবার মারা গেছেন ৬৯ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৮০০ করোনা সংক্রমিত রোগীর। ইতালিতে ওই দিন মারা গেছেন ১৬২ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃত্যু ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যে মঙ্গলবার আবার মৃত্যু বেড়েছে। ওই দিন দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ৫৪৫ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃত্যু ৩৫ হাজার ছাড়িয়েছে। ফ্রান্সে মৃত্যু ছাড়িয়েছে ২৮ হাজার।

ইউরোপের পর সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছে উত্তর আমেরিকায়। এই অঞ্চলে বুধবার পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ। মারা গেছেন ১ লাখের বেশি। এর মধ্যে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রেই রোগী রয়েছেন ১৫ লাখ ৭০ হাজারের বেশি। মারা গেছেন প্রায় ৯৪ হাজার। মঙ্গলবারই দেশটিতে রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২০ হাজারের বেশি। ওই দিন দেশটিতে করোনায় মারা গেছেন ১ হাজার ৫৫২ জন। এ ছাড়া এই অঞ্চলের দেশ কানাডায় শনাক্ত হওয়া ৭৯ হাজারের বেশি রোগীর মধ্যে মারা গেছেন প্রায় ৬ হাজার। মেক্সিকোতে রোগী ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে, মারা গেছেন ৫ হাজার ৩০০ জনের বেশি।

করোনা আক্রান্ত প্রায় প্রায় সাড়ে ৮ লাখ রোগী রয়েছে এশিয়া মহাদেশে। এ পর্যন্ত মারা গেছেন সাড়ে ২৫ হাজার। রোগীর সংখ্যার দিক থেকে এই অঞ্চলে শীর্ষে রয়েছে তুরস্ক। দেশটিতে রোগী শনাক্ত হয়েছে দেড় লাখের বেশি। মারা গেছেন ৪ হাজারের কিছু বেশি। তবে মৃত্যুর হিসাবে এই অঞ্চলে শীর্ষে রয়েছে ইরান। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছে। রোগী শনাক্ত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার। এর পরেই তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। এই দেশে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১১ হাজার ছাড়িয়েছে সোমবারই। গতকাল পর্যন্ত ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি রোগী মারা গেছেন। পাকিস্তানে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪৭ হাজার। মৃত্যু ১ হাজার ছাড়িয়েছে গতকাল। তবে এশিয়ার যে দেশ থেকে করোনা মহামারি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, সেই চীনে এক মাসের বেশি সময় ধরে করোনায় কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

দক্ষিণ আমেরিকায় রোগী আছে প্রায় ৫ লাখ। এর মধ্যে মারা গেছেন প্রায় সাড়ে ২৫ হাজার। এর মধ্যে ব্রাজিলেই রোগী শনাক্ত হয়েছেন প্রায় পৌনে ৩ লাখ। মারা গেছেন প্রায় ১৮ হাজার। দেশটিতে মঙ্গলবার মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ১৩০ জনের। ব্রাজিলে করোনা মহামারিতে এ পর্যন্ত এ দিনই সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। লাতিন আরেক দেশ পেরোতে রোগী লাখ ছুঁই ছুঁই। দেশটিতে মারা গেছেন প্রায় ৩ হাজার রোগী।

তুলনামূলক কম সংক্রমিত মহাদেশ আফ্রিকায় শনাক্ত হয়েছেন ৯৩ হাজারের কিছু বেশি। মারা গেছেন প্রায় ৩ হাজার। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি ১৭ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দেশটিতে মারা গেছেন তিন শতাধিক। মৃত্যুতে এই অঞ্চলে শীর্ষে রয়েছে মিসর। দেশটিতে এ পর্যন্ত মারা গেছেন প্রায় ৭০০ রোগী। মিসরে রোগী শনাক্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার। এ ছাড়া আলজেরিয়ায় মারা গেছেন পাঁচ শতাধিক।

এছাড়া ওশেনিয়া অঞ্চলে রোগী শনাক্ত হয়েছেন সাড়ে ৮ হাজারের কিছু বেশি। মারা গেছেন ১২১ জন। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায়ই মারা গেছেন ১০০ জন। দেশটিতে রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৭ হাজারের বেশি। নিউজিল্যান্ডে শনাক্ত হওয়া দেড় হাজার রোগীর মধ্যে মারা গেছেন ২১ জন। এই দেশে এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৫ জন রোগী। বাকিরা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। ওশেনিয়ার বাকি দেশগুলোয় রোগী শনাক্ত হলেও করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি।

পূর্বপশ্চিম- এনই

বিশ্বে করোনা,করোনায় বিশ্ব,করোনায় আক্রান্ত,করোনায় মৃত্যু
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close