• শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২০, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭
  • ||
শিরোনাম

চীনে করোনা নিয়ে মুখ খুললেই, গ্রেপ্তার অপহরণ গুম 

প্রকাশ:  ৩১ মার্চ ২০২০, ১০:২০
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

চীনের উহান থেকে করোনাভাইরাস ইতোমধ্যে ২ শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী ৭ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে এই ভাইরাসে। মারা গেছে সাড়ে ৩৭ হাজার।

চীন সরকারের হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এই ভাইরাসেরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৩ হাজার ৩শ’ জন। তবে এ সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে অভিযোগ উঠেছে বিশ্ব গণমাধ্যমে।

চীন সরকারের পক্ষ থেকে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার দাবি করা হলেও বাস্তব অবস্থা ভিন্ন। এখনো এর বিরুদ্ধে প্রাণপণ যুদ্ধ চালিয়ে আসছেন চীনা নাগরিকরা। তাদের চেয়েও বড় যুদ্ধ করতে হচ্ছে দেশটির সাংবাদিকদের।

দেশটির অনেক সাংবাদিক সরকারের গোপন করা তথ্য প্রকাশ্যে আনার চেষ্টা করছেন। তবে এক্ষেত্রে তাদেরকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে ভয়াবহ পরিণতির।

সাংবাদিকদের মাঝে এই স্প্রীহা তৈরি হয়েছে চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াঙ্গের মৃত্যুর পর থেকে, যিনি চীন সরকারকে আগেই এই ভাইরাস নিয়ে সতর্ক করেছিল। কিন্তু সরকার তাতে কান দেয়নি। বরং তার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল। অবশেষে তার কথা সত্যে পরিণত হয় এবং তাকেও প্রাণ দিতে হয় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে।

ডাক্তার লি ওয়েনলিয়াঙ্গের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় বইয়ে যায় বিশ্বব্যাপী। চীনে তিনি হয়ে ওঠেন নায়ক। সাংবাদিকরাও সোচ্চার হন। কিন্তু চীন সরকার হয়ে ওঠে আরও ভয়ঙ্কর।

জানা গেছে, যিনিই চীনের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলছে তাকেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অনেককে গুমও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইথান চেন নামের এক সাংবাদিক বলেন, চীন সরকার চায় না দেশটির করোনা পরিস্থিতি প্রকৃত চিত্র সে দেশের নাগরিকরা ও বিশ্ববাসী জানুক। শুধু সত্য কথা বলার জন্য অনেককে আটক করা হয়েছে। অনেককে গুমও করা হয়েছে। আমাকেও যেকোনও সময় এই পরিণতি বরণ করতে হতে পারে।

চীনা মানবাধিকার কর্মী হু জিয়া বলেন, আমার সঙ্গে যা ঘটেছে তা অবিশ্বাস্য। একদিন আমার রেডিও ফ্রি এশিয়ায় একটি টক শো ছিল, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে। শো-এর আগে আমার বাসার সামনে পুলিশ আসে। আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং কঠোরভাবে নিষেধ করা হয় ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। তারপরও আমার ইচ্ছা ছিল টক শো’তে অংশ নেওয়ার। কিন্তু পারেনি। পুলিশ আবারও এসে হানা দেয় আমার বাড়িতে। বেশ কিছুক্ষণ তর্ক করার পর আমাকে গৃহবন্দি করা হয়। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউকে


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

চীন,করোনা,গ্রেপ্তার,গুম,অপহরণ
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close