• রোববার, ০৭ জুন ২০২০, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

করোনাভাইরাস ও একটি জানাজার চিত্র

প্রকাশ:  ৩০ মার্চ ২০২০, ০০:৫৭ | আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২০, ০১:০১
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

ছবিটি একটি জানাজার। বার্মিংহামের প্রতিবেশী টাউন ওয়ালসালের স্ট্রিটলি ক্রেমিটেরিয়ামের। ওয়ালসালের প্লেইক এলাকার বাসিন্দা বাশারত হোসেন। ৬৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তি সাত সন্তানের জনক। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় হার্টল্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ২৭ মার্চ স্ট্রিটলি ক্রেমিটেরিয়ামের খুব সংক্ষিপ্ত পরিসরে জানাজা শেষে তার লাশ দাফন করা হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য ও দুয়েকজন আত্মীয় তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানায়। কিন্তু এটি ধরনের সংক্ষিপ্ত আয়োজনের জানাজা তার পরিবারের সদস্য ও কমিউনিটিকে খুবই বেদনার্ত করেছে।

তার পরিবারের সদস্য ও কমিউনিটি নেতারা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময় হলে এবং সরকারের তরফে বর্তমান পরিস্থিতিতে সুরক্ষা নিষেধাজ্ঞাগুলি কার্যকর না হলে বাশারত হোসেনের জানাজায় আত্মীয়স্বজনসহ হাজারো লোকের সমাবেশ গড়তো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কেবল পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন ঘনিষ্ট আত্মীয় মিলে মাত্র ১৫ জন তার জানাজায় অংশ নিয়ে শেষ বিদায় জানাতে পেরেছে। যারা জানাজায় অংশ নিয়েছেন তাদের দাঁড়াতে হয়েছে নির্দিষ্ট দূরত্ব রক্ষার নিয়ম মেনে। এই ১৫ জনের উপস্থিতির জন্যও নিতে হয়েছে কাউন্সিলের অনুমতি।

ইউনিয়ন অব মুসলিম অর্গানাইজেশন (ইউএমও) এর অন্তর্বর্তী চেয়ারম্যান ও বাশারত হোসেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মোহাম্মদ আরিফ বলেছেন- ‘কাউন্সিল অফিসাররা উপস্থিতি সংখ্যায় সামান্য বৃদ্ধি করার অনুমতি দিয়েছিলেন। ইউএমওর পক্ষ থেকে আমরা পরিবারের নিকটতম সদস্যদের জানাজায় অংশ নিতে সহায়তা করার জন্য ন্যূনতম সংখ্যা বিধি শিথিল করায় বেরিভেমেন্ট সার্ভিসকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সেই সঙ্গে লোকজন ঘরে অবস্থান করে ফোনে মরহুমের পরিবারের খোঁজ নিয়ে সরকারি নির্দেশনা রক্ষা করায় আমরা ধন্যবাদ জানাতে চাই। এছাড়া মরহুমের পরিবারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই কারণ তারা সরকারের বিধি মেনে উপস্থিতি কমাতে সহযোগিতা করেছে। তারা চায়নি এখানে শোক প্রকাশ করতে এসে অন্য কোনো পরিবার শোকগ্রস্ত হোক’।

ওয়ালসাল কাউন্সিলের সাবেক কাউন্সিলর আরিফ বলেন, ‘বাশারাত ছিলেন একজন প্রকৃত ভদ্রলোক, খুব শান্ত মানুষ এবং বার্চিলস মসজিদে মণ্ডলীর নিয়মিত সদস্য ছিলেন। ১৯৭৫ সালের শেষদিকে বাশারত আমার ক্রিকেট দলের ওপেনিং বোলার ছিলেন। বেশ কয়েক বছর আগে তাঁর বাইপাস অপারেশন হয়েছিল।’

প্রসঙ্গত, কোনোমতেই রাশ টানা যাচ্ছে না মৃত্যুর মিছিলে। করোনায় বিশ্বজুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। আর তার ফলে মৃত্যুর সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুনিয়াজুড়ে। মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৩৩,২২০ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪ হাজার ৭৪ জনে। তবে আশার খবর, সুস্থও হয়ে উঠেছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ।

পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএস

করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close