• শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

করোনা নিয়ে চিকিৎসকের মর্মস্পর্শী চিঠি

প্রকাশ:  ২৯ মার্চ ২০২০, ১২:০৪ | আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২০, ১২:৪৩
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

ভয়াবহ করোনাভাইরাসে প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড। সেই রেকর্ড ছাপিয়ে যাচ্ছে আগের দিনের রেকর্ডকে। করোনার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সারা বিশ্ব হাহাকার- কবে মুক্তি মিলবে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস থেকে? প্রাণঘাতী করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্র। আক্রান্তদেরকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) যারা আছেন, তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের কোনো সুযোগ নেই। অনেকে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ফোনে কান্নাকাটি করছেন। কেউ আবার মৃত্যুর সময় কাউকেই পাশে পাচ্ছেন না।

আইসিইউতে থাকা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এসব রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার হৃদয়বিদারক বর্ণনা দিয়েছেন নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ল্যাংগন মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড বেলভ্যুরের একজন চিকিৎসক।

ড. কামিনী দ্যুবে নামের ওই চিকিৎসক বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা খুব কঠিন সময় পার করছেন। তারা বেঁচে থাকার লড়াই করছেন প্রতি মুুহূর্তে। কিন্তু প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে পরিবারের কারও সঙ্গে তাদেরকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘প্রায়ই এমন দেখতে পাচ্ছি যে, একজন করোনা আক্রান্ত রোগী মৃত্যুশয্যায়, তিনি মারা যাচ্ছেন কিন্তু তার পাশে কেউ নেই। যাদেরকে আইসিইউতে রাখা হচ্ছে, তাদের স্বজনদের ভোগান্তি দেখে খুবই কষ্ট হচ্ছে। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীরা তাদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ফোনে কান্নাকাটি করছেন। তাদের চোখের পানি দেখা খুবই বেদনাদায়ক। আবার এমন অনেকেই আছেন যারা মৃত্যুর সময় পরিবারের কাউকেই পাশে পাচ্ছেন না। এটা খুবই মর্মান্তিক।’

‘চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা যারা সর্বাত্মকভাবে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন, তারা দেখছেন, মরণাপন্ন রোগীরা কীভাবে হাসপাতালে আসছেন। আমার অভিজ্ঞতায় এর আগে এমন অবস্থা কখনো দেখিনি’ যোগ করেন এই চিকিৎসক।

ড. দ্যুবে বলেন, ‘আমি আমার জীবনে কখনো এমন শারীরিক ও মানসিকভাবে ভারাক্রান্ত হয়ে পড়িনি। এত গভীর দুঃখ ও অশান্তিও অনুভব করিনি কখনো।’

তিনি আরও বলেন, ‘যখন প্রাথমিকভাবে কারও শরীরে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তখন তিনি তিনি ধীরে ধীরে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এটি নিউমোনিয়া এবং কারও কারও জন্য অন্যান্য গুরুতর অসুস্থতাসহ মৃত্যু ডেকে আনছে। বয়স্কদের জন্য করোনাভাইরাস আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।’

নিউইয়র্কের হাসপাতালগুলোতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চাপ থাকায় এ প্রভাব ড. দ্যুবের মতো চিকিৎসকদের ওপর পড়ছে। ড. দ্যুবের মতো অন্যান্য চিকিৎসকরাও তাদের নিজেদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চিন্তিত। দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাদের নিজের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম হাসপাতালের কর্মীদের দেওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন।

এ ব্যাপারে ড. কামিনী দ্যুবে বলেন, ‘শহীদ হওয়ার জন্য আমরা চিকিৎসা পেশায় আসিনি। আমরা একটি গুরুতর সংকটে আছি এবং সুরক্ষা পাওয়া আমাদের প্রাপ্য। আমরা যুদ্ধের ময়দানে নেই। আমরা যুদ্ধের অঞ্চলে নেই।’

সাধারণ মানুষ বিশেষজ্ঞদের কথা শুনলে এবং হোম কোয়ারেন্টিন থেকে করোনার বিস্তার কমিয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই চিকিৎসক।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেকই নিউইয়র্কে। এই অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের শরীরে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস ধরা পড়েছে। দেশটিতে এ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ২৭৭ জন। মৃ্ত্যু হয়েছে ১ হাজার ৭০৪ জনের।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

করোনাভাইরাস,ড. কামিনী দ্যুব,চিকিৎসক,নিউইয়র্ক
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close