• মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
  • ||

অচল পৃথিবীতে বন্দি সচল মানুষ

প্রকাশ:  ২৭ মার্চ ২০২০, ০৩:৫৬
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

আনুবীক্ষনিক এক জীবানু সমগ্র বিশ্বে আজ ত্রাস তৈরি করেছে। ভাইরাসটি অদম্য. কারণ এর প্রতিষেধক ভ্যাকসিন এখনো অনাবিষ্কৃত।এর চিকিৎসা জানা নেই মানুষের । প্রাণঘাতি এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে সামাজিকতা আর পেশাগত কাজ ভুলে মানুষ স্বেচ্ছায় কিংবা সরকারের সিদ্ধান্তে ঘরবন্দি হচ্ছেন। পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুিই এখন কোনো না কোনো স্বাস্থ্যবিধির আওতায় ঘরে বন্দি হয়ে আছেন। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছে।

প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েচীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহর থেকে। সার্স-কভ-২ নামে এই ভাইরাসটির ছোবল সম্পর্কে চীনের কর্তাব্যক্তিরা সচেতন হন গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে। কিন্তু দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটি ১৭ নভেম্বরই করোনা আক্রান্ত প্রথম রোগীর সন্ধান পেয়েছিল। সেই কোভিড-১৯ রোগ এর পর ছড়িয়ে পড়েছে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, আর আমেরিকায়- পুরো বিশ্বেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) করোনা ভাইরাসকে বৈশ্বিক মহামারী (প্যানডেমিক) হিসেবে ঘোষণা করে ১১ মার্চ। করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত তথ্য হালনাগাদকারী ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার্সের তথ্যানুযায়ী, গত রাত ৭টা পর্যন্ত সারাবিশ্বে মৃত্যুর সংখ্যা ২২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ লাখ ১০ হাজারের বেশি। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন এক লাখ ২২ হাজার ২৩২ জন।

এক মিটারকে ১০০ কোটি টুকরায় ভাগ করলে ১২০ ভাগের সমান হবে একেকটি করোনা ভাইরাস। তবে এখন পর্যন্ত গবেষকরা এ করোনার কোনো প্রতিষেধক তৈরি করতে পারেননি, যদিও জোর চেষ্টা চলছে পৃথিবীজুড়েই। বড় বড় গবেষণাগারে বিজ্ঞানীরা ভাইরাসটির ‘স্বভাব-চরিত্র’ বোঝার এবং সে মোতাবেক তার দুর্বল দিক খুঁজে বরে করে পরাস্ত করার উপায় অনুসন্ধান করছেন।

এখন পর্যন্ত জানা গেছে, এই ভাইরাসের বাহক মানুষ। ফলে জাতপাত, রাষ্ট্র-প্রদেশ, ধনী-গরিব কিংবা সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু- কোনো কিছুই ভাইরাসটির জন্য মুখ্য নয়। ফেব্রুয়ারিতে আমরা দেখেছি উৎপত্তিস্থল উহানে সদ্যোজাত শিশু সংক্রমিত হয়েছিল। মার্চে আমরা দেখলাম, ৭০ বছর বয়সী ব্রিটিশ প্রিন্স চার্লসের শরীরে পৌঁছে গেছে করোনা। এই ভাইরাসের কাছে মুখ্য, আক্রান্ত এক মানুষের থেকে সুস্থ আরেক মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়া। মানুষের ‘পূর্ব-অজ্ঞতা’, অভিজ্ঞতার অভাব এবং অসচেতনার সুযোগে সে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের প্রায় সবখানে, ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যমতে ১৯৮ দেশ ও অঞ্চলে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বুধবার বলেছেন, একটি ‘সমন্বিত বৈশ্বিক প্রচেষ্টা’ই শুধু পারে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের প্রকোপ থামাতে। বিশ্বের দরিদ্র মানুষদের জন্য ২০০ কোটি ডলারের একটি সহায়তা তহবিল খুলতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এদিনই স্কাই নিউজ এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছে, ৪১ দেশের প্রায় ৩০০ কোটি মানুষ করোনা মোকাবিলায় জারি করা বিধিনিষেধের আওতায় পড়েছেন। এসব জরুরি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে বাড়ি থেকে অফিস করা, যানবাহন নিষিদ্ধ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা (সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং), অন্তরীণ (কোয়ারেন্টিন) ও পৃথকীকরণ (আইসোলেশন)। এমনকি কেউ কেউ সতর্কতামূলক স্বেচ্ছাবিচ্ছিন্ন (সেলফ আইসোলেশন) হচ্ছেন; যেমন ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ লন্ডনের বাকিংহাম রাজপ্রাসাদ ছেড়ে গিয়ে উঠেছেন বার্কশায়ারের উইন্ডসর রাজবাড়িতে।

স্কাই নিউজ জানিয়েছে, যেসব দেশে পুরোপুরি বন্ধ (লকডাউন) করা হয়েছে, সেসব দেশের ১৫০ কোটি মানুষ বাড়ি থেকেই বেরোতে পারছেন না। এর মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ ভারতের।

পূর্বপশ্চিম- ৈএনই

করোনা ভাইরাস,ঘরবন্দি
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close