• সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০, ১৬ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

করোনা যতই ভয়ংকর হোক ঠেকানো সম্ভব, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশ:  ২৫ মার্চ ২০২০, ১১:৩১
আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চীনের উহার থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া মহামারি করোনাভাইরাস এরইমধ্যে তার ভয়ংকর রূপ দেখিয়েছে। কেড়ে নিয়েছে প্রায় ১৯ হাজার প্রাণ। তবে এই ভাইরাস যতই ভয়ংকর হোক, একে ঠেকানো যায়। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও তাইওয়ান এ কথা বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছে। কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে এ সংক্রমণকে দমাতে পেরেছে তারা। তবে পুরোপুরি একে ঠেকিয়ে রাখতে পারে কি না, তা দেখার বিষয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো অন্যান্য দেশে এই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে হলে দেশের নেতাদের কাছ থেকে অসাধারণ স্তরের সমন্বয় ও অর্থের প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের কাছ থেকে বিশ্বাস ও অসাধারণ সহযোগিতার প্রয়োজন পড়বে। এর বাইরে প্রয়োজন বিশ্বজুড়ে পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা।

নিউইয়র্ক টাইমস করোনা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস ঠেকানোর একটি সুযোগ হাতে আছে। এ ভাইরাসের একটি দুর্বল দিকও আছে।

জরুরি পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সভাপতি ড. ডেভিড এল হিম্যান। তিনি বলছেন, আমরা ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজটির মতো যদিও ভাইরাসটি ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা দেখেছি, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি পরিবারের সদস্য, বন্ধু এবং সহকর্মীদের মাধ্যমে গুচ্ছাকারে সংক্রামিত হয়। ভাইরাসটি এভাবে কেন ঘুরে বেড়ায়, তা কেউ নিশ্চিত নন। তবে বিশেষজ্ঞরা হাল ছেড়ে দিচ্ছেন না।

ড. হিম্যান বলেন, আপনাকে পৃথক প্রাদুর্ভাবগুলো শনাক্ত করতে এবং থামাতে হবে। তারপরে কঠোরভাবে কে কার সংস্পর্শে এসেছে, সেগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। তবে এগুলো করতে গেলে স্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তাদের বুদ্ধিমান, দ্রুত প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে হবে এবং জনগণের কাছ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা লাগবে।

করোনা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে একাধিক মার্কিন বিশেষজ্ঞ তাঁদের মতামত দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, জনগণকে অবশ্যই বাড়িতে থাকতে হবে। এর পাশাপাশি এমন সিস্টেম দাঁড় করাতে হবে, যাতে সংক্রমণের শিকার হওয়া ব্যক্তিকে আলাদা রাখা যায় এবং বাড়ির বাইরে থেকে যত্ন নেওয়া যায়। ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়াতে হবে। মাস্ক ও ভেন্টিলেটর উৎপাদন আরও বাড়াতে হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষার সব বাধা দ্রুত দূর করতে হবে। তবে বাধ্যতামূলক বিচ্ছিন্নতা, স্কুল বন্ধ এবং রোগীদের ব্যাপক জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের কৌশলগুলোর ক্ষেত্রে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ শুনে এগোতে পারলে করোনাযুদ্ধে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এমন কিছু পরামর্শ তুলে এনেছে নিউইয়র্ক টাইমস। জেনে নিন পরামর্শগুলো:

বিজ্ঞানী ও গবেষকেদের কথা অবশ্যই শুনতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে অনেক বিশেষজ্ঞ সরকারের রোষানলে পড়ার ভয়ে মতামত দিতে চাইছেন না। তবে সবার বক্তব্যে একটি বিষয় বেরিয়ে এসেছে আর তা হলো, এ পরিস্থিতিতে রাজনীতিবিদদের সরে দাঁড়াতে হবে এবং বিজ্ঞানী ও গবেষকেদের কথা অবশ্যই শুনতে হবে। যুদ্ধের সময় যেমন জেনারেলরা প্রতিদিন ব্রিফিং করেন, তেমনি এখন এ মহামারি–বিষয়ক জটিল ধারণা ব্যাখ্যা, ওষুধ বা সামাজিক যোগাযোগ রক্ষার পরামর্শে বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ টিম জিমের বলেন, এ জরুরি মুহূর্তে আমাদের কী করা উচিত ছিল বা কার দোষে, সেগুলো নিয়ে কথা বলা অনর্থক। আমাদের এখন শত্রুর ওপর মনোযোগ দিতে হবে। এ শত্রু এখন করোনাভাইরাস।

শহরগুলোর মধ্যে স্থানান্তর বন্ধ করে দিন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের কথা শোনার পাশাপাশি গুরুত্ব দিতে হবে চরম সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টি করার বিষয়টিতে। যদি কোনো জাদুদণ্ডের সাহায্যে ১৪ দিন পর্যন্ত মানুষকে এক জায়গায় আটকে রাখা যায় এবং ছয় ফুট দূরত্ব তৈরি করা সম্ভব হয়, তবে এই মহামারি অনেকাংশে আটকে দেওয়া যাবে। এতে ভাইরাস সংক্রমণ প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুই সপ্তাহের মধ্যে করোনাভাইরাস সংক্রমণের উপসর্গ দেখা যায়। যদি যথেষ্ট পরীক্ষা করা যায়, তবে সংক্রামিত সবাইকে আলাদা করে ফেলা যাবে। এতে সমস্যা কেটে যাবে।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ওই জাদুদণ্ড নেই বলে রাতারাতি ব্যাপক পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় লকডাউন ও সামাজিক দূরত্ব সৃষ্টি করার বিকল্প নেই। এ পদক্ষেপের জন্য ভ্রমণ ও মানুষের মধ্যে সংস্পর্শে আশার বিষয়টি অবশ্যই কমাতে হবে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শহরের মধ্যে বিপজ্জনক কিছু জায়গা থাকে যেমন রেস্তোরাঁ, জিম, হাসপাতাল বা গণপরিবহন। এসব স্থানে কারও কাশি থেকে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। মানুষের মধ্যে সংস্পর্শ কমাতে দেরি হয়ে গেলে এ ধরনের হটস্পট বা বিপজ্জনক জায়গা আরও বাড়তে থাকে। এক সপ্তাহের আগপর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা যায় না। যখন কেবল মানুষ অসুস্থ হতে শুরু করে তখন টের পাওয়া যায়।

এ বিস্ফোরণ অন্যান্য কাজ পুরোপুরি বন্ধ করলেও চিকিৎসা, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, টেকনিশিয়ান বা জরুরি খাতের ব্যক্তিদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। খাবার ও ওষুধ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, লকডাউন লোকেরা মানিয়ে নেয়। চীনের উহানে, অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে খাবার, ওষুধ, ডায়াপার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য সবাই মিলে অনুরোধ করতে শুরু করে। এটি ভয়ংকর। তবে মনে রাখতে হবে, সবকিছু বন্ধ করতে যত দেরি হয় তত ক্ষতি হয়ে যাবে এবং অর্থনীতি এর ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে তত সময় নেবে।

করোনাভাইরাসে টেস্টের ঝামেলা দূর করুন

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সমন্বিত ও নিরাপদ উপায়ে পরীক্ষা করতে হবে। গুরুতর অসুস্থদের অবশ্যই প্রথমে যেতে হবে এবং পরীক্ষকদের অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। চীনে যাঁরা পরীক্ষার জন্য গিয়েছিলেন, তাঁরা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আগে তাঁদের উপসর্গের বিবরণ দেন। যদি চিকিৎসক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত দেন, তবে অন্য রোগীদের থেকে দূরে কোনো ক্লিনিকে তাঁর পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকেরা জ্বর মাপার পর প্রশ্ন করেন। এরপর তাঁদের ফ্লু পরীক্ষা ও ইনফ্লুয়েঞ্জা পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের ফুসফুস সিটি স্ক্যানে পরীক্ষা করে দেখা হয়। এরপর কেবল করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য বলা হয়। এর আগে পরীক্ষার জন্য চার ঘণ্টা সময় লাগত।

আক্রান্তকে দ্রুত শনাক্ত করুন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যত দ্রুত সম্ভব আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে হবে। সংক্রামিত ব্যক্তিদের ঘরে বসে পৃথক্‌করণের বিকল্প অবশ্যই খুঁজতে হবে। কারণ, এটি পরিবারকে বিপন্ন করে তোলে। চীনে ৭৫ থেকে ৮০ ভাগ সংক্রমণের ঘটনা পরিবারের মধ্য থেকেই ঘটেছে। চীনের মতোই সংক্রমণের ধরন অন্য দেশগুলোতেও দেখা যাচ্ছে। সংক্রমিত ব্যক্তিদের ঘরে থাকার নিয়মের বদলে শহরগুলোয় এমন সুবিধা সৃষ্টি করতে হবে, যাতে মৃদু ও হালকা অসুস্থ ব্যক্তিরা নার্স ও চিকিৎসকদের সাহায্যে দ্রুত সেরে উঠতে পারে।

উহান ‘টেম্পরারি হাসপাতাল’ নামে এ রকম অনেকগুলো কেন্দ্র চালু করেছিল। এটি ডরমিটরি ও ক্লিনিকের মাঝামাঝি কিছু। এখানে ছিল খাট ও অক্সিজেনের সুবিধা। তবে এখানে উন্নত মেশিন বা আইসিইউ ছিল না। বিশেষজ্ঞ ব্রুস এইলওয়ার্ড বলেন, চীনে লোকেরা মূলত বাড়ি ছাড়ার বা তাদের বাচ্চাদের দেখার অধিকার ছাড়াই বিচ্ছিন্ন কেন্দ্রগুলোতে যেতে নারাজ থাকে। তবে যখন বুঝতে পারে, এটা তাদের পরিবারকে নিরাপদ করছে, তখন তারা রাজি হয়।

কারও জ্বর আছে কি না দেখতে হবে

চীন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনাম অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছে। ২০০৩ সালে সেখানে সার্স ভাইরাস আক্রমণের পর মহামারিতে জ্বর মাপা নিয়মে পরিণত করেছে তারা। এশিয়ার অনেক দেশেই বাস, ট্রেন, অফিস ভবনে ঢোকার আগে তাপমাত্রা মেপে দেখা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জীবাণুমুক্ত থাকতে নিয়মিত হাত ধোয়া জরুরি। চীনে জ্বর হওয়া মানে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য জ্বর মাপার ক্লিনিকে যাওয়া বাধ্যতামূলক। উহানের বিভিন্ন স্থানে নানা পন্থা নিয়েছিল। পুলিশ কর্মকর্তারা অনেক জায়গায় তাপমাত্রা মাপার জন্য বাড়িতে বাড়িতে গিয়েছিল। অনেক সময় বল প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে।

সংস্পর্শে আসাদের খুঁজে বের করা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে সব সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা প্রত্যেক ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা জরুরি। মহামারি সময় উহানে ১৮ হাজার ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা হয়েছিল। অনেক সময় এ ধরনের ব্যক্তিকে খোঁজার জন্য কর্মীর ঘাটতি থাকে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের সাহায্য নেওয়া যায়। যাঁরা সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসবেন, তাঁদের ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে এবং দিনে দুবার তাপমাত্রা মাপতে হবে।

সবার জন্য মাস্কের ব্যবস্থা করা

মাস্কের ব্যবহার নিয়ে মার্কিন বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও বিভক্ত মতামত পাওয়া যায়। তবে এশিয়া অঞ্চলে বসবাসকারী ব্যক্তিরা মাস্ক ব্যবহারের মূল্য বোঝেন। সার্জিক্যাল মাস্কে করোনাভাইরাসে প্রতিরোধ নিয়ে খুব কম তথ্য পাওয়া যায়। তবে এশিয়ার দেশগুলোয় মানুষকে মাস্ক পরতে বলা হয়। চীনের কয়েকটি শহরে মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়। এমনকি মাস্ক ব্যবহার করার জন্য পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়। বিশেষজ্ঞদের মত হচ্ছে, অসুস্থদের অবশ্যই রোগ ছড়ানো ঠেকাতে মাস্ক পরতে হবে।

দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ সেবা চালু রাখা বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ ড. ডেভিড নাবারো বলেন, অনেক পশ্চিমা রাজনৈতিক নেতা এমন আচরণ করছেন যেন তাঁরা মারাত্মক বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছেন। কিন্তু আর কোনো পথ খোলা নেই। যার যতটা শক্তি আছে, তা নিয়ে লড়াইয়ে নামতে হবে।

ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন উৎপাদন শুরু করুন

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য প্রচুর ভেন্টিলেটর প্রয়োজন হবে। চাহিদা অনুযায়ী হাসপাতালগুলোয় ভেন্টিলেটরের স্বল্পতা আছে। রোগী বেড়ে গেলে তাদের বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও ভেন্টিলেটর যাতে ঘাটতি না হয়, সে জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

সাময়িক হাসপাতাল তৈরি

করোনাভাইরাসের রোগী বাড়লে হাসপাতালগুলো চাপ সামলাতে হিমশিম খাবে। রোগীর জন্য প্রয়োজন হবে আইসোলেশন রুম। রোগীর কথা বিবেচনা করে হাসপাতালে দর্শনার্থী ভিড় দ্রুত বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন গ্যালভেস্টন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষক ড. জেমস লেডুক। উহানে চীন সরকার মাত্র দুই সপ্তাহে দুটি হাসপাতাল তৈরি করেছিল। এ ছাড়া অন্য হাসপাতালগুলোকেও ভাগ করে ফেলা হয়েছিল। কিছু হাসপাতাল করোনাভাইরাস আক্রান্ত মারাত্মক রোগীদের জন্য ঠিক করা হয়েছিল। অনেক হাসপাতালে আইসোলেশন জোন তৈরিতে কাজ করা হয়েছিল।

স্বেচ্ছাসেবক নির্বাচন

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের প্রচেষ্টা সফল হয়েছে, কারণ তাদের হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক ছিল। সরকার একে ‘গণযুদ্ধ’ হিসেবে ঘোষণা দেয় এবং ‘ফাইট অন, উহান, ফাইট অন, চায়না’ কর্মসূচি চালু করে। এ ছাড়া প্রেরণামূলক ছবি, বিজ্ঞাপন তৈরি করে যুদ্ধকালীন প্রচারের মতো প্রচার চালাতে শুরু করে। অনেক মানুষ জ্বর মাপা, সংক্রমিত ব্যক্তির খোঁজ করা, হাসপাতালের নির্মাণকাজ, খাবার সরবরাহের মতো নানা কাজে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই সাধারণ সেবার মতো কাজগুলো চালাতে পারেন। বিশেষজ্ঞ জিমের বলেন, আমার অভিজ্ঞতায়, জনসাধারণকে কতটা অবহিত করা হয়েছে এবং তাদের অংশগ্রহণের ওপর সাফল্য নির্ভরশীল।

চিকিৎসায় গুরুত্ব দিন

চীন, ইতালি ও ফ্রান্সের চিকিৎসকেরা হাসপাতালের ফার্মাসিতে যা কিছু ছিল, তাদের সবকিছু নিয়েই কার্যত লড়াইয়ে নেমেছেন। কমপক্ষে দুটি সম্ভাবনা উদ্ভূত হয়েছে, যা রোগীদের বাঁচাতে পারে। এর একটি অ্যান্টি-ম্যালেরিয়া ড্রাগ ক্লোরোকুইন এবং হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন এবং অ্যান্টিভাইরাল রেমডিসিভার। তবে এগুলো ব্যবহারের কোনো অনুমতি নেই। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এগুলো কার্যকর কি না, এর কোনো প্রমাণ নেই। চীনে ২০০ ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা হয়েছে। ইতালি ও ফ্রান্সে পরীক্ষা চলছে। নিউইয়র্কের হাসপাতালেও পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতিপর্ব চলছে।

ভ্যাকসিন খুঁজতে হবে

গবেষক অ্যান্থনি ফাউসি বলেন, সবাইকে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজন হবে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের। অনেক কোম্পানি ও সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ভ্যাকসিন তৈরিতে কাজ করা হচ্ছে। তবে এসব ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য সময় লাগবে।

অন্য দেশের কাছে যেতে হবে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধনী দেশগুলোকে মনে রাখতে হবে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুধু তাদের একার নয়। গরিব দেশের জন্য অনেক কঠিন সময় আসবে এবং সাহায্য প্রয়োজন হবে। এশিয়ার যেসব দেশে আগে করোনা সংক্রমিত হয়েছিল তাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা নিতে হবে। আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা যেমন যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশে মাস্ক ও করোনাভাইরাসসংক্রান্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম অনুদান দিচ্ছেন।

উন্নত দেশগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দৈনিক সতর্কবার্তা অবহেলা করেছিল। বিশেষজ্ঞ ড. নাবারো বলেন, দরিদ্র ও মধ্য আয়ের দেশগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেশ মানলেও উন্নত দেশগুলো মানে না। এটা পরিবর্তন করতে হবে।


পূর্বপশ্চিমবিডি/এসএম

করোনাভাইরাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close