• বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭
  • ||

ত্রিমুখী সমস্যায় টালমাটাল ভারত  

প্রকাশ:  ০৭ মার্চ ২০২০, ০১:৪৭
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

বর্তমানে এই ত্রিমুখী সমস্যায় জর্জরিত নরেন্দ্র মোদির ভারত। বিপদের এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।

শুক্রবার ভারতের দ্য হিন্দু সংবাদপত্রে লেখা এক কলামে এ বিপদের কথা জানান তিনি। ওই নিবন্ধে মোদিকে দেশ সামলানোর জন্য পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

এমনিতে মৃদুভাষী মনমোহন একটি প্রবন্ধে যে ভাষায় নরেন্দ্র মোদি সরকারকে আক্রমণ করেছেন, তা অভুতপূর্ব। তিনি প্রথমেই বলেছেন, খুবই দুঃখের সঙ্গে আমি লিখতে বসেছি। ভারত খুব শীঘ্রই তিনটি বিপদে পড়তে চলেছে। প্রথমটি হল সামাজিক অশান্তি, দ্বিতীয়টি অর্থনৈতিক মন্দা এবং তৃতীয়টি কোভিড-১৯ রোগ। পুরো প্রবন্ধে তিনি এই তিনটি বিপদ নিয়ে বিস্তারিতভাবে লিখেছেন। শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পরামর্শ দিয়েছেন, কীভাবে এই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া যেতে পারে।

মনমোহনের মতে, তিনটি বিপদ একত্রে ভারতের আত্মার ক্ষতি করতে পারে। বিশ্বে অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক শক্তি হিসাবে ভারত আর আগের মতো সম্মানের পাত্র নাও থাকতে পারে।

দিল্লি সহিংসতার কথা উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, আমরা বিনা কারণে আমাদের ৫০ জনসহ নাগরিককে হারিয়েছি। কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছেন। সমাজের যে অংশটি কোনও বিধিনিষেধ মানতে চায় না, তারা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তাদের মধ্যে রাজনীতিকরাও আছে। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর, অন্যান্য সামাজিক ক্ষেত্র এবং ব্যক্তিগত আবাসও সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পুলিশের সমালোচনা করে তিনি লিখেছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা যাদের কাজ, তারা নিজেদের কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

একইসঙ্গে মনমোহন লিখেছেন, বিচারবিভাগ ও গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলে পরিচিত মিডিয়াও নিজেদের কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সম্পর্কে তিনি আরও লিখেছেন, কোনও বাধা ছাড়াই দেশ জুড়ে আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক উত্তেজনা। যারা এই আগুন লাগিয়েছে, তারাই তা নেভাতে পারে। দিল্লির সাম্প্রতিক সহিংসতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে অনেকে ‘৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার কথা উল্লেখ করেছেন।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, অতীতের সহিংসতার কথা টেনে এনে বর্তমানের সহিংসতাকে ন্যায্য বলে দাবি করা উচিত নয়। প্রতিটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতাই মহাত্মা গান্ধীর ভারতের পক্ষে কলঙ্কস্বরূপ।

এই প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, কয়েক বছর আগেও ভারতকে উদারনৈতিক গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মডেল হিসাবে দেখা হত। আর এখন ভারতকে দেখা হয় একটি অশান্ত দেশ হিসাবে, যেখানে সংখ্যাগুরু তার মতামত অন্যের ওপরে চাপিয়ে দেয়।

অর্থনীতির প্রাক্তন অধ্যাপক মনমোহন সামাজিক অশান্তি ও আর্থিক মন্দার আন্তঃসম্পর্ক ব্যাখ্যা করেছেন তাঁর প্রবন্ধে। তিনি লিখেছেন, যখন অর্থনীতির অবস্থা এমনিতেই খারাপ, তখন সামাজিক অসন্তোষ আর্থিক মন্দাকে আরও গভীর করে তুলবে। ভারতের অর্থনীতির মূল সমস্যা হিসাবে তিনি বলেছেন, এখন বেসরকারি সংস্থাগুলি বিনিয়োগ করছে কম। বিনিয়োগকারী, শিল্পপতি ও উদ্যোগপতিরা ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জন্যই তাঁরা নতুন প্রকল্পে হাত দিতে সাহস পান না।

এরপরে তিনি লিখেছেন, সরকার যতই করছাড় দিক, কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে ইনসেনটিভ দিক, দেশি ও বিদেশি সংস্থাগুলিকে বিনিয়োগের জন্য অনুরোধ করুক, তাতে লাভ হবে না। যদি যত্রতত্র সহিংসতাকে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, কেউ বিনিয়োগ করতে যাবে না।

এর পরিণাম হিসাবে তিনি লিখেছেন, বিনিয়োগ কমলে চাকরির সুযোগ কমবে। তার ফলে নানা পণ্যের চাহিদা কমবে। তাতে আরও কমবে বিনিয়োগ।


পূর্বপশ্চিমবিডি/ওআর

মোদি,মনমহন সিং,ভারত,বিজেপি,কংগ্রেস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close