• সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

দিল্লি পুলিশকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

প্রকাশ:  ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৬:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দিল্লিতে সহিংস ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। শাহিনবাগ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে দিল্লি পুলিশকে রীতিমতো ভর্ৎসনা করেছে আদালত। বিচারপতি কে এম জোসেফের পর্যবেক্ষণ, “পুলিশ যদি নিজেদের কাজ সঠিকভাবে করত, তাহলে দিল্লিতে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হত না।”

বিচারপতি জোসেফের পর্যবেক্ষণ, দিল্লি পুলিশ হিংসা নিয়ন্ত্রণে উপযুক্ত পদক্ষেপ করেনি। তাছাডা়, উসকানিমূলক মন্তব্যের প্রেক্ষিতেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। পুলিশ যদি সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ করত, তাহলে দিল্লির হিংসা দমন করা যেত।

এ প্রসঙ্গে বিচারপতি কে এম জোসেফ আমেরিকা বা ব্রিটেনের উদাহরণ তুলে বলেন, “এই দেশগুলিতে পুলিশ সময়মতো আইনানুগ পদক্ষেপ করে। আমাদের গোটা দেশেই এক সমস্যা। রাজ্য সরকারগুলি পুলিশের পেশাদারিত্ব সংক্রান্ত গাইডলাইন কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়।” যদিও, আদালতের এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা ।

তাঁর যুক্তি, এই মুহূর্তে আদালত যদি পুলিশ নিয়ে কোনও পর্যবেক্ষণ করে, তাহলে তা পুলিশের মনোবলের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাছাড়া পুলিশ যখনই কোনও পদক্ষেপ করতে চায়, আদালতই তখন বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এর পাল্টা বিচারপতি বলেন, “আদালত অনেক সময় বাস্তব পরিস্থিতি না জেনেই রায় দিতে বাধ্য হয়। একজন ডিজিপি পদমর্যাদার আধিকারিককে গণপিটুনিতে মেরে দেওয়া হল, যদি সবাই সময়মতো নিজের কাজ করত, তাহলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না।’

দিল্লি হাইকোর্টেও একইভাবে তিরষ্কৃত হয়েছে দিল্লি পুলিশ। হাই কোর্ট সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতাকে নির্দেশ দিয়েছে, দিল্লি পুলিশ কমিশনারকে পরামর্শ দিন যাতে আজকের মধ্যেই বিতর্ক মন্তব্য করা বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়।

রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান হিংসার মধ্যেই আজ শাহিনবাগ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি ছিল। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সব পক্ষকেই নরম হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এবং আপাতত শুনানি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২৩ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, এই মামলার শুনানির জন্য পরিস্থিতি অনুকুল নয়।

উল্লেখ্য, দিল্লির হিংসায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। পুলিশের ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তুলে রাজধানীতে সেনা নামানোর দাবি তুলেছেন তিনি। উল্টোদিকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল আবার পুলিশের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলছেন, “অনেকেই দেখছি দিল্লি পুলিশের যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। দিল্লির পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। তাই সেনা নামানোর কোনও প্রয়োজন নেই।”


পূর্বপশ্চিমবিডি /ওআর

মোদি,দিল্লি,ভারত,সহিংসতা
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close