• মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬
  • ||

স্বামীর পিটুনিতে স্ত্রীর প্রেমিকের বাবার মৃত্যু!

প্রকাশ:  ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৪:৩৭
পূর্বপশ্চিম ডেস্ক

পরকীয়ার জেরে খুন হতে হলো প্রেমিকের বাবাকে। পুলিশ জানায়, মৃতের নাম রবীন্দ্রনাথ রুইদাস । এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় যায় পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের হুগলি রাজ্যের বালি গ্রাম পঞ্চায়েতের শিবকুঠির বাসিন্দা প্রতাপ মল্লিকের স্ত্রী প্রিয়ার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ছেলে তাপসের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের অশান্তি চলছিল বছর খানেক ধরে। বুধবার সকালে তাপস ও প্রিয়া এলাকা থেকে উধাও হয়ে যান।

এলাকাবাসীর ধারণা, অন্য কোথাও চলে গিয়েছেন দু’জনে। স্ত্রীর খোঁজ না পেয়ে প্রতাপ হামলা চালায় তাপসের বাবা রবীন্দ্রনাথের বাড়িতে। বাড়ির অদূরে রবীন্দ্রনাথকে দেখে প্রতাপের রাগ গিয়ে পড়ে তাঁর উপর। অভিযোগ, চেলাকাঠ দিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয় রবীন্দ্রনাথকে। দিনভর খোঁজ সত্ত্বেও তাপস-প্রিয়ার সন্ধান মেলেনি। খোঁজ নেই প্রতাপেরও।

দুপুরে দেখা গেল, প্রচুর মানুষের ভিড় রবীন্দ্রনাথের বাড়িতে। নির্বিরোধী প্রৌঢ়কে পিটিয়ে খুনের ঘটনা মেনে নিতে পারছেন না কেউ-ই। স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রিয়া এলাকার একটি দোকানে জরি বসানোর কাজ শিখতেন। সেখানে কাজ করতেন তাপস। তাঁদের দু’জনের সম্পর্ক প্রায় দেড় বছরের। এ নিয়ে প্রতাপ আগেও শাসিয়েছিল তাপসকে। এ দিন এলাকায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলছিল। গ্রামের অনেকেই ছিলেন অনুষ্ঠানে।

রবীন্দ্রনাথও দুপুর আড়াইটে নাগাদ সেখানে মধ্যাহ্নভোজে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। তাঁকে একা পেয়ে প্রতাপ পিটিয়ে খুন করে বলে অভিযোগ। স্থানীয় এক সিভিক ভলান্টিয়ার রাস্তায় রবীন্দ্রনাথকে পড়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসীদের ডেকে এনে প্রৌঢ়কে উদ্ধার করে আরামবাগ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

ব্যভিচারিনী কে কিছু না বলে প্রেমিকের বাবাকে কেন ?

রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী শুভ্রা এ দিন বলেন, আমার স্বামী কী দোষ করেছিল? এখানে জরির দোকানে অনেকেই কাজ করত। কিন্তু আমার ছেলের সঙ্গে প্রতাপের স্ত্রীর কী সম্পর্ক ছিল, তা জানি না। কয়েক মাস ধরে প্রতাপ মাঝে মধ্যে এসেই ঝামেলা করত। ওর বউ কিন্তু কিছুই কাউকে বলেনি। আমাদের সঙ্গে স্বাভাবিক ভাবেই কথাবার্তা বলত। প্রতাপ স্বামীকে রাস্তায় একা পেয়ে নৃশংস ভাবে মেরে ফেলল। ওর শাস্তি চাই। স্থানীয় বাসিন্দা রাজীব ঘোষ বলেন, এ দিন ধর্মীয় অনুষ্ঠানস্থলে আমরা সবাই ব্যস্ত ছিলাম। আর সেই সুযোগেই প্রতাপ হামলা চালিয়েছে। কারও ছেলে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়লে বাবার কী দোষ?

গোঘাটের তৃণমূল বিধায়ক মানস মজুমদার বলেন, রবীন্দ্রনাথ আমাদের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। প্রতাপ বিজেপি আশ্রিত সমাজবিরোধী। আগে অনেক বার অশান্তি পাকিয়েছে। পুলিশকে বলেছি, অভিযুক্তকে খুঁজে গ্রেপ্তার করতে হবে। প্রতাপকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিকেলে গোঘাট থানার সামনে আরামবাগ-মেদিনীপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। নেতৃত্বে ছিলেন মানস। বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিমান ঘোষ বলেন, এটি সম্পূর্ণ দু’টি পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এর সঙ্গে বিজেপি বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দল জড়িত নয়। আমরা চাই, আইন নিজের পথে চলুক। কেউ দোষী হলে তার উপযুক্ত শাস্তি হোক।

পূর্বপশ্চিমবিডি/জিএম

পরকীয়া,খুন,প্রেমিকের বাবা,রবীন্দ্রনাথ রুইদাস
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
close